Chirodini Tumi Je Amar:”বিনয় দেখাব না…বাঘ যখন থাকবে বনে, বাঘিনী তো থাকবেই, ‘অপর্ণা’ এক বাঘিনী!”— অ্যাওয়ার্ডের মঞ্চে শিরিনকে বাঘিনীর সঙ্গে তুলনায় চমকে দিলেন জিতু

WhatsApp Group Join Now
Telegram Group Join Now
Instagram Group Join Now

Chirodini Tumi Je Amar: বছর জুড়ে নিরবচ্ছিন্ন পরিশ্রম, প্রতি সপ্তাহে টিআরপির কড়া প্রতিযোগিতা টেলিভিশনের দুনিয়ায় টিকে থাকা সহজ কাজ নয়। সেই টানটান লড়াইয়ের মধ্যেই শিল্পীদের কাছে পুরস্কার যেন নতুন উদ্যমের জ্বালানি। সম্প্রতি ‘চিরদিনই তুমি যে আমার'(Chirodini Tumi Je Amar) ধারাবাহিকের কলাকুশলীরা একাধিক বিভাগে সম্মানিত হয়েছেন জ়ি বাংলা সোনার সংসার মঞ্চে। সহ-অভিনেতাদের এই সাফল্যে উচ্ছ্বসিত হয়ে মুখ খুলেছেন ধারাবাহিকের আর্য, অর্থাৎ জিতু(Jeetu Kamal)। আর সেখানেই একাধিক মন্তব্যে তৈরি হয়েছে চর্চা বিশেষ করে অপর্ণাকে ‘বাঘিনী’ আখ্যা দেওয়া নিয়ে।

এবার সেরা জুটি হিসেবে সম্মান পেয়েছেন ‘আর্য-অপর্ণা’। পাশাপাশি প্রিয় নায়ক হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন আর্য সিংহ রায়। শুধু তাই নয়, প্রিয় জামাই হিসেবেও দর্শকের ভোট কুড়িয়েছেন তিনি। ধারাবাহিকের অন্যান্য চরিত্রও কম যাননি প্রিয় বাবা সতু, প্রিয় মা সুমি, ভিন্ন স্বাদের চরিত্রে কিঙ্কর, প্রিয় জা মানসী এবং প্রিয় দেওর অর্ক সিংহ রায় সকলেই নিজেদের বিভাগে সম্মান পেয়েছেন। অর্থাৎ এক কথায় বলতে গেলে, গোটা টিমের ঝুলিই এ বার ভরেছে পুরস্কারে।

এই প্রেক্ষিতেই নিজের সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টে জিতু লিখেছেন, অ্যাওয়ার্ড শো নিয়ে তাঁর ব্যক্তিগত বিশ্বাস বরাবরই খানিক আলাদা। তাঁর কথায়, তিনি কোনও দিনই পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানকে খুব একটা গুরুত্ব দেননি। তবে এটাও স্বীকার করেছেন, অ্যাওয়ার্ড কেবল প্রাপ্তি বা প্রশংসা নয় কখনও কখনও তা সামনে এগিয়ে যাওয়ার পথে ‘ফুয়েল’-এর কাজ করে। নিজের ইউনিটের যে সকল সদস্য যোগ্য সম্মান পেয়েছেন, তাঁদের প্রত্যেককে অভিনন্দন জানিয়েছেন তিনি।

সহ-অভিনেতাদের প্রশংসা করতে গিয়ে জিতুর ভাষা ছিল আলাদা এবং চিত্রময়। কিঙ্কর চরিত্রকে তিনি বর্ণনা করেছেন ‘মনুষ্যরূপী বাঘ’ হিসেবে। তাঁর মতে, এই চরিত্রের উপস্থিতি আলাদা মাত্রা যোগ করেছে ধারাবাহিকে। তবে সবচেয়ে বেশি নজর কেড়েছে অপর্ণা সম্পর্কে তাঁর মন্তব্য। জিতু লিখেছেন, “বাঘ যখন থাকবে বনে, বাঘিনী তো থাকবেই। অপর্ণা এক বাঘিনীর নাম।” এখানেই থেমে থাকেননি তিনি। স্ত্রী বাঘ এক একটি লিটারে সাধারণত ২ থেকে ৪টি শাবকের জন্ম দেয় এবং তাদের বেঁচে থাকার সম্ভাবনা থাকে ৫০ থেকে ৭০ শতাংশ এমন তথ্য উল্লেখ করে জিতু রসিকতার ছলে যোগ করেছেন, কিন্তু এই ‘বাঘিনীর’ ১০০ শতাংশ শাবক, অর্থাৎ সিনগুলো, তরতাজা এবং শক্তিশালী। তাঁর এই মন্তব্যই মুহূর্তে ছড়িয়ে পড়ে অনুরাগীদের মধ্যে। অভিনেতা লিখেছেন, “..কিন্তু এই বাঘিনীর ১০০ শতাংশ শাবক (সিনগুলো) তরতাজা আর শক্তিশালী। অভিনন্দন।”

আরও পড়ুন:Shaheb-Susmita:”যাও, সাইন করো আমার হিরো” – ‘আমার হিরো’ ট্যাগে জোর গুঞ্জন! সাহেব ভট্টাচার্য-র নতুন মেগার প্রোমো শেয়ার করে প্রেমের ইঙ্গিত দিলেন সুস্মিতা দে?

অভিনয়ের প্রশংসার পাশাপাশি চরিত্রগুলোর গুরুত্ব বোঝাতে জিতু টেনে এনেছেন বলিউডের কালজয়ী ছবি শোলে-র প্রসঙ্গও। তাঁর মতে, ওই ছবিতে আসরানি সাহেবের জেলার চরিত্র কিংবা কালিয়া চরিত্রটি না থাকলে ছবির মজা অনেকটাই ফিকে হয়ে যেত। সেই তুলনাতেই তিনি ধারাবাহিকের অর্ক ও মানসী চরিত্রকে উল্লেখ করেছেন। অর্থাৎ, প্রধান চরিত্রের বাইরেও পার্শ্বচরিত্রগুলির অবদান কতটা গুরুত্বপূর্ণ, তা স্পষ্ট করে দিয়েছেন অভিনেতা।
তবে এত প্রশংসার মাঝেও নিজের প্রসঙ্গে এসে বিনয়ের আবরণে ঢাকেননি তিনি। বরং খানিক দার্শনিক সুরে লিখেছেন, “ঝুলা লে কে আয়ে থে, ঝোলা লেকে নিকাল যায়েঙ্গে। মেরা ক্যায়া।” অর্থাৎ, তিনি যেন বলতে চেয়েছেন প্রাপ্তি-অপ্রাপ্তি সবই ক্ষণস্থায়ী, আসল বিষয় কাজ। একই সঙ্গে জানিয়েছেন, সকলের ছবি শেয়ার করার ইচ্ছে থাকলেও, অনুমতি ছাড়া তা দেওয়া উচিত নয় বলেই তিনি সংযত থেকেছেন।

জিতুর এই পোস্টে স্পষ্ট ব্যক্তিগতভাবে অ্যাওয়ার্ড শো নিয়ে সংশয় থাকলেও, সহকর্মীদের প্রাপ্তিতে তিনি আন্তরিকভাবে খুশি। তাঁর ভাষায়, পুরস্কার কখনও কখনও শিল্পীর চলার পথে অক্সিজেন জোগায়। দীর্ঘ সময় ধরে টিআরপির চাপ, শুটিংয়ের ব্যস্ততা এবং প্রতিযোগিতার মধ্যেও এই স্বীকৃতি টিমের মনোবল বাড়ায় বলেই মনে করেন তিনি।
অপর্ণাকে ‘বাঘিনী’ বলা বা কিঙ্করকে ‘মনুষ্যরূপী বাঘ’ আখ্যা দেওয়া সব মিলিয়ে জিতুর লেখনীতে ছিল রসিকতা, প্রশংসা আর দলগত সাফল্যের স্বীকৃতি। সেই সঙ্গে ছিল চরিত্রগুলির প্রতি তাঁর আবেগ এবং সহকর্মীদের প্রতি শ্রদ্ধা। সোশ্যাল মিডিয়ায় ইতিমধ্যেই তাঁর এই পোস্ট ঘিরে তৈরি হয়েছে আলোচনা কেউ প্রশংসা করছেন তাঁর স্পষ্টভাষিতা, কেউ আবার ‘বিনয় দেখাব না’ মন্তব্যে খুঁজছেন আত্মবিশ্বাসের সুর।

আরও পড়ুন:Raja Goswami: “ফলোয়ারের নে’শা’য় সম্পর্কও বি’ক্রি?মানুষ হয়ত নিজের মা-বাবাকেও ফলোয়ার দিয়ে বিচার করবে”—বিস্ফোরক মন্তব্যে সরব রাজা গোস্বামী, “মা-বাবাকে টেনে কথা বলে, সে আপনার থেকে বয়সে বড় হলেও আচরণে ছোট হয়ে যায়।”- পাল্টা ইঙ্গিতপূর্ণ পোস্ট অনন্যা গুহর

সব মিলিয়ে বলা যায়, অ্যাওয়ার্ডের মঞ্চ শুধু ট্রফি হাতে তোলার জায়গা নয়, এটি শিল্পীদের পরিশ্রমের স্বীকৃতি এবং নতুন উদ্যমের উৎস। আর সেই মুহূর্তে দাঁড়িয়ে নিজের দলকে সামনে রেখে জিতুর এই বার্তা যেন আরও একবার মনে করিয়ে দিল, সাফল্য একার নয় গোটা ইউনিটের।

Leave a Comment