Tonni Laha Roy: “জানতাম না, জেনে নিলাম”…কন্ট্রাক্টে থেকেও বাদ! দর্শকদের প্রিয় ‘মীরা’ হঠাৎ উধাও! “লয়্যালটির দাম নেই? দর্শকরা চাইলেই কোনো সিরিয়ালে কাউকে যেমন বাদ দিতে পারে, তেমনই আবার ফিরিয়েও আনতে পারে” – ‘মীরা’ চরিত্রটি বিদায়ে মুখ খুললেন তন্বী

WhatsApp Group Join Now
Telegram Group Join Now
Instagram Group Join Now

Tonni Laha Roy: টেলিভিশনের জনপ্রিয় মেগা ধারাবাহিক ‘চিরদিনই তুমি যে আমার’–এর অন্যতম আকর্ষণ ছিল ‘মীরা’ চরিত্রটি। নেগেটিভ ছাপ নিয়ে শুরু হলেও ধীরে ধীরে দর্শকদের হৃদয়ে জায়গা করে নিয়েছিল এই চরিত্র। কিন্তু হঠাৎ করেই ধারাবাহিক থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে ‘মীরা’ ওরফে অভিনেত্রী তন্বী লাহা রায়(Tonni Laha Roy)-কে। কোনো পূর্বাভাস ছাড়াই প্রিয় চরিত্রের এই বিদায় মেনে নিতে পারছেন না দর্শকরা। সোশ্যাল মিডিয়ায় ক্ষোভ, হতাশা এবং প্রশ্ন সবই একসঙ্গে উথলে উঠেছে।

সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে নিজের বিদায় প্রসঙ্গে মুখ খুলেছেন তন্বী। স্পষ্ট ভাষায় তিনি জানিয়েছেন, এই সিদ্ধান্ত তাঁর নিজের ছিল না। প্রোডাকশন হাউসের তরফ থেকে তাঁকে জানানো হয় যে গল্পের প্রয়োজনে তাঁর চরিত্রটি আর থাকছে না। অর্থাৎ সৃজনশীল মোড়ের দোহাই দিয়ে শেষ হয়ে গেল মিরার যাত্রা।
অভিনেত্রীর কথায়, “মীরা চরিত্রটা আমার কাছে সন্তানের মতো।” তিনি জানান, তিল তিল করে চরিত্রটিকে গড়ে তুলছিলেন তিনি। তাঁর মতে, “একটা নেতিবাচক চরিত্র কীভাবে ইতিবাচক হয়ে ওঠে বা তাঁর ভালোবাসার শেষ পরিণতি কী হয়, সেটা দেখানোর আগেই গল্পটা থেমে গেল।” এই আক্ষেপেই স্পষ্ট, চরিত্রটির আরও অনেক সম্ভাবনা ছিল।
দর্শকদের কাছে ‘কর্ণ’ ও ‘মীরা’র রসায়ন ছিল আলাদা আকর্ষণ। ভক্তরা এই জুটির নাম দিয়েছিলেন ‘মিনকর্ণ’। প্রধান নায়িকা না হয়েও তন্বীর ট্র্যাক যে কতটা জনপ্রিয় হয়েছিল, তা প্রমাণ করে সোশ্যাল মিডিয়ার প্রতিক্রিয়া। অভিনেত্রী জানান, “ফেসবুকে প্রায় ৪০০-র বেশি মানুষ কমেন্ট করে আমাকে ফেরানোর দাবি জানিয়েছেন।”

