Mithun Chakraborty:”লক্ষ্মীর ভাণ্ডার খা’রা’প নয়! এটা আপনার টা’কা, নিশ্চয়ই নেবেন”, “বিজেপি সরকার এলে প্রথম কাজ আমি করব – ‘আয়ুষ্মান ভারত’কে চালু করানো…”, রাজ্য সরকারের জনহিতকর স্কিম নিয়ে তো’প দা’গ’লে’ন মিঠুন চক্রবর্তী

WhatsApp Group Join Now
Telegram Group Join Now
Instagram Group Join Now

Mithun Chakraborty:বাংলা সিনেমার জনপ্রিয় অভিনেতা ও বিজেপি নেতা মিঠুন চক্রবর্তী (Mithun Chakraborty )ফের সরব হলেন পশ্চিমবঙ্গের রাজ্য সরকারের জ’ন’হি’ত’ক’র স্কি’ম ও প্র’শা’স’নি’ক নী’তি’র বি’রু’দ্ধে। সাম্প্রতিক এক ভিডিও বক্তব্যে তিনি একদিকে কেন্দ্রীয় সরকারের ‘আয়ুষ্মান ভারত’ প্রকল্পের সুবিধা রাজ্যের মানুষ না পাওয়ার বিষয়টি নিয়ে তী’ব্র ক্ষো’ভ প্রকাশ করেন, অন্যদিকে রাজ্যের ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’ প্রকল্প নিয়েও প্রশ্ন তোলেন প্র’শা’স’নে’র ভূমিকা ও নৈ’তি’ক অবস্থান নিয়ে। তাঁর বক্তব্যকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক মহলে নতুন করে বি’র্ত’ক তৈরি হয়েছে।
মিঠুন চক্রবর্তীর সাম্প্রতিক এক বক্তৃতার মধ্য দিয়ে রাজ্যের ক’র্ম’সং’স্থা’ন, দু’র্নী’তি, স্বা’স্থ্য সু’র’ক্ষা ও কল্যাণমূলক প্রকল্প সমূহের বা’স্ত’ব প্র’য়ো’গ নিয়ে একাধিক গু’রু’ত্ব’পূ’র্ণ প্রশ্ন উঠে আসে। তিনি শুধু রা’জ’নৈ’তি’ক স’মা’লো’চ’না করেই থে’মে থাকেননি, বরং সাধারণ মানুষের অ’ধি’কা’র ও সুযোগ-সুবিধা ব’ঞ্চি’ত হওয়ার প্রসঙ্গও সামনে এনেছেন।

প্রথমেই ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’(Lakshmir Bhandar) প্রকল্প নিয়ে কথা বলতে গিয়ে মিঠুন চক্রবর্তী স্পষ্ট ভাষায় জানান যে প্রকল্পটি খা’রা’প নয়, বরং যারা এই প্রকল্পের টা’কা পাচ্ছেন, তারা নিতেই পারেন। তাঁর বক্তব্যে ছিল পরিষ্কার বার্তা – এ অর্থ শেষ পর্যন্ত ট্যা’ক্স’পে’য়া’র’দে’র টা’কা, তাই রাজ্যের নাগরিকরা সেটি গ্রহণ করতেই পারেন। তাঁর ভাষায়, “লক্ষ্মীর ভাণ্ডার খা’রা’প নয়। যারা পাচ্ছেন তারা নেবেন, নিশ্চয়ই নেবেন। কারণ এটা আপনার টা’কা, আপনাদের ট্যা’ক্স’পে’য়া’রে’র টা’কা।” তবে এখানেই তিনি প্রশ্ন তোলেন শুধু মাসিক ভা’তা দিয়ে কি প্রকৃত অর্থে আ’ত্ম’নি’র্ভ’র’তা গড়ে তোলা সম্ভব, নাকি ক’র্ম’সং’স্থা’নে’র পরিসর স’ঙ্কু’চি’ত করে মানুষকে নি’র্ভ’র’তা’মু’খী করে তোলা হচ্ছে?

