Ankush Hazra: টেলিভিশনের জনপ্রিয় নৃত্য রিয়্যালিটি শো ‘ডান্স বাংলা ডান্স’(Dance Bangla Dance)-এর মঞ্চে যার চঞ্চলতা এবং প্রাণবন্ত উপস্থিতি দর্শকদের মন জয় করেছিল, সেই ছোট্ট রোদ্দুর এখন হাসপাতালের বিছানায়। ফুসফুসে গুরুতর সংক্রমণের কারণে তাকে কলকাতার একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করতে হয়েছে। চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানে বর্তমানে তার চিকিৎসা চলছে। পরিস্থিতি প্রথমে অত্যন্ত সংকটজনক হলেও ধীরে ধীরে কিছুটা উন্নতির ইঙ্গিত মিলছে বলে জানিয়েছেন অভিনেতা অঙ্কুশ হাজরা, যিনি খবর পেয়ে শিশুটিকে দেখতে হাসপাতালে ছুটে যান।
রোদ্দুরের অসুস্থতার খবর প্রকাশ্যে আসতেই বিনোদন জগৎ এবং দর্শকদের মধ্যে উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে। ‘ডান্স বাংলা ডান্স’-এর মঞ্চে নিজের পারফরম্যান্সের পাশাপাশি চঞ্চল স্বভাবের জন্যও পরিচিত ছিল এই শিশুশিল্পী। সেই রোদ্দুরকে আইসিইউতে ভর্তি অবস্থায় দেখে অনেকেই আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েছেন।
রোদ্দুরের শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে সংবাদমাধ্যমকে বিস্তারিত জানান অভিনেতা অঙ্কুশ হাজরা(Ankush Hazra)। তিনি বলেন, রোদ্দুরকে যখন প্রথম হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়েছিল, তখন তার অবস্থা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক ছিল। বর্তমানে অবশ্য আগের তুলনায় অনেকটাই উন্নতি হয়েছে। অঙ্কুশের কথায়, “যে অবস্থায় আনা হয়েছিল তার থেকে এখন অনেক ভালো আছে। খুবই খারাপ অবস্থায় তাকে হাসপাতালে আনা হয়েছিল।”
অঙ্কুশ জানান, হাসপাতালে যাওয়ার আগেই তিনি রোদ্দুরের সঙ্গে ভিডিও কলে কথা বলেছিলেন। তখনই শিশুটি তাকে দেখতে চাওয়ার কথা জানিয়েছিল। সেই মুহূর্তের কথা স্মরণ করে অঙ্কুশ বলেন, “আমার কাছে এখনও ওর পাঠানো ভয়েস নোটটা আছে। ও বলেছিল, ‘অঙ্কুশ আঙ্কেল তুমি কখন আসবে?’”
হাসপাতালে গিয়ে রোদ্দুরকে দেখার পর অভিনেতা আরও বলেন, তাকে দেখেই শিশুটির মুখে হাসি ফুটে ওঠে। “যখনই আমাকে দেখছে হাসছে। ওর বাবা-মা বলছিলেন যে এতদিন পরে এই প্রথম ওকে এভাবে হাসতে দেখা গেল,” বলেন অঙ্কুশ।
এই মুহূর্তটি অঙ্কুশের কাছে অত্যন্ত আবেগঘন ছিল। কারণ তিনি রোদ্দুরকে অনেকদিন ধরেই চেনেন এবং শুটিং সেটে তার সঙ্গে সময় কাটিয়েছেন। সেই স্মৃতির কথাও তিনি তুলে ধরেন। অঙ্কুশ জানান, রোদ্দুর শুটিং সেটে এতটাই চঞ্চল ছিল যে অনেক সময় তার জন্য শুটিং থামিয়ে দিতে হতো।
“ওর জন্য অর্ধেক শুটিং করা যেত না। ক্যামেরা বন্ধ করে দিতে হতো, আবার রিটেক করতে হতো। সেটে ওর এনার্জি এতটাই বেশি ছিল,” বলেন অভিনেতা। সেই প্রাণবন্ত শিশুটিকে এখন অসুস্থ অবস্থায় হাসপাতালে দেখতে তার খুবই খারাপ লাগছে বলেও জানান তিনি।
চিকিৎসার বর্তমান পরিস্থিতি নিয়েও কথা বলেন অঙ্কুশ। তার কথায়, ইতিমধ্যে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা করানো হয়েছে। সেই রিপোর্টের ওপর ভিত্তি করেই চিকিৎসকরা পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেবেন। তিনি আশা প্রকাশ করেন যে রোদ্দুর দ্রুত সুস্থ হয়ে উঠবে।
অঙ্কুশ বলেন, “ডাক্তাররা কিছু টেস্ট দিয়েছেন। সেই রিপোর্টের ভিত্তিতে পরবর্তী পদক্ষেপ ঠিক করা হবে। আমরা সবাই চাই ও খুব দ্রুত সুস্থ হয়ে উঠুক।”
শুধু মানসিক সমর্থন নয়, চিকিৎসার খরচের বিষয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন অঙ্কুশ। তিনি জানান, দীর্ঘদিন ধরে হাসপাতালে চিকিৎসা চললে খরচ অনেকটাই বেড়ে যেতে পারে, যা রোদ্দুরের পরিবারের পক্ষে সামলানো কঠিন হয়ে দাঁড়াতে পারে।
