Koel Mallick: অভিনেত্রী কোয়েল মল্লিক(Koel Mallick)-এর সাম্প্রতিক এই সাক্ষাৎকারে উ’ঠে এসেছে বাংলা সিনেমার অ’তী’ত ও বর্তমানের তু’ল’না’মূ’ল’ক এক স্প’ষ্ট ছবি। সময়ের সঙ্গে সিনেমা যেমন ব’দ’লে’ছে, তেমনই ব’দ’লে’ছে মানুষের ভা’ব’না, দর্শকের রু’চি এবং অভিনয়ের ধরন। তবে এই প’রি’ব’র্ত’নে’র ভি’ড়ে কোথাও যেন হা’রি’য়ে গেছে সেই পু’রা’নো দিনের সা’র’ল্য, নি’ষ্পা’প আ’বে’গ আর সহজ সৌ’ন্দ’র্য। এমনটাই মনে করেন কোয়েল। তাঁর কথায়, অ’তী’তে’র সিনেমা শুধু বি’নো’দ’নে’র মাধ্যম ছিল না, বরং শে’খা’র একটা বড় জায়গা ছিল, যেখান থেকে শিল্পী হিসেবে নিজেদের গ’ড়ে তো’লা’র অ’নু’প্রে’র’ণা পাওয়া যেত।
কোয়েল স্প’ষ্ট করে বলেন, আগের প্র’জ’ন্মে’র অভিনেতা ও পরিচালকদের কাজ থেকেই তাঁদের প্র’জ’ন্মে’র শেখা শু’রু। তিনি বলেন, “ওঁনাদের ছবি থেকেই আমাদের ছবি শেখা এবং অভিনয় শেখা এবং সব জিনিসটাই শেখা।” অভিনয়, সিনেমার ভা’ষা, সং’লা’প বলার ভ’ঙ্গি সব কিছুতেই সেই সময়ের ছবিগুলো ছিল এক ধরনের পাঠশালা। তাঁর মতে, তখনকার শিল্পীরা নিজেদের কাজের মধ্য দিয়েই পরবর্তী প্র’জ’ন্ম’কে পথ দেখিয়েছেন। এই জায়গাটা আজও তাঁর কাছে ভী’ষ’ণ গুরুত্বপূর্ণ, কারণ সেই সময়ের সিনেমাগুলোর মধ্যে ছিল এমন কিছু গু’ণ, যা আজকের দিনে খুব একটা চোখে পড়ে না।
অ’তী’তে’র সিনেমার প্রসঙ্গে কথা বলতে গিয়ে কোয়েল সবচেয়ে বেশি যে বিষয়টির কথা বলেন, তা হল ‘সিম্পলিসিটি’ আর ‘ই’নো’সে’ন্স’। তিনি অ’ক’প’টে স্বী’কা’র করেন, এই জায়গাটাতেই তিনি আগের প্র’জ’ন্ম’কে একটু “হিং’সে” করেন। তাঁর মতে, সেই সময়ের অভিনেতা ও সিনেমার জগৎ ছিল অনেক বেশি স’র’ল, সো’জা’সা’প’টা এবং আ’ন্ত’রি’ক। তৎকালীন সময়ের ব’র্ণ’না দিতে গিয়ে তিনি বলেন, “ত’দা’নী’ন্ত’ন জগৎটা অনেক বেশি স’র’ল, সো’জা, সা’ধা’র’ণ, সু’ন্দ’র একটা জগৎ ছিল।” তাঁর মতে তখনকার স’মা’জ, মানুষের জী’ব’ন’ধা’রা এবং চি’ন্তা’ভা’ব’না’র মধ্যেও একটা স্বা’ভা’বি’ক’তা ছিল, যা সিনেমার পর্দায় খুব সহজেই প্র’তি’ফ’লি’ত হত। তাঁর কথায়,”তাদের একটা জিনিস যেটা আমরা আমাদের এই জে’না’রে’শ’নে আমি ভী’ষ’ণ হিং’সে করি, যেটা ওই জে’না’রে’শ’নে সবথেকে ছিল, সেটা হচ্ছে সি’ম্প’লি’সি’টি, একটা ই’নো’সে’ন্স।” সবকিছু মিলিয়ে সেই সময়ের জগৎটা ছিল সুন্দর ও মা’ন’বি’ক এক বা’স্ত’ব’তা।
কিন্তু সময় ব’দ’লে’ছে। বর্তমান প্র’জ’ন্মে’র সিনেমা ও স’মা’জ নিয়ে কথা বলতে গিয়ে কোয়েল বলেন, আজকের দিনে জিনিসগুলো অনেক বেশি জ’টি’ল হয়ে উঠেছে। এর অন্যতম কারণ হিসেবে তিনি প্র’যু’ক্তি’র প্র’ভা’বে’র কথা উল্লেখ করেন। অ’তি’রি’ক্ত প্র’যু’ক্তি, দ্রুত গতির জী’ব’ন’যা’প’ন এবং নানা ধরনের চা’প। সব মিলিয়ে মানুষের ভা’ব’না ও স’ম্প’র্কে’র জায়গাগুলো আগের তু’ল’না’য় অনেক বেশি জ’টি’ল হয়ে গেছে। আর সেই প্র’ভা’ব সরাসরি পড়ছে সিনেমার ভা’ষা ও গল্প বলার ধরনেও। তাঁর মতে, হয়ত এই কারণেই আজকের সিনেমায় সেই স্বাভাবিক স’র’ল’তা অনেকটাই ক’মে গেছে। বর্তমান সময়ে সেই সা’র’ল্য হা’রি’য়ে যাওয়ার কা’র’ণ হিসেবে তিনি বলেন, “সেটা আ’স্তে আ’স্তে কা’র’ণ টেকনোলজি বা অনেক কিছু কা’র’ণে হয়ত জিনিসগুলো অনেক বেশি জ’টি’ল হয়ে যাচ্ছে।”
তবুও কোয়েল নিজের ভা’লো লাগার জায়গা থেকে এখনও পু’রা’নো দিনের সিনেমা দেখতে ভা’লো’বা’সে’ন। তাঁর কথায়, অ’তী’তে’র ছবিগুলোতে এমন অনেক উ’পা’দা’ন ছিল, যেগুলো আজকের চারপাশে আমরা ক্রমশ মি’স করছি। মা’ন’বি’ক স’ম্প’র্ক, আ’বে’গে’র গ’ভী’র’তা, ছোট ছোট অ’নু’ভূ’তি’র গু’রু’ত্ব সবকিছুই তখনকার সিনেমায় খুব সুন্দরভাবে ধ’রা থাকত। সেই কা’র’ণে’ই আজও সময় পেলেই তিনি ত’দা’নী’ন্ত’ন দিনের ছবি দেখতে প’ছ’ন্দ করেন এবং সেখান থেকেই এক ধরনের মা’ন’সি’ক শা’ন্তি ও অ’নু’প্রে’র’ণা পান।
প্রিয় সিনেমার কথা বলতে গিয়ে কোয়েল একেবারে স্পষ্টভাবে সত্যজিৎ রায়(Satyajit Ray)-এর ‘চারুলতা’(Charulata)-র নাম নেন। তাঁর কাছে এই ছবিটি শুধু একটি সিনেমা নয়, বরং শিল্পের এক অনন্য নিদর্শন। চরিত্রের সূ’ক্ষ্ম অ’নু’ভূ’তি, স’ম্প’র্কে’র জ’টি’ল’তা এবং নী’র’ব আ’বে’গ। সব মিলিয়ে ‘চারুলতা’ তাঁর কাছে আজও সেরা।
সাক্ষাৎকারের এক ম’জা’র অংশে কোয়েল ব্যক্তিগত জীবনের কথাও ভা’গ করে নেন। তিনি জানান, তাঁর ছোট ছেলে, যাকে তিনি আ’দ’র করে ‘ছানা’ বলে ডাকেন, এখনও ‘হাল্ক’ মুভি দেখেই ভ’য় পায়। এই প্রসঙ্গে হাসতে হাসতে তিনি বলেন, ছেলে একটু বড় হলে তিনি তাকে বিপ্লব চ্যাটার্জি(Biplab Chatterjee)-র সিনেমা দেখাবেন। এখানেই আসে বিপ্লব চ্যাটার্জিকে নিয়ে তাঁর ম’জা’র ম’ন্ত’ব্য।
কোয়েল বলেন, পর্দায় বিপ্লব চ্যাটার্জি (Biplab Chatterjee) যতই ভ’য়’ঙ্ক’র খলনায়কের চরিত্রে অভিনয় করুন না কেন, বা’স্ত’ব জীবনে তিনি একেবারেই তার উ’ল্টো। তিনি অ’ত্য’ন্ত ভা’লো মানুষ এবং তাঁদের পরিবারের খুব কা’ছে’র একজন। তাই ছেলে বড় হলে তাকে আ’লা’দা করে বো’ঝা’তে হবে যে সিনেমায় যাকে দু’ষ্টু মনে হয়, বা’স্ত’বে তিনি মোটেও দু’ষ্টু নন। তাঁর ভাষায়,”তাকে আমি আ’লা’দা করে বোঝাবো এই দু’ষ্টু লোকটা কিন্তু ভী’ষ’ণ ভা’লো একজন মানুষ। সে একেবারেই দুষ্টু নয়, আমাদের ভী’ষ’ণ কাছের একজন মানুষ।” এই কথার মধ্য দিয়ে কোয়েল একদিকে যেমন হা’স্য’র’সে’র ছোঁ’য়া আনেন, তেমনই শিল্পীদের অন-স্ক্রিন ই’মে’জ আর বা’স্ত’ব জী’ব’নে’র পা’র্থ’ক্যও তু’লে ধরেন।
সব মিলিয়ে কোয়েল মল্লিকের এই সাক্ষাৎকার শুধুই ন’স্টা’ল’জি’য়া নয়, বরং বর্তমান সময়ের সিনেমা নিয়ে এক ধরনের আ’ত্ম’স’মা’লো’চ’না’ও। অ’তী’তে’র স’র’ল’তা, মা’ন’বি’ক’তা আর অ’নু’প্রে’র’ণা’র জায়গাগুলো কি আজকের সিনেমায় সত্যিই হা’রি’য়ে যাচ্ছে এই প্র’শ্ন’টা’ই যেন তাঁর কথার ফাঁ’কে ফাঁ’কে উঠে আসে।