বে’কা’র’ত্ব ও দু’র্নী’তি’র প্রসঙ্গে তাঁর বক্তব্য আরও তী’ক্ষ্ণ হয়ে ওঠে। মিঠুন সরাসরি অভিযোগ তোলেন যে রাজ্যে সৎ পথে চলতে চাইলে কাজ পাওয়া ক’ঠি’ন হয়ে যায়। তিনি এমন সব পরিবারের কথা উল্লেখ করেন যেখানে সন্তান বা স্বামী যদি দু’র্নী’তি’তে জ’ড়া’তে না চান, তবে তাদের বে’কা’র হয়ে ঘরে বসে থাকার প’রি’স্থি’তি’র মুখোমুখি হতে হচ্ছে। তাঁর তী’ব্র উক্তি ছিল
“আপনার সন্তান যদি বি’বে’কী হয়… সে যদি বি’বে’ক নিয়ে বেঁ’চে থাকে, অন্য কু’লা’ঙ্গা’র’দে’র মতো দু’র্নী’তি করতে চায় না সে তো বে’কা’র বসে আছে।”
এই মন্তব্যের মধ্য দিয়ে তিনি ইঙ্গিত দেন যে প্র’শা’স’নি’ক ও আ’র্থ সা’মা’জি’ক কা’ঠা’মো’য় দু’র্নী’তি’র সং’স্কৃ’তি সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রাকে সরাসরি প্রভাবিত করছে।

আরও পড়ুন:Gaurav Chakrabarty:”বাড়ি সামলানো কি শুধু মেয়ের দায়িত্ব?”…. সমাজের এই গোঁড়ামি মানতে নারাজ গৌরব চক্রবর্তী, সমাজকে আয়না দেখালেন অভিনেতা

এরপরেই আসে ‘আয়ুষ্মান ভারত’ ই’স্যু। কেন্দ্রীয় সরকারের এই স্বা’স্থ্য’বি’মা প্রকল্পের প্রশংসা করতে গিয়ে মিঠুন দাবি করেন যে দেশের মানুষের জন্য ৫ ল’ক্ষ টা’কা পর্যন্ত বিমা কভারেজের যে সুবিধা চালু করা হয়েছে, পশ্চিমবঙ্গের মানুষ তা সম্পূর্ণভাবে পাচ্ছেন না। তাঁর কথা অনুযায়ী –
“আমাদের প্রাইম মিনিস্টার মহাশয় ৫ ল’ক্ষ টা’কা করে সবার জন্য আয়ুষ্মান ভারত করেছেন। কিন্তু সেটা দিতেই দিচ্ছে না এখানে।”

এখানেই তাঁর অ’ভি’যো’গ স্পষ্টভাবে রা’জ’নৈ’তি’ক রূপ নেয়। তিনি বলেন, রাজ্য সরকার নাকি এই প্রকল্প চালু করতে চাইছে না শুধুমাত্র এই আ’শ’ঙ্কা’য় যে তাতে প্রধানমন্ত্রীর নাম ও উ’দ্যো’গ বেশি করে সামনে চলে আসবে। তাঁর ভাষায়,
“আয়ুষ্মান ভারত এখানে করতে দেবেন না, তাহলে প্রধানমন্ত্রীর নাম বেড়ে যাবে। কিন্তু এতগুলো লোক ক’ষ্ট পাবে তাতে ওঁনার কোনো খে’য়া’ল নেই।”
এই লাইনটি রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক চ’র্চা’র জন্ম দিয়েছে। স’ম’র্থ’ক ও স’মা’লো’চ’ক উভয় মহলেই ম’ত’বি’ভা’জ’ন তৈরি হয়েছে, রাজ্য–কেন্দ্র সং’ঘা’তে’র এই নতুন অভিযোগকে ঘিরে।

আরও পড়ুন:Jeetu-Ditipriya:”দিতিপ্রিয়া রায় আমার সঙ্গে শর্ট দিতে রাজি নন…আমি খুব খা’রা’প মানুষ”, বি’স্ফো’র’ক জিতু কমল, ধারাবাহিক ছাড়লেন নায়ক? বন্ধের মুখে ‘চিরদিনই তুমি যে আমার’?