এই প্রসঙ্গে তিনি সকলের কাছে সাহায্যের আবেদনও জানিয়েছেন। অঙ্কুশ বলেন, “শেষ পর্যন্ত বিলটা যে কত হবে সেটা এখনও বলা যাচ্ছে না। কিন্তু যেটা হবে, সেটা ওদের পরিবারের পক্ষে খুব সহজ হবে না। তাই আমি অনুরোধ করব সবাই যেন এগিয়ে এসে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেন।”
অঙ্কুশ আরও জানান, ‘ডান্স বাংলা ডান্স’-এর পুরো টিম এই কঠিন সময়ে রোদ্দুর এবং তার পরিবারের পাশে রয়েছে। সবাই মিলে শিশুটির দ্রুত আরোগ্য কামনা করছেন।
অন্যদিকে রোদ্দুরের পরিবার ছেলের অসুস্থ হয়ে পড়ার পুরো ঘটনাটা বিস্তারিতভাবে তুলে ধরেছেন। জানা যায় প্রায় দশ দিন আগে হঠাৎ করেই রোদ্দুরের শরীর খারাপ হতে শুরু করে। সেদিন স্কুল থেকে ফিরে সবকিছু স্বাভাবিকভাবেই চলছিল। পরিবার সূত্রে জানা যায়, স্কুল থেকে ফিরে রোদ্দুরের নরমালি যেমন রুটিন থাকে, খাওয়া-দাওয়া সব করেছিল। রাতে ঘুমিয়েও পড়েছিল। কিন্তু রাত দেড়টার সময় হঠাৎ করেই ওর খুব জ্বর আসে।
প্রথমদিকে চিকিৎসকরা বিষয়টিকে সাধারণ ভাইরাল জ্বর বলেই মনে করেছিলেন। আবহাওয়া পরিবর্তন এবং টনসিলের সমস্যার কারণে এমনটা হতে পারে বলেও জানান তারা। কিন্তু কয়েকদিন পরেও যখন জ্বর কমছিল না, তখন পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে। রোদ্দুরের প্রবল কাশি শুরু হয়। সেই কাশির তীব্রতা এতটাই ছিল যে তা সহ্য করা কঠিন হয়ে পড়ে।
ডাক্তাররা অ্যান্টিবায়োটিক দিলেও তাতে খুব একটা ফল পাওয়া যায়নি। এরপর রক্ত পরীক্ষা করানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সেই পরীক্ষাতেই ধরা পড়ে যে রোদ্দুরের রক্তে হিমোগ্লোবিনের মাত্রা অত্যন্ত কমে গেছে। এরপর পরিস্থিতি দ্রুত অবনতি হতে থাকে। রোদ্দুরের পরিবার জানায় ছেলের ফুসফুসের ভেতরে গুরুতর সমস্যা দেখা দিয়েছে। রোদ্দুরের লাংসের মধ্যে জল এবং পুঁজ জমেছে। পুঁজ জমার পরে ওর একদিকের লাংসটা একটু ড্যামেজ হয়ে গেছে।
এই পরিস্থিতি দেখে স্থানীয় চিকিৎসকরা দ্রুত একজন বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়ার কথা বলেন। সেই অনুযায়ী রোদ্দুরকে দ্রুত কলকাতার অ্যাপোলো হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।
বর্তমানে চিকিৎসকেরা ড্রেনের মাধ্যমে ফুসফুসে জমে থাকা পুঁজ বের করার চেষ্টা করছেন। পাশাপাশি একটি বায়োপসি পরীক্ষাও করা হয়েছে, যার রিপোর্ট এখনও পাওয়া যায়নি।
পরিবার থেকে জানা যায়, বায়োপসির রিপোর্ট দুই-তিন দিনের মধ্যে আসবে। তখনই বোঝা যাবে অপারেশন করতে হবে কি না, নাকি ওষুধের মাধ্যমেই কমে যাবে।
এই কঠিন সময়ে ‘জি বাংলা ড্যান্স ডান্স জুনিয়র’-এর সঙ্গে যুক্ত অনেকেই রোদ্দুরের পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছেন। শো-এর টিমের সদস্যরা নিয়মিত যোগাযোগ রাখছেন এবং সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন।
রোদ্দুরের পরিবার জানায়, ডিরেক্টর থেকে শুরু করে ফ্লোরে যারা কাজ করতেন প্রত্যেকেই ফোন করেছেন। সবাই খুব সাপোর্ট করছে।
তারা আরও জানান, অভিনেতা অঙ্কুশ হাজরাও নিজে হাসপাতালে এসে রোদ্দুরকে দেখে গিয়েছেন, যা তাদের কাছে বড় মানসিক শক্তি জুগিয়েছে। পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এখন চিকিৎসকদের নির্দেশ মেনেই সবকিছু করা হচ্ছে এবং তারা আশাবাদী যে রোদ্দুর দ্রুত সুস্থ হয়ে উঠবে।
সাক্ষাৎকারের শেষে পরিবার এবং ঘনিষ্ঠজনেরা সকলের কাছে অনুরোধ করেছেন যেন সবাই রোদ্দুরের জন্য প্রার্থনা করেন। ছোট্ট এই প্রতিভাবান শিশুটি যেন দ্রুত সুস্থ হয়ে আবার আগের মতো হাসিখুশি জীবনে ফিরে আসতে পারে এই কামনাই করছেন সকলেই।