Rashmika Mandanna:বিয়ের আনন্দের রেশ এখনও কাটেনি। ঠিক এমন সময়েই সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া একটি পুরানো অডিও ক্লিপ ঘিরে নতুন বিতর্কে জড়িয়ে পড়লেন জনপ্রিয় দক্ষিণী অভিনেত্রী রাশ্মিকা মন্দনা (Rashmika Mandanna)। সম্প্রতি রাজকীয় আয়োজনে উদয়পুরে বিয়ের আসরে বসেছিলেন তিনি ও অভিনেতা বিজয় দেভরাকোনডা (Vijay Deverakonda)। কিন্তু নবদম্পতির জীবনের নতুন অধ্যায় শুরু হওয়ার ঠিক পরেই সামনে আসে একটি অডিও ক্লিপ, যেখানে শোনা যাচ্ছে অভিনেত্রীর মা সুমন মন্দনা (Suman Mandanna)-র কণ্ঠস্বর বলে দাবি করা হচ্ছে। আর সেই অডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হতেই তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন অভিনেত্রী নিজেই।
জানা গিয়েছে, কয়েকদিন আগেই রাজস্থানের ঐতিহাসিক শহর উদয়পুর (Udaipur)-এ জমকালো অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন বিজয় ও রশ্মিকা। ঘনিষ্ঠ আত্মীয়-স্বজন ও বন্ধুদের উপস্থিতিতে সাতপাকে বাঁধা পড়েন এই তারকা জুটি। তাঁদের নতুন জীবনের শুরু নিয়ে অনুরাগীদের মধ্যে ছিল প্রবল উচ্ছ্বাস। কিন্তু সেই আনন্দঘন মুহূর্তের মাঝেই আচমকাই সামনে আসে একটি পুরনো অডিও ক্লিপ, যা মুহূর্তের মধ্যেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে এবং শুরু হয় তুমুল আলোচনা।
ভাইরাল হওয়া সেই অডিওকে ঘিরে বিভিন্ন মহলে ভিন্ন ভিন্ন দাবি সামনে এসেছে। কিছু সংবাদমাধ্যমের মতে, এটি নাকি একটি পুরনো সাক্ষাৎকার থেকে নেওয়া অংশবিশেষ। আবার অন্য একটি অংশের দাবি, এটি আসলে অভিনেত্রীর মা এবং পরিবারের কোনও সদস্যের মধ্যে হওয়া ব্যক্তিগত কথোপকথনের রেকর্ডিং। সেই কথোপকথনের ছোট একটি অংশই নাকি কেটে নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। অডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পরেই বিষয়টি নিয়ে প্রকাশ্যে প্রতিবাদ জানান রশ্মিকা। নিজের অফিসিয়াল সোশ্যাল মিডিয়া হ্যান্ডেলে তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানান, যারা এই কাজের সঙ্গে যুক্ত তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এই বিতর্কের পেছনে উঠে এসেছে অভিনেত্রীর অতীত সম্পর্কের প্রসঙ্গও। ২০১৭ সালে অভিনেতা রক্ষিত শেট্টি (Rakshit Shetty)-র সঙ্গে বাগদান সম্পন্ন হয়েছিল রশ্মিকার। সেই সময় তাঁদের সম্পর্ক নিয়ে বেশ আলোচনা হয়েছিল চলচ্চিত্র মহলে। তবে বাগদানের প্রায় এক বছরের মধ্যেই সেই সম্পর্কের ইতি টানেন দু’জন। বর্তমানে যে অডিও ক্লিপটি ভাইরাল হয়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে, সেখানে নাকি রশ্মিকা ও রক্ষিতের বিচ্ছেদের কারণ নিয়ে অভিনেত্রীর মাকে কথা বলতে শোনা যায়। সেই কথোপকথনেই নাকি সম্পর্ক ভাঙনের নানা দিক নিয়ে আলোচনা উঠে এসেছে বলে সোশ্যাল মিডিয়ায় দাবি করা হচ্ছে।
এর আগেও নানা সূত্রে জানা গিয়েছিল, রক্ষিত শেট্টির সঙ্গে বিয়ের পর রশ্মিকাকে নাকি অভিনয় থেকে সরে দাঁড়াতে চাপ দেওয়া হয়েছিল। এমন অভিযোগও শোনা যায় যে, তাঁকে কাজ ছাড়তে বাধ্য করা হয়েছিল। পরবর্তীকালে এই প্রসঙ্গে অভিনেত্রীর মাকে নাকি ক্ষমা চাইতে বলা হয়েছিল বলে খবর প্রকাশিত হয়। তবে তিনি নাকি সেই দাবি মানেননি। অন্যদিকে, ২০১৮ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত জনপ্রিয় ছবি ‘গীতা গোবিন্দম’ (Geetha Govindam)-এ অভিনয়ের সময় কিছু অন্তরঙ্গ দৃশ্য নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। অনেকের মতে, সেই সময় থেকেই রশ্মিকা ও রক্ষিতের সম্পর্কের মধ্যে দূরত্ব তৈরি হতে শুরু করে। শেষ পর্যন্ত দু’জনেই আলাদা হওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।
