Subhashree Ganguly:”ভয়াবহ পরিস্থিতি, আমি সত্যিই ভীষণভাবে বিধ্বস্ত”- দুবাই থেকে ফিরেই বিস্ফোরক মন্তব্য শুভশ্রীর ! স্ত্রী-পুত্রকে নিতে বিমানবন্দরে হাজির রাজ

WhatsApp Group Join Now
Telegram Group Join Now
Instagram Group Join Now

Subhashree Ganguly: ইরান-ইজরায়েল যু’দ্ধে’র জেরে অশান্ত পরিস্থিতির মধ্যে কয়েক দিন দুবাইয়ে আটকে থাকার পর অবশেষে নিজের শহরে ফিরলেন অভিনেত্রী শুভাশ্রী গাঙ্গুলী(Subhashree Ganguly) । শুক্রবার বিকেলে কলকাতায় নিরাপদে পৌঁছান তিনি। সঙ্গে ছিল তাঁর পুত্র ইউভান। দীর্ঘ উৎকণ্ঠার পর মেয়েকে ও নাতিকে ফিরে পেয়ে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেছে গঙ্গোপাধ্যায় পরিবার। বিমানবন্দরে স্ত্রী ও সন্তানকে নিতে হাজির ছিলেন পরিচালক-বিধায়ক রাজ চক্রবর্তী (Raj Chakraborty)।

কয়েক দিনের সেই অনিশ্চয়তা যেন শেষ পর্যন্ত কাটল শুক্রবারেই। বিদেশের অশান্ত পরিস্থিতি থেকে ফিরেই সংবাদমাধ্যমের সামনে নিজের অভিজ্ঞতার কথা বলতে গিয়ে আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন শুভশ্রী। তাঁর কথায়, “সবাইকে ধন্যবাদ। সকলের ভালোবাসা এবং সমর্থন ওই পরিস্থিতিতে আমাকে এবং আমার পরিবারকে লড়াই করার শক্তি দিয়েছে। সবাইকে ধন্যবাদ। এখনই ওখানকার অভিজ্ঞতা ভাগ করে নিতে পারব না। পরিস্থিতি খুবই ভয়াবহ ছিল এবং আমি সত্যিই ভীষণভাবে বিধ্বস্ত।”
কলকাতা বিমানবন্দরে পৌঁছতেই যেন এক আবেগঘন মুহূর্তের সৃষ্টি হয়। মা ফিরে আসতেই ছুটে গিয়ে তাঁকে জড়িয়ে ধরে ছোট্ট মেয়ে ইয়ালিনি। সেই দৃশ্য দেখে আবেগ চেপে রাখতে পারেননি উপস্থিত অনেকেই। দীর্ঘ কয়েক দিনের দুশ্চিন্তার পর স্ত্রী ও সন্তানকে সামনে পেয়ে স্বস্তি স্পষ্ট ছিল রাজের মুখেও।

ঘটনার সূত্রপাত কয়েক দিন আগেই। ইউভানের স্কুলের পরীক্ষা শেষ হওয়ার পর মায়ের সঙ্গে দুবাই যাওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেছিল সে। ছেলের সেই আবদার রাখতেই অল্প কয়েক দিনের জন্য শহর ছেড়েছিলেন অভিনেত্রী। পরিকল্পনা ছিল সংক্ষিপ্ত ভ্রমণের। কিন্তু সেই সফর যে এমন আতঙ্কের অভিজ্ঞতা হয়ে উঠবে, তা বোধহয় কল্পনাও করেননি শুভশ্রী।
এই সময়েই আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি হঠাৎ উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। ইরান-ইজরায়েল সংঘাতের জেরে আকাশপথে বড়সড় সমস্যা তৈরি হয়। বহু ফ্লাইট বাতিল হয়ে যায় বা স্থগিত থাকে। সেই কারণেই দুবাইয়ে আটকে পড়েন অভিনেত্রী এবং তাঁর পুত্র। পরিস্থিতি আরও উদ্বেগজনক হয়ে ওঠে যখন জানা যায়, তাঁরা যে হোটেলে ছিলেন তার আশেপাশের এলাকাতেই বোমা বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে।

