Nikita Das:কিছুদিন আগে দ্বিতীয় বিয়ের খবর শেয়ার করে নেন সুস্মিতা রায়। আর তারপরেই নেটিজেনদের একাংশ সায়কের দাদা সব্যসাচী চক্রবর্তীকে নিয়ে কটাক্ষ করতে শুরু করেন। এমনকী, একাংশ পুরানো ফোটোতে গিয়ে একটি মেয়ের সঙ্গে সব্যসাচীর ছবিতে নোংরা কমেন্ট করেন। এই পরিস্থিতিতে রীতিমতো রেগে লাল সায়ক।
মিষ্টি অর্থাৎ অভিনেত্রী নিকিতা দাস সব্যসাচীর সঙ্গে একটি ছবি শেয়ার করেন যেখানে দেখা যাচ্ছে তাঁর থুতনি ধরে একটা আদুরে ভঙ্গিতে ছবি তুলছেন তাঁরা। কিন্তু অনেকেই তাঁদের সম্পর্কের ভুল ধারণা করে কটাক্ষ করতে থাকেন। যদিও সায়ক জানিয়েছিলেন,” তাঁর কাছে এই মিষ্টি যেমন ‘বন্ধু’, তেমন তাঁর দাদার কাছে তিনি ‘বোন’।” এবার এই বিষয়ে মুখ খুললেন অভিনেত্রী নিকিতা দাস নিজেই।
ফেসবুকে একটি ভিডিওর মাধ্যমে তিনি তাঁর সমস্ত ক্ষোভ উগরে দেন। তিনি জানান, “আমি নিকিতা দাস। আমার ডাক নাম মিষ্টি, যেই নামে অনেকে চেনে আমাকে। আমার নিজের সম্পর্কের কোনো ভাই, দাদা, বোন নেই। আমার হাজরায় বাড়ি, জয়েন্ট ফ্যামিলি আমাদের। যেটা হয়ত আমার যারা পুরানো ভিডিও দেখেছ, জানো হয়ত। আমি দেখতে পাচ্ছি সারা ফেসবুক জুড়ে এখন তোলপাড় কাণ্ড চলছে। নোংরামি চলছে। সেটা হচ্ছে ‘দাদাই’কে নিয়ে। দাদাই বলছি কারণ দাদাই হচ্ছে আমার কাছে দাদার মতো। ২০১৪-২০১৫ সাল থেকে, যেদিন থেকে আমি অভিনয় জগতে এসেছি, আমার সায়কের সাথে আলাপ। আমার বন্ধু হয়। আর দাদাইকে আমার প্রথম থেকেই একটা দাদা বলেই মনে হয়েছিল। তাঁকে আমি কোনোদিন ‘সব্যসাচী দা’ বলে ডাকিনি ‘দাদাই’ বলে আগাগোড়া দেখে এসেছি।
দুদিন আগে আমার দাদাইয়ের সাথে পোস্ট করা একটি ছবি, সেই ছবির মধ্যে নোংরা নোংরা মনে লিমিট ক্রস করে যাওয়া কমেন্টগুলো সেটা আজ আমি দেখতে পাচ্ছি। চারিদিকে একটা নোংরামি হচ্ছে। এই যে যারা জানোয়ারের দলগুলো রয়েছে, যারা মাথায় গু নিয়ে বসে আছো। যাদের নিজেদের ঘরের মধ্যেই সবার সাথে গুয়ের মতো সম্পর্ক, তারা যে নোংরামো জানোয়ারপনাগুলো করছ, সেগুলো বন্ধ কর। কারণ তোমাদের জীবনে যদি এন্টারটেইনমেন্টের অভাব থাকে বা তোমাদের জীবনে যদি এন্টারটেইনমেন্ট এটা হয়ে থাকে। নিজেদের সম্পর্কের কোনো তালমাতাল নেই। তাদের কাছে এইগুলো খুব আনন্দের হতে পারে। আমার কাছে এটা কোনো এন্টারটেইনমেন্টের বিষয় নয়। বিশেষ করে মেয়ে হিসেবে। আর মেয়েরাই মেয়েদের সবথেকে বড় শত্রু হয়। হাজার জন আমার কমেন্ট বক্সে এসে নোংরা কমেন্ট করছে। ‘কচি মাল পেয়ে গেছে’, এটা-ওটা, ‘বিয়ে হয়ে গেছে অনেক শুভেচ্ছা’, ‘শাড়ির সাথে ঘড়ির রং মিলে গেছে।’ এটা কি ধরনের নাটক? আমি কিন্তু কাউকে বলতে বাধ্য নই যে আমার দাদার সাথে ছবি কেমন লাগছে, আমি যদি রাস্তায় বেরোই দাদার সাথে বা দাদাইয়ের সাথে, আমাকে কপালে ট্যাগ লাইন লিখে বেরোতে হবে। ছেলে-মেয়ে বেরোলেই তাকে অন্য একটা নাম দেওয়া হয়। সেটা আপনাদের মাথার মধ্যে গু আছে। আপনাদের জীবনে সত্যি কোনো এন্টারটেইনমেন্ট নেই না? কালকে থেকে অন্যদিকে একটা জিনিস চলছে বলে, তাই জন্য আপনারা ভাবলেন কি করা যায়! এখানে এই নোংরামিটা করা যাক! সবকিছুর একটা লিমিট আছে। এর আগেও আমি এটা নিয়ে কথা বলেছি।”
তিনি আরও জানান, “কিছুদিন আগে আমার মাকে নিয়ে যখন নোংরা কথা বলা হয়েছিল, তখন আমি বলেছি এই ধরনের নাটকের জিনিসপত্র করতে আমি বাধ্য নই। আমি কারোর কাছে জবাবদিহি করতে বাধ্য নই। আমি ভ্লগ কোনোদিন করতাম না। আমি এই এক বছর ধরে ভ্লগ করছি। যারা আমাদেরকে আগে থেকে চেনেন ধরুন সায়ক, এরা ফেসবুকের আগে ইউটিউবে ভ্লগ করত। একটা পোস্টের মধ্যে একটা ছবি তুললে বোঝা যায় সেই ছবিটা কিরকম! কোনো কপল ছবি নাকি স্নিগ্ধতার ছবি। সবাই কিন্তু আপনার আমার সবকিছু বুঝতে পারছেন। একটা ছবি দেখার আগে না মানুষ প্রথমে কমেন্ট বক্স দেখে যে কি কি কমেন্ট এসেছে! প্রচুর কমেন্ট লেখা আছে ভাই-বোনকে ভালো লাগছে। কিন্তু আপনারা সেই কমেন্টে ফোকাস করেননি। আপনাদের চাই হচ্ছে এন্টারটেইনমেন্ট। আপনাদের চাই হচ্ছে কাদা ছড়ানো, নোংরামো। সেই নোংরামোগুলো নিজেদের ঘরে গিয়ে করুন। এখানে আমার প্রোফাইলে এসে হাগবেন না। আর সম্পর্ককে নিয়ে নোংরামোর জায়গায় পৌঁছাবেন না। সবটাই আপনারা জানেন কিন্তু, সায়করা ইউটিউবের সময় থেকে ভ্লগ করছে। সেই সময় থেকে সবাই সবকিছু জানে। আর আমি এই কিছুদিন আগে দাদাইয়ের যখন জন্মদিন হয়েছিল, তখন আমি ভ্লগ বানিয়েছিলাম। আপনারা চান নাটক করতে। সবাই আপনাদের মতো কুকুরের জাত হয়না। আমি কথাটা বলতে বাধ্য হলাম। কারণেই জিনিসটা একটা বিচ্ছিরি জায়গায় চলে গেছে।
আর আমরা সবাই প্রত্যেকটা মুহূর্তে জবাবদিহি করতে বাধ্য নই। আপনারা লোকের পেজ থেকে ছবি তুলে নোংরামির জায়গায় নিয়ে যেতে পারেন না। সেটা কিন্তু ক্রাইমের মধ্যে পড়ে। আর এই জানোয়ারগিরিগুলো করা বন্ধ করুন। আমি যেন এগুলো আর না দেখি। যদি তুমি এটা একটা বাজে জায়গায় গেছে তাই জন্য আজ আমি এরকমভাবে কথা বলতে বাধ্য হচ্ছি। একটা মেয়ে বলেই তাকে একটা নাম দেওয়া যায়! একটা দাদা-বোনের সম্পর্কে এসে বলা যায়! আমাদের নিজেদের পরিবার আছে তাদের কি ট্রমা হচ্ছে এইসব শুনে? আপনাদের মজা লাগছে। কিন্তু তার জন্য বাড়ির মানুষের ক্ষতি হয়েছে যেতে পারে। ছিঃ আপনাদের লজ্জা লাগে না?”