Mimi Chakraborty:বনগাঁয় একটি অনুষ্ঠানে গিয়ে চরম অপমানের মুখে পড়েছেন অভিনেত্রী ও প্রাক্তন সাংসদ মিমি চক্রবর্তী(Mimi Chakraborty ) এমনই অভিযোগ সামনে এনেছেন তিনি নিজেই। মাঝপথে অনুষ্ঠান বন্ধ করে তাঁকে কার্যত মঞ্চ ছাড়তে বাধ্য করা হয়েছে বলে দাবি অভিনেত্রীর। এই ঘটনাকে ঘিরে ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে জোর চর্চা ও বিতর্ক। মিমির অভিযোগের ভিত্তিতে বনগাঁ থানায় একটি লিখিত অভিযোগও দায়ের হয়েছে। অভিযুক্ত হিসেবে উঠে এসেছে তনয় শাস্ত্রী নামে এক ব্যক্তির নাম, যাঁকে স্থানীয়ভাবে একজন ‘জ্যোতিষী’ বলে জানা যাচ্ছে।
রবিবার বনগাঁর নয়া গোপাল গুঞ্জ যুব সংঘের উদ্যোগে আয়োজিত একটি অনুষ্ঠানে যোগ দিতে গিয়েছিলেন মিমি চক্রবর্তী। কলকাতা থেকে অনুষ্ঠানে পৌঁছতে তাঁর আনুমানিক এক ঘণ্টা দেরি হয় বলে জানা যায়। দেরি হলেও অনুষ্ঠানে পৌঁছনোর পর যথারীতি দর্শকদের সঙ্গে সৌজন্য বিনিময় করেন অভিনেত্রী এবং মঞ্চে উঠে অনুষ্ঠান শুরু করেন। মিমিকে এক ঝলক দেখার জন্য ভিড় জমিয়েছিলেন বহু অনুরাগী। ছবি তোলা, কথা বলা সব মিলিয়ে অনুষ্ঠান স্বাভাবিকভাবেই এগোচ্ছিল।
কিন্তু আচমকাই পরিস্থিতি বদলে যায়। মিমির অভিযোগ, অনুষ্ঠান চলাকালীন হঠাৎ এক ব্যক্তি মঞ্চে উঠে তাঁকে অনুষ্ঠান বন্ধ করতে বলেন। শুধু তাই নয়, প্রকাশ্যে তাঁকে উদ্দেশ্য করে বলা হয়, “আপনি চলে যান।” অভিনেত্রী জানান, এমন আচরণে তিনি প্রথমে হতবাক হয়ে যান। বুঝতেই পারেননি, সেই কথা আদৌ তাঁকেই বলা হচ্ছে কি না। কয়েক মুহূর্ত পরে বিষয়টি স্পষ্ট হলে অপমান ও বিস্ময়ে কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়ে পড়েন তিনি।
মিমির দাবি অনুযায়ী, ওই ব্যক্তি একাধিকবার একই কথা পুনরাবৃত্তি করেন। পরিস্থিতি আর উত্তপ্ত না করে, উপস্থিত দর্শক-শ্রোতাদের শুভরাত্রি জানিয়ে তিনি নিজেই মঞ্চ ছেড়ে বেরিয়ে আসেন। তাঁর কথায়, “আমার সঙ্গে এমন ঘটনা এই প্রথম। এত ঔদ্ধত্য আগে কখনও কেউ দেখায়নি।” এই অভিজ্ঞতা তাঁকে গভীরভাবে আহত করেছে বলেও জানান তিনি।
এই ঘটনার পর সমাজমাধ্যমে নিজের ক্ষো’ভ উগরে দিয়েছেন মিমি চক্রবর্তী। প্রজাতন্ত্র দিবসের প্রাক্কালে এমন ঘটনার তাৎপর্য তুলে ধরে তিনি লেখেন, দেশে যখন স্বাধীনতা, সমানাধিকার এবং মর্যাদার কথা বলা হয়, তখনও মহিলা শিল্পীদের ক্ষেত্রে সেই অধিকার কতটা ভঙ্গুর, এই ঘটনা তারই প্রমাণ। তাঁর বক্তব্য, দীর্ঘদিন ধরে পরিশ্রম করে তিনি নিজের পরিচিতি ও ভাবমূর্তি গড়েছেন। কিন্তু এই ধরনের হে’ন’স্থা’র বিরুদ্ধে চুপ করে থাকা মানে ভবিষ্যতে শিল্পীদের প্রতি এমন আচরণকে প্রশ্রয় দেওয়া।