সাক্ষাৎকারে তিনি দর্শকদের শক্তির কথা উল্লেখ করেন। তন্বীর বক্তব্য, “দর্শকরা চাইলেই কোনো সিরিয়ালে কাউকে যেমন বাদ দিতে পারে, তেমনই আবার ফিরিয়েও আনতে পারে।” তাঁর বিশ্বাস, মেগা ধারাবাহিকে দর্শকদের চাহিদাই শেষ কথা।
হঠাৎ করে চরিত্রটি বাদ যাওয়ার খবর পাওয়া সহজ ছিল না তাঁর কাছে। তন্বী বলেন, “প্রতিদিন আমি ‘মীরা’ হয়ে ক্যামেরার সামনে দাঁড়াতাম।” তাই যখন জানানো হয় গল্পে তাঁর আর প্রয়োজন নেই, তখন স্বাভাবিকভাবেই মন ভেঙে যায়। তিনি স্বীকার করেন, “খুব খারাপ তো লেগেছিলই, মন খারাপের দিক থেকেই ওই পোস্টটা করা।”

আরও পড়ুন:Suvosmita-Sourav: গত আট মাস ধরে একসঙ্গে… বন্ধুত্ব নাকি লুকিয়ে প্রেম? “কাকে কার সঙ্গে মানাচ্ছে, সেটা দর্শকরা বিচার করেন, আমরা বিয়ে করছি…”— গুঞ্জনের মাঝেই সাফ জানালেন সৌরভ – শুভস্মিতা

তবে কারও বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে ক্ষো’ভ দেখাতে চাননি তিনি। তাঁর ভাষায়, “কারও প্রতি কোনো রাগ বা ঘৃণা নেই, অভিমান ছিল।” কিন্তু দর্শকদের ভালোবাসা পেয়ে সেই অভিমান অনেকটাই মুছে গেছে। তিনি বলেন, “মীরা যেটুকু ছিল, সেটুকুর জন্য এত ভালোবাসা পেয়েছে ওই অভিমানটা কোথায় যেন মুছে গেছে।”
কন্ট্রাক্টে থাকা সত্ত্বেও এমন সিদ্ধান্তে তিনি হতাশ হয়েছেন। তন্বীর প্রশ্ন, “কন্ট্রাক্টে থাকা মানে তো আমরা ভাবি অনেকটা সিকিউরড… কিন্তু এখনকার দিনে সেই সিকিউরিটির জায়গাটা কোথায়?” তাঁর অভিজ্ঞতা থেকে উঠে এসেছে শিল্পীদের পেশাগত অনিশ্চয়তার প্রসঙ্গও।

সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করার পর বহু শিল্পী তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন বলে জানান তিনি। “অনেক আর্টিস্ট আমাকে মেসেজ করেছে, বলেছে তাদের সঙ্গেও এটা হয়েছে।” অর্থাৎ গল্পের প্রয়োজনে হঠাৎ চরিত্র বাদ পড়া ইন্ডাস্ট্রিতে নতুন কিছু নয়। তন্বী বলেন, “জানতাম না, জেনে নিলাম।”
মেগা সিরিয়ালের গল্প যে কোনো সময় বদলে যেতে পারে, সেটাও মেনে নিয়েছেন তিনি। তাঁর কথায়, “গল্প আজ এটা, কাল অন্য কিছু হতে পারে সিরিয়াল আফটার অল।” তবুও তাঁর বিশ্বাস, মিরার গল্প এখনও অসম্পূর্ণ ছিল।
কাজের ক্ষেত্রে নিজের দায়বদ্ধতার কথাও তুলে ধরেছেন তন্বী। তিনি জানান, “আমি যখন কন্ট্রাক্টে থাকি, আমি ভেরি মাচ ডেডিকেটেড টু দ্যাট প্রজেক্ট।” অন্য কাজের অফার এলেও বর্তমান প্রজেক্টের প্রতি অনুগত থাকার জন্য ফিরিয়ে দিয়েছেন। এই প্রসঙ্গে তাঁর আক্ষেপ, “লয়্যালটির কোনো দাম নেই।” এবং তিনি প্রশ্ন তোলেন, “আমি যখন লয়্যাল থাকতে পারি, উল্টো দিক থেকেও সেই লয়্যালটি কেন পাব না?”