এই তথ্যই জানিয়েছিলেন শুভশ্রীর বাবা দেবপ্রসাদ গঙ্গোপাধ্যায়। তিনি বলেন, যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে আকাশপথ বন্ধ থাকায় তাঁদের ফেরার পথ আটকে যায়। যদিও মা-ছেলে নিরাপদেই ছিলেন, তবুও যতক্ষণ না তাঁদের চোখে দেখেছেন ততক্ষণ পর্যন্ত দুই পরিবারের সদস্যদের উদ্বেগ কমেনি।
এদিকে কলকাতায় বসে পরিস্থিতি সামাল দিতে একাধিক জায়গায় যোগাযোগ করেছিলেন রাজ। তিনি জানান, বিষয়টি নিয়ে তিনি বিধানসভার অধ্যক্ষের মাধ্যমে বিদেশ মন্ত্রকের সঙ্গেও কথা বলেছেন। দু’দেশের সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সঙ্গে যোগাযোগ করে স্ত্রীর নিরাপদ প্রত্যাবর্তনের বিষয়টি নিশ্চিত করার চেষ্টা চালিয়েছিলেন তিনি।

আরও পড়ুন:Probase Ghorkonna:”মায়ের মৃ’ত্যু আর হেসে প্রিয়জনকে জড়িয়ে ধরা সাথে ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিক…ব্লগ দিয়ে ইনকাম করতে এসেছেন…পয়সা রোজগার করাটাই সব?” – শ’ব’দে’হে’র সামনে ক্যামেরা অন! শাশুড়ির মৃ’ত্যু ঘিরে ভ্লগ করে তী’ব্র সমালোচনায় ‘প্রবাসে ঘরকন্না’-র মহুয়া

মূলত ৫ মার্চ দেশে ফেরার কথা ছিল শুভশ্রী এবং ইউভানের। কিন্তু আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির কারণে সেই পরিকল্পনা ভেস্তে যায়। নির্ধারিত ফ্লাইট বাতিল হয়ে যাওয়ায় তাঁদের যাত্রা পিছিয়ে দিতে হয়। পরে বিকল্প ব্যবস্থা করা হয়। শেষ পর্যন্ত মুম্বই হয়ে শুক্রবার কলকাতায় পৌঁছন তাঁরা।
এই পুরো ঘটনাই গত কয়েক দিনে ব্যাপক চর্চার বিষয় হয়ে উঠেছিল। সোশ্যাল মিডিয়াতেও অভিনেত্রীর নিরাপদে ফেরার জন্য প্রার্থনা করেছিলেন তাঁর অনুরাগীরা। অনেকেই নিয়মিত খোঁজ নিচ্ছিলেন তাঁদের অবস্থার। ফলে শুক্রবার শুভশ্রীর দেশে ফেরার খবর সামনে আসতেই স্বস্তি ফিরে আসে ভক্তদের মধ্যেও।
তবে বিদেশে আটকে থাকার সেই অভিজ্ঞতা যে সহজ ছিল না, তা তাঁর কথাতেই স্পষ্ট। যদিও বিস্তারিত কিছু বলতে চাননি তিনি। আপাতত পরিবার নিয়ে সময় কাটাতেই আগ্রহী অভিনেত্রী।
রাজও এদিন সংবাদমাধ্যমকে জানান, এখনও অনেক মানুষ দুবাইয়ে আটকে রয়েছেন। তাঁদের নিরাপদ প্রত্যাবর্তনের জন্য তিনি প্রার্থনা করছেন। তাঁর কথায়, সবাই যেন দ্রুত এবং সুরক্ষিতভাবে নিজেদের দেশে ফিরতে পারেন এই আশাই করছেন তিনি।

আরও পড়ুন:Shankar Ghosal:“নাতি মা’র’ছে আমাকে… ছেলে বলছে ‘হিজ***’! বৃদ্ধদের জন্য ভারত আর নিরাপদ নয়!” – পরিবারের বিরুদ্ধে বিস্ফোরক অভিযোগে ভিডিও বার্তা ৭৫ বছরের অভিনেতা শঙ্কর ঘোষালের

কয়েক দিনের দুশ্চিন্তা, অনিশ্চয়তা এবং আতঙ্কের পর অবশেষে ঘরে ফিরেছেন শুভশ্রী ও তাঁর পুত্র। পরিবার, অনুরাগী এবং ঘনিষ্ঠদের কাছে এ যেন এক বড় স্বস্তির খবর। যদিও সেই অশান্ত সময়ের স্মৃতি এখনও তাজা। আর সেই কারণেই হয়তো দেশে ফিরে প্রথম প্রতিক্রিয়াতেই অভিনেত্রীর মুখে শোনা গেল একটাই কথা সেই অভিজ্ঞতা ছিল “ভয়াবহ” এবং তিনি এখনও “ভীষণভাবে বিধ্বস্ত।”
তবে আপাতত সবকিছু পেছনে ফেলে পরিবারের সঙ্গে সময় কাটাতেই চাইছেন তিনি। আর গঙ্গোপাধ্যায় পরিবারও স্বস্তি পেয়েছে কারণ দীর্ঘ অপেক্ষার পর অবশেষে ঘরে ফিরেছেন তাঁদের প্রিয়জন।

Leave a Comment