মিমি আরও স্পষ্ট করে জানান, মঞ্চে শিল্পীদের অধিকার নিয়ে কোনও আপস তিনি করবেন না। বিষয়টি ইতিমধ্যেই আইনি স্তরে পৌঁছেছে বলেই তিনি জানান, এবং সেই কারণে এখন এই বিষয়ে আর বিস্তারিত মন্তব্য করতে চান না। তাঁর এই অবস্থানকে সমর্থন জানিয়েছেন বহু সহকর্মী শিল্পী ও অনুরাগী।
উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, এই ঘটনা নতুন নয় বলেই মনে করছেন অনেকে। কিছুদিন আগেই গায়িকা লগ্নজিতা চক্রবর্তী(Lagnajita Chakraborty) পূর্ব মেদিনীপুরে একটি অনুষ্ঠানে গিয়ে আপত্তিকর আচরণের মুখে পড়েছিলেন বলে অভিযোগ ওঠে। সেই ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই বনগাঁয় মিমি চক্রবর্তীর সঙ্গে প্রায় একই ধরনের পরিস্থিতি তৈরি হওয়ায় শিল্পীদের নিরাপত্তা ও সম্মান নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠছে।
শিল্পীরা কাজের সূত্রে শহরের বাইরেও নিয়মিত যাতায়াত করেন জেলা শহর হোক বা রাজ্যের বাইরে, এমনকি দেশের বাইরেও। কিন্তু সেই সব জায়গায় তাঁদের সঙ্গে কী ধরনের ব্যবহার করা হচ্ছে, তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। মিমির অভিযোগ, আজকাল অনেকেই শিল্পীদের ব্যক্তিগত সম্পত্তির মতো ভাবতে শুরু করেছেন, যা অত্যন্ত বিপজ্জনক মানসিকতার পরিচয়।
এদিকে, এই ঘটনার পাশাপাশি অন্য একটি বিষয় নিয়েও আলোচনায় রয়েছেন মিমি চক্রবর্তী(Mimi Chakraborty)। সম্প্রতি এসআইআর-এর তরফে তাঁকে ভোটার তালিকা সংশোধন সংক্রান্ত একটি শুনানির জন্য নোটিশ পাঠানো হয়েছে। আগামী ৩১ জানুয়ারি তাঁকে হাজিরা দিতে বলা হয়েছে। প্রাক্তন তৃণমূল সাংসদ হিসেবে নয়, একজন সাধারণ নাগরিক হিসেবেই তাঁকে প্রয়োজনীয় নথি নিয়ে শুনানিতে উপস্থিত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। মিমি জানিয়েছেন, তিনি সম্পূর্ণ সহযোগিতা করবেন এবং নির্ধারিত দিনে শুনানিতে হাজির থাকবেন।
রাজনৈতিক প্রসঙ্গের পাশাপাশি কাজের দিক থেকেও ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন অভিনেত্রী। ২৩ জানুয়ারি বড়পর্দায় মুক্তি পেয়েছে উইন্ডোজ প্রযোজিত ছবি ‘ভানুপ্রিয়া ভুতের হোটেল’(Bhanupriya Bhooter Hotel)। অরিত্র মুখোপাধ্যায়(Aritra Mukherjee)-এর পরিচালনায় তৈরি এই হরর-কমেডি ছবিতে দুটি জুটি দর্শকদের নজর কেড়েছে একদিকে মিমি চক্রবর্তী ও সোহম মজুমদার(Soham Majumdar), অন্যদিকে বনি সেনগুপ্ত (Bonny Sengupta)ও স্বস্তিকা দত্ত(Swastika Dutta)। ছবি মুক্তির পর থেকেই নানা ঘটনায় উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন মিমির অনুরাগীরা।
সব মিলিয়ে, বনগাঁর ঘটনা শুধু একটি বিচ্ছিন্ন অপমানের অভিযোগ নয়, বরং শিল্পীদের সম্মান, নিরাপত্তা ও পেশাগত অধিকার নিয়ে বড় প্রশ্ন তুলে দিল বলেই মনে করছেন ওয়াকিবহাল মহল। আইনি প্রক্রিয়া কোন পথে এগোয়, এখন সেদিকেই তাকিয়ে বিনোদন জগত থেকে সাধারণ মানুষ সকলেই।