Mary Kom: সাম্প্রতিক সময়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিও ঘিরে নতুন করে বি’ত’র্কে’র কে’ন্দ্রে উঠে এসেছেন ছ’বারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন বক্সার মেরি কম (Dr Mangte Mary Kom) ও তাঁর প্রাক্তন স্বামী কারুং অনলার(Karung Onkholer)। বি’বা’হ’বি’চ্ছে’দের পর দীর্ঘ সময় নী’র’ব’তা বজায় থাকলেও, দু’পক্ষের সাম্প্রতিক অভিযোগ-পাল্টা অভিযোগ তাঁদের ব্যক্তিগত ও পারিবারিক জীবনের এক জ’টি’ল ছবি সামনে এনেছে। ভিডিওতে অনলার মেরি কমের বি’রু’দ্ধে একাধিক গু’রু’ত’র অ’ভি’যো’গ তুলেছেন, যা ইতিমধ্যেই সোশ্যাল মিডিয়ায় তী’ব্র চা’ঞ্চ’ল্য সৃষ্টি করেছে।
ভিডিওতে অনলারের সবচেয়ে বি’স্ফো’র’ক অ’ভি’যো’গ প’র’কী’য়া সংক্রান্ত। তাঁর দাবি, মেরি কম দীর্ঘ সময় ধরে একাধিক স’ম্প’র্কে যুক্ত ছিলেন। অনলারের ভাষায়, “কতজন পুরুষের সঙ্গে তাঁর স’ম্প’র্ক ছিল, সেটা বলাও ক’ঠি’ন।” তিনি আরও বলেন, ২০১৩ সালেই একজন জুনিয়র বক্সারের সঙ্গে মেরির স’ম্প’র্কে’র কথা তাঁর নজরে আসে। সেই সময় বিষয়টি নিয়ে দা’ম্প’ত্য ক’ল’হও চ’র’মে পৌঁছে ছিল বলে দাবি করেন তিনি। অনলারের বক্তব্য অনুযায়ী, ওই ঘ’ট’না’র পরও স’ম্প’র্কে’র অ’ব’সা’ন হয়নি, বরং পরিস্থিতি আরও জ’টি’ল হয়ে ওঠে।
এখানেই থা’মে’ন’নি অনলার। তাঁর আরেকটি অ’ভি’যো’গ, ২০১৭ সাল থেকে মেরি কম অন্য এক ব্যক্তির সঙ্গে স’ম্প’র্কে জড়ান। ওই ব্যক্তি মেরি কমের বক্সিং অ্যাকাডেমির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন বলেও জানান তিনি। যদিও অনলার প্রকাশ্যে ওই ব্যক্তির নাম বলতে চাননি। তবে তাঁর দাবি, এই স’ম্প’র্কে’র প্রমাণ হিসেবে তাঁর কাছে হোয়াটসঅ্যাপ চ্যাট রয়েছে। ভিডিওতে অনলার স্পষ্টভাবে বলেন, “ওদের হোয়াটসঅ্যাপ মেসেজ আমার কাছে আছে, প্রমাণ আছে। এত দিন চু’প করে থেকেছি।”
এই ব্যক্তিগত অভিযোগের পাশাপাশি আর্থিক বিষয় নিয়েও দু’পক্ষের মধ্যে তী’ব্র টা’না’পো’ড়ে’ন চলছে। ক’দিন আগেই মেরি ক’ম অভিযোগ করেছিলেন, অনলার তাঁর সব স’ম্প’ত্তি হাতিয়ে নিয়েছেন। মেরির দাবি ছিল, অনলারের বাজারে বি’পু’ল দেনা রয়েছে এবং সেই দেনা শো’ধ করতেই তাঁর স’ম্প’ত্তি ব’ন্ধ’ক রেখে ঋ’ণ নেওয়া হয়েছিল। মেরির বক্তব্য অনুযায়ী, সেই ঋ’ণ শোধ না হওয়ায় শেষ পর্যন্ত তাঁর স’ম্প’ত্তি বা’জে’য়া’প্ত হয়ে যায়।
এই অ’ভি’যো’গে’র তী’ব্র প্র’তি’বা’দ জানিয়েছেন অনলার। ভিডিওতে তিনি বলেন, “যদি আমি চু’রি করে থাকি, তবে আমাকে গ্রে’প্তা’র করো। সিআইডি বা এনআইএ দিয়ে তদন্ত করাও। আমার অ্যাকাউন্টে চেক করে দেখো—এক পয়সাও আছে কি না।” তাঁর দাবি, মেরি ক’মে’র পক্ষ থেকে যে পাঁচ কো’টি টা’কা আ’ত্মসা’তে’র অ’ভি’যো’গ তোলা হয়েছে, তা স’ম্পূ’র্ণ ভিত্তিহীন। আ’ই’ন’ত তদন্ত হলেই সত্য সামনে আসবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