শুধু স’মা’লো’চ’না’য় সী’মা’ব’দ্ধ না থেকে মিঠুন ভোট–রা’জ’নী’তি’র প্রসঙ্গও টেনে আনেন। তিনি সাধারণ মানুষকে স’ত’র্ক করে বলেন, যদি নাগরিকেরা বারবার একই সরকারকে ভো’ট দিয়ে ফিরিয়ে আনেন, তবে সু’যো’গ-সু’বি’ধা থেকে ব’ঞ্চি’ত থাকার প্র’ব’ণ’তা অ’ব্যা’হ’ত থাকবে। বরং প’রি’ব’র্ত’ন চাইলে, নী’তি’র প’রি’ব’র্ত’ন’ও জ’রু’রি এমন ইঙ্গিতই দিয়েছেন তিনি। সেই সঙ্গে প্র’তি’শ্রু’তি দিয়ে বলেন,
“বিজেপি সরকার এলে প্রথম কাজ আমি করব ‘আয়ুষ্মান ভারত’কে চালু করানো।”

তাঁর এই ঘোষণাকে ঘিরে রা’জ’নৈ’তি’ক’ভা’বে তা’ৎ’প’র্যপূ’র্ণ বা’র্তা ধ’রা পড়েছে কেন্দ্রীয় প্রকল্প বা’স্ত’বা’য়’ন’কে তিনি ‘প’রি’ব’র্ত’নে’র প্রথম প’দ’ক্ষে’প’ হিসেবে দেখতে চাইছেন। পাশাপাশি তাঁর বক্তব্যে স্পষ্ট যে স্বা’স্থ্য সু’র’ক্ষা ও ক’র্ম’সং’স্থা’নে’র মতো মৌলিক বিষয়ে তিনি নাগরিক অধিকারের প্রশ্ন তুলছেন।

মিঠুন চক্রবর্তীর এই ভিডিও বক্তব্যে যেমন রাজ্য সরকারের নী’তি ও প্র’শা’স’নে’র স’মা’লো’চ’না রয়েছে, তেমনই উঠে এসেছে সাধারণ মানুষের আ’র্থ’সা’মা’জি’ক বা’স্ত’ব’তা’র কথাও। লক্ষ্মীর ভাণ্ডারকে সরাসরি খা’রি’জ না করেও তিনি নতুন করে ভাবার আ’হ্বা’ন জানিয়েছেন যে কেবল ভা’তা নয়, ম’র্যা’দা’পূ’র্ণ কাজ ও সৎ থাকার সুযোগ কি সমানভাবে নিশ্চিত হচ্ছে? আর ‘আয়ুষ্মান ভারত’ প্রকল্পের প্রসঙ্গে তাঁর অভিযোগ রাজ্য–কেন্দ্র স’ম্প’র্কে’র রা’জ’নী’তি’কে নতুন করে আ’লো’চ’না’য় নিয়ে এসেছে।

রা’জ’নৈ’তি’ক বি’শ্লে’ষ’ক’দে’র মতে, তাঁর এই বক্তব্য আগামী দিনে ভো’ট–রা’জ’নী’তি’তে’ও প্রভাব ফেলতে পারে। একজন জনপ্রিয় সাং’স্কৃ’তি’ক ব্যক্তিত্ব ও রা’জ’নৈ’তি’ক নেতার এই সরাসরি বা’র্তা নিঃ’স’ন্দে’হে জনমতের ওপর প্র’ভা’ব বি’স্তা’র করতে স’ক্ষ’ম। এখন দেখার বিষয় রাজ্য সরকার এই অ’ভি’যো’গে’র জবাব কীভাবে দেয় এবং ‘আয়ুষ্মান ভারত’ (Ayushman Bharat Yojana) ই’স্যু ঘিরে নতুন কোনো প্র’শা’স’নি’ক বা রা’জ’নৈ’তি’ক প’দ’ক্ষে’প সামনে আসে কি না।

Leave a Comment