Biplab Chatterjee:টলিউডের অন্দরের রাজনীতি নিয়ে অকপট বর্ষীয়ান অভিনেতা

WhatsApp Group Join Now
Telegram Group Join Now
Instagram Group Join Now

“আগে রোজ ফোন আসত, কাজ ফুরোতেই যোগাযোগ বন্ধ”! টলিউডের অন্দরের রাজনীতি নিয়ে অকপট বর্ষীয়ান অভিনেতা📌

বাংলা ছায়াছবির একসময়ের দাপুটে খলনায়ক বর্ষীয়ান অভিনেতা বিপ্লব চট্টোপাধ্যায়।একসময় তিনি যেমন কাজ করেছেন সত্যজিৎ রায়, সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়ের মতো তাবড় ব্যক্তিত্বদের সঙ্গে। তেমনই পরবর্তীতে পর্দা কাঁপিয়েছেন প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়, তাপস পালদের প্রজন্মের, বহু শিল্পীদের সঙ্গে।

দীর্ঘদিন ধরে তাঁর অভিনয়ে সমৃদ্ধ হয়েছে বাংলা ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রি। এখন তাঁকে অভিনয়ে আর দেখা না গেলেও বাংলা সিনেমা জগতে তাঁর জনপ্রিয়তা এখনও আকাশচুম্বী।

তিনি ব্যক্তিগত জীবনে খুবই স্পষ্টবাদী ও প্রতিবাদী পরায়ণ মানুষ। তাঁর অকপট মন্তব্যের জেরে বিতর্কেও জড়িয়েছেন তিনি বহুবার।একসময় যেখানে অধিকাংশ বাংলা সিনেমা মানেই খল চরিত্রে ডাক পড়ত তাঁর, এখন আর ডাক আসে না কোনও চরিত্রে অভিনয়ের জন্যে, আক্ষেপ ও অভিমান নিয়েই একথা নিজেই জানান তিনি।

সম্প্রতি একটি সাক্ষাৎকারে বর্তমান ইন্ডাস্ট্রির পরিস্থিতি নিয়ে উঠে এল তাঁর কণ্ঠে অনেকখানি ক্ষোভ ও কিছুটা অভিমানের সুর।

তিনি বলেন “পুরোদমে যখন অভিনয় করতেন তখন জন্মদিনে ফোন আসত। সেসব বহুদিন চুকেবুকে গিয়েছে। এখন তাঁর ফোনই কেউ ধরেন না!” নাম না করেই এক পরিচালককে উদ্দেশ্যে করে বলেন “দু’বছর আগে এক পরিচালকের একটি সিরিজে কাজ করেছিলেন। তখন প্রচুর ফোন আসত। কিন্তু কাজ ফুরোতেই বন্ধ যোগাযোগ।”

সত্যজিৎ রায়ের সাথে তাঁর কাজ করার স্মৃতি প্রসঙ্গে ও এখনকার প্রজন্মের পরিচালকদের তুলনা করে তিনি বলেন “সত্যজিৎ রায়ের মতো এত বড় মাপের পরিচালকও শেষ দিন পর্যন্ত নিজের ফোন ধরতেন। নিপাট ভদ্রলোক ছিলেন তিনি। আর এখন সবাই ‘মুরুব্বি’।”

ইন্ডাস্ট্রিতে তাঁর সক্রিয় ভূমিকা বর্তমানে না থাকলেও ইন্ডাস্ট্রির পরিবর্তন নজর এড়ায় না অভিনেতার। তাঁর কথায়, “এখন দলাদলি, রাজনীতি বেড়ে গিয়েছে। কাজের মান নেমে গিয়েছে অনেক! সকলেই ‘অর্থলোভী’।”

তীব্র কটাক্ষের সুরে অভিনেতা বলেন, “অর্থের লালসায় সরকারি কোষাগার শূন্য। যত দল তত বিবাদ। এসব হওয়ারই ছিল।”

যদিও সবশেষে শুধু বর্তমান প্রজন্মকে দোষারোপ না করে তিনি বলেন, “প্রত্যেকের মধ্যেই খারাপ ও ভালো গুণ মিশিয়ে রয়েছে। শুধু দোষগুলি না ধরে ভালো গুণও খুঁজে বের করতে হবে।” বাংলা ছবির বড়পর্দায় এখনও তাঁর অভিনয় করার ইচ্ছে প্রবল। তিনি মনে করেন বাংলা ছবির দর্শককে তাঁর এখনও অনেক কিছু দেওয়ার বাকি রয়েছে।

Leave a Comment