Ankush-Mimi:বে’টিং অ্যাপ সংক্রান্ত মামলায় ফের চাঞ্চল্যকর মোড়। এবার সরাসরি তারকাদের সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করার পথে হাঁটল এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (Enforcement Directorate) অর্থাৎ ED। এই মামলায় টলিউড থেকে বলিউড এবং ক্রিকেট জগতের বহু পরিচিত মুখ আগেই তদন্তের আওতায় এসেছিলেন। সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, অঙ্কুশ হাজরা ও মিমি চক্রবর্তীসহ একাধিক তারকার কাছ থেকে মোটা অঙ্কের সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করেছে ইডি(ED)।
বেটিং অ্যাপ (Betting App) মামলার তদন্তে নেমে ইডি ইতিমধ্যেই দেশজুড়ে একাধিক তল্লাশি ও জিজ্ঞাসাবাদ চালিয়েছে। কয়েক মাস আগেই সোনু সুদ, যুবরাজ সিংয়ের মতো বড় নামদের দিল্লিতে ডেকে পাঠানো হয়েছিল জিজ্ঞাসাবাদের জন্য। এবার সেই তদন্তের ফলস্বরূপ একের পর এক তারকার সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করার সিদ্ধান্ত নিল কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা। এই পদক্ষেপে স্বাভাবিকভাবেই বিনোদন মহলে তীব্র আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে।
জানা গিয়েছে, বেটিং অ্যাপ মামলায় এখনও পর্যন্ত মোট ৭.৯৩ কোটি টাকার সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। এই তালিকায় রয়েছেন প্রাক্তন ভারতীয় ক্রিকেটার যুবরাজ সিং (Yuvraj Singh), অভিনেত্রী ঊর্বশী রাউতেলা (Urvashi Rautela), রবিন উথাপ্পা (Robin Uthappa), নেহা শর্মা(Neha Sharma), সোনু সুদ (Sonu Sood) সহ একাধিক পরিচিত মুখ। যুবরাজ সিংয়ের কাছ থেকে বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে প্রায় ২.৫ কোটি টাকা। অন্যদিকে, রবিন উথাপ্পার সম্পত্তির মধ্যে থেকে ৮.২৬ লক্ষ টাকা বাজেয়াপ্ত করেছে ইডি।বলিউড অভিনেত্রী ঊর্বশী রাউতেলার কাছ থেকে নেওয়া হয়েছে প্রায় ২.০২ কোটি টাকার সম্পত্তি। অভিনেত্রী নেহা শর্মার ক্ষেত্রে সেই অঙ্ক ১.২৬ কোটি টাকা। ‘গরিবের মসিহা’ নামে পরিচিত সোনু সুদের কাছ থেকেও প্রায় এক কোটি টাকার সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে বলে খবর। এই তালিকায় টলিউডের জনপ্রিয় মুখ মিমি চক্রবর্তী (Mimi Chakraborty)ও অঙ্কুশ হাজরা (Ankush Hazra )-র নাম থাকায় বিষয়টি আরও বেশি আলোচনায় এসেছে।
তদন্তকারী সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, মিমি চক্রবর্তীর কাছ থেকে প্রায় ৫৯ লক্ষ টাকার সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। একই সঙ্গে অঙ্কুশ হাজরার থেকে নেওয়া হয়েছে প্রায় ৪৭.২০ লক্ষ টাকার সম্পত্তি। কয়েক মাস আগেই দিল্লিতে ইডির দফতরে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হাজির হতে হয়েছিল এই দুই তারকাকে। তখনই জল্পনা শুরু হয়েছিল যে তদন্তের পরবর্তী ধাপে আরও কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে।
প্রসঙ্গত, 1xBet নামে একটি বেআইনি অনলাইন বেটিং অ্যাপকে কেন্দ্র করে এই গোটা বিতর্কের সূত্রপাত। অভিযোগ, এই অ্যাপের মাধ্যমে কোটি কোটি টাকার আর্থিক প্রতারণা করা হয়েছে। তদন্তে উঠে আসে, বিভিন্ন সময়ে এই অ্যাপের প্রচার বা বিজ্ঞাপনের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন একাধিক তারকা। সেই সূত্র ধরেই ইডি তদন্ত শুরু করে এবং একে একে সামনে আসে পরিচিত সব নাম।
উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, এই প্রথম নয় যে তারকাদের সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করা হল। এর আগেও শিখর ধাওয়ান (Shikhar Dhawan) এর কাছ থেকে প্রায় ৪.৫ কোটি টাকার সম্পত্তি এবং সুরেশ রায়নার থেকে প্রায় ৬ কোটি ৬৪ লক্ষ টাকার মিউচুয়াল ফান্ড বাজেয়াপ্ত করা হয়েছিল। ফলে বেটিং অ্যাপ কাণ্ডে ইডির তদন্ত যে ধীরে ধীরে আরও গভীর দিকে যাচ্ছে, তা বলাইবাহুল্য।
যদিও এই মামলায় নাম জড়ানো প্রায় সব তারকাই দাবি করেছেন, তাঁরা এই আর্থিক তছরুপ সম্পর্কে কিছুই জানতেন না। তাঁদের বক্তব্য অনুযায়ী, নির্দিষ্ট পারিশ্রমিকের বিনিময়ে একটি চুক্তি অনুযায়ী কাজ করেছিলেন তাঁরা। তবে তদন্তকারী সংস্থার তরফে বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানা গিয়েছে। এখন দেখার, এই মামলার পরবর্তী ধাপে আর কোন কোন নাম সামনে আসে এবং ইডির তদন্ত কোন দিকে মোড় নেয়।