আরও পড়ুন:Shaheb-Susmita:”যাও, সাইন করো আমার হিরো” – ‘আমার হিরো’ ট্যাগে জোর গুঞ্জন! সাহেব ভট্টাচার্য-র নতুন মেগার প্রোমো শেয়ার করে প্রেমের ইঙ্গিত দিলেন সুস্মিতা দে?

প্রজেক্ট থেকে বিদায়ের সময় সহশিল্পী ও টেকনিশিয়ানদের প্রতিক্রিয়া তাঁকে আবেগপ্রবণ করেছে। তিনি বলেন, “সবাই আমাকে এতটা আপন করে নিয়েছিল।” বিশেষ করে ক্যামেরার পেছনের মানুষরা ফোন করে জানালে যে তাঁকে মিস করবেন, সেটা তাঁকে স্পর্শ করেছে।
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়েও খোলামেলা তন্বী। ছোট পর্দার পাশাপাশি বড়পর্দা এবং ওয়েব সিরিজেও কাজ করতে চান তিনি। তাঁর স্বপ্ন আরও বড়। “ইচ্ছে প্রচুর আছে, কিন্তু যেদিন প্রোডিউসার হব, সেদিন হয়ত সেই ইচ্ছেগুলো মেটাতে পারব।”
ব্যক্তিগত জীবনে একা থাকাকে তিনি স্বাচ্ছন্দ্যের জায়গা বলে মনে করেন। তাঁর কথায়, “বাড়িতে একা থাকতে এমন একটা নেশার মতো হয়ে গেছে।” তবে তিনি এটাও মনে করেন, নিজেকে ভালোবাসা অত্যন্ত জরুরি। “সবার আগে সেলফ লাভ ইজ ইম্পর্টেন্ট।”

জীবনের অভিজ্ঞতা তাঁকে অনেক কিছু শিখিয়েছে। তিনি বলেন, “বন্ধু বলে পিঠপিছে খারাপ কথা বলা বা নিন্দে করা এসব যখন দেখবে, তখন মনে হবে একাই ভালো আছি।” তাই তাঁর মতে, “একা থেকে নিজেকে এক্সপ্লোর করাটা খুব ইম্পর্টেন্ট।”
তবে সবসময় একা থাকাকেও সমর্থন করেন না তিনি। “মাঝে মাঝে বেরোনো, বন্ধুদের সঙ্গে মিটআপ করা এগুলো মনকে ফ্রেশ করে,” বলেই জানান তন্বী।
আবেগ প্রকাশের ক্ষেত্রে তিনি খানিক সংযত। “আমি খুব একটা ইমোশন এক্সপ্রেস করতে পারি না, কিন্তু যারা আমায় চেনে তারা বুঝে যায়।” সোশ্যাল মিডিয়ায় ইতিবাচক বার্তা ছড়াতেই পছন্দ করেন তিনি। ট্রোলিং নিয়ে তাঁর বক্তব্য, “নেগেটিভ মানুষ কমেন্ট করুক, আই অ্যাম লিস্ট বদারড।”
ভালোবাসার মাসে নিজের সম্পর্কের অবস্থান নিয়েও স্পষ্ট তিনি। “একদম সিঙ্গেল এবং হ্যাপিলি সিঙ্গেল।”
সবশেষে দর্শকদের প্রতিই কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন তন্বী। তাঁর কথায়, “আমি কোনো নায়িকা বা হিরো নই। খলনায়িকা হয়েও যে ভালোবাসা পেয়েছি, নায়িকা হয়েও যে পাই সবটাই দর্শকদের জন্য।”
‘মীরা’র হঠাৎ বিদায় ঘিরে বিতর্ক এখনও থামেনি। এখন দেখার, দর্শকদের দাবি কতদূর যায় আর ‘মিনকর্ণ’-এর অসমাপ্ত গল্প কি আবার নতুন করে শুরু হয়?

Leave a Comment