সম্প্রতি ভাইরাল হওয়া অডিও ক্লিপটি সেই পুরানো সম্পর্কের প্রসঙ্গকে নতুন করে সামনে এনে দিয়েছে। তবে রশ্মিকার দাবি, এই অডিও ক্লিপটি ইচ্ছাকৃতভাবে ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে এবং এর পেছনে নির্দিষ্ট উদ্দেশ্য রয়েছে। অভিনেত্রী জানিয়েছেন, গত ২৪ ঘণ্টার মধ্যে কিছু ব্যক্তিগত পেজ থেকে এই অডিওটি ব্যাপকভাবে প্রচার করা হয়েছে। বিষয়টি সামনে আসার পর তিনি সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি দীর্ঘ পোস্ট করে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন।
সেই পোস্টে রশ্মিকা লিখেছেন, মানুষ কতটা নিচে নামতে পারে তা ভেবে তিনি বিস্মিত। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, যে সমস্ত ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে এই অডিও প্রকাশ করা হয়েছে, তাদের প্রত্যেকের বিরুদ্ধেই যথাযথ আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এতদিন তিনি অনেক আক্রমণ সহ্য করেও নীরব থেকেছেন বলেও জানিয়েছেন অভিনেত্রী। নিজের কাজ এবং ইতিবাচক বার্তার মাধ্যমেই সব কিছুর জবাব দেওয়ার চেষ্টা করেছেন তিনি। কিন্তু এবার কিছু মানুষ ইচ্ছাকৃতভাবে তাঁকে আঘাত করছে বলে মনে করছেন রশ্মিকা, আর সেই কারণেই এবার আর নীরব থাকবেন না বলেও জানিয়েছেন।
নিজের পোস্টে তিনি আরও উল্লেখ করেছেন যে, প্রায় আট বছর আগের একটি ব্যক্তিগত কথোপকথনকে এখন নতুন করে সামনে আনা হয়েছে। তাঁর দাবি, সেই কথোপকথনটি সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের অজান্তেই রেকর্ড করা হয়েছিল। শুধু তাই নয়, কথোপকথনের একটি ছোট অংশকে প্রসঙ্গের বাইরে এনে প্রচার করা হচ্ছে, যাতে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়। অভিনেত্রীর মতে, এই ধরনের পদক্ষেপ তাঁর পরিবারের গোপনীয়তার ওপর গুরুতর আঘাত। পাশাপাশি যাঁদের সঙ্গে তাঁর ব্যক্তিগত সম্পর্ক রয়েছে অথচ এই ঘটনার সঙ্গে যাঁদের কোনও যোগ নেই, তাঁদেরও অস্বস্তিকর পরিস্থিতির মুখে ফেলছে এই ঘটনা।
রশ্মিকা তাঁর পোস্টে স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, এই ঘটনা শুধু একটি গুজব নয়, বরং এটি গোপনীয়তা লঙ্ঘনের গুরুতর উদাহরণ। পাশাপাশি তিনি অভিযোগ করেছেন, এই অডিওর মাধ্যমে বিভ্রান্তিকর ও মানহানিকর তথ্য ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে। তাঁর মতে, কারও ব্যক্তিগত জীবনের একটি অংশকে বিকৃতভাবে তুলে ধরে বিতর্ক তৈরি করা অত্যন্ত দুঃখজনক।
পোস্টের শেষ অংশে অভিনেত্রী বলেন, জীবনে এগিয়ে যাওয়ার সময় মানুষ যখন নতুনভাবে নিজেকে গড়ে তোলার চেষ্টা করে এবং ইতিবাচক কাজের মাধ্যমে সমাজে ভালো বার্তা ছড়িয়ে দিতে চায়, তখন কিছু মানুষ অন্যের মর্যাদা ও মানসিক শান্তির মূল্যেই বিতর্ক তৈরি করতে থাকে। গত আট বছর ধরে তিনি বহু আক্রমণের মুখোমুখি হয়েছেন বলেও জানিয়েছেন রশ্মিকা। তবে এতদিন সেই আক্রমণগুলো তাঁর ব্যক্তিগত পরিসরেই সীমাবদ্ধ ছিল বলে তিনি নীরবতা বজায় রেখেছিলেন। কিন্তু এবার পরিস্থিতি ভিন্ন, কারণ এই ঘটনার মাধ্যমে তাঁর পরিবারকেও টেনে আনা হয়েছে।
এই কারণেই এবার আর চুপ করে থাকার সিদ্ধান্ত নেননি অভিনেত্রী। স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দিয়েছেন, যারা এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত তাদের বিরুদ্ধে আইনের পথে হাঁটতেই তিনি প্রস্তুত। ফলে একটি পুরনো অডিও ক্লিপকে ঘিরে নতুন করে যে বিতর্ক তৈরি হয়েছে, তা এখন কোন দিকে মোড় নেয় সেদিকেই তাকিয়ে রয়েছে বিনোদন জগত ও অনুরাগীরা।