স’ম্প’ত্তি ও জমি সং’ক্রা’ন্ত বি’রো’ধ’ও এই দ্ব’ন্দ্বে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। অনলারের বক্তব্য অনুযায়ী, তাঁদের ১৮ বছরের দা’ম্প’ত্য জীবনে বহু স’ম্প’ত্তি একসঙ্গে গড়ে উঠলেও, জমির নথিপত্র তাঁর নামেই রয়েছে। ভিডিওতে তিনি বলেন, “এতদিন আমরা একসঙ্গে ছিলাম। এখন হঠাৎ জমির কথা উঠছে। জমির কাগজ আমার নামেই আছে।” তাঁর দাবি, বি’চ্ছে’দে’র পর স’ম্প’ত্তি নিয়ে নতুন করে যে বি’ত’র্ক তৈরি করা হচ্ছে, তা উদ্দেশ্য প্রণোদিত।
আরও পড়ুন:Debolina-Sayak-Sukanta:বন্ধু সায়কের দিকে আঙুল উঠতেই বেজায় চ’ট’লে’ন সুকান্ত
অন্যদিকে, মেরি কম সম্প্রতি প্রথমবার প্রকাশ্যে মুখ খুলে জানান, অনলারকে তিনি যেরকম স্বামী হিসেবে ভেবেছিলেন, বাস্তবে তিনি সেরকম নন। মেরির অভিযোগ, সং’সা’রে’র আ’র্থি’ক দিক নিয়ে শুরুতে তিনি খুব একটা মা’থা ঘামাননি। কিন্তু পরে যখন বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখতে শুরু করেন, তখনই অ’নি’য়’ম ধ’রা পড়ে। তাঁর দাবি, অনলার নিয়মিত ঋ’ণ করতেন এবং সেই ঋ’ণ শোধ করতে তাঁর স’ম্প’ত্তি ব’ন্ধ’ক রাখতেন। শেষ পর্যন্ত সেই দেনা শোধ না হওয়ায় পরিস্থিতি হাতের বাইরে চলে যায়।
এই সব অভিযোগের জবাবে অনলার ফের প’র’কী’য়া’র প্রসঙ্গ তুলে ধরেছেন। তাঁর বক্তব্য, সন্তানদের কথা ভেবেই তিনি আইনি ল’ড়া’ই’য়ে যেতে চান না। তবে তাঁর বি’রু’দ্ধে স’ম্প’ত্তি আ’ত্ম’সা’তে’র অ’ভি’যো’গ তিনি কোনওভাবেই মেনে নেবেন না। অনলার জানান, দীর্ঘদিন ধরে তিনি নী’র’ব ছিলেন, কিন্তু একের পর এক অ’ভি’যো’গ ওঠায় এখন তাঁকে মুখ খুলতেই হয়েছে।
উল্লেখ্য, মেরি কম ও কারুং অনলারের বি’য়ে হয়েছিল দীর্ঘ ১৮ বছর আগে। ২০২৩ সালের ডিসেম্বর মাসে তাঁদের বি’বা’হ’বি’চ্ছে’দ হয়। বি’চ্ছে’দে’র দু’বছর পর হঠাৎ করে প্রকাশ্যে এধরনের অ’ভি’যো’গ-পাল্টা অ’ভি’যো’গ শুরু হওয়ায় বিষয়টি নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠছে। ব্যক্তিগত স’ম্প’র্কে’র এই প্রকাশ্য সং’ঘা’ত দেশের অন্যতম সফল ক্রী’ড়া’বি’দে’র ভাবমূর্তিতেও প্রভাব ফেলছে বলে মত অনেকের।
সব মিলিয়ে, প’র’কী’য়া, আ’র্থি’ক লেনদেন, স’ম্প’ত্তি ও বি’শ্বা’স’ভ’ঙ্গ।একাধিক অ’ভি’যো’গে ঘিরে থাকা এই দ্ব’ন্দ্ব আপাতত থামার কোনও লক্ষণ দেখাচ্ছে না। সত্য কোন দিকে, তা আইন ও সময়ই বলবে। তবে সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া এই ভিডিও ইতিমধ্যেই মেরি কম ও কারুং অনলারের ব্যক্তিগত জীবনের জ’টি’ল অধ্যায়কে জনসমক্ষে এনে দিয়েছে, যা নিয়ে আ’লো’চ’না এখনও তুঙ্গে।