“আমি ইউ-টার্ন নিই না! সত্যিই অত রাজনীতি বুঝি না, নিজেকে রাজনীতিবিদও বলি না…” দল বদল জল্পনায় সাফ জবাব বাবুলের! দলত্যাগীদের ‘ইঁদুর’ বলে তোপ মদন মিত্রের!

WhatsApp Group Join Now
Telegram Group Join Now
Instagram Group Join Now

তৃণমূলের হারের পরে একে একে বদলে যাচ্ছে তৃণমূল সমর্থকদের সাথে দলের সমীকরণ। এই বদলের আবহাওয়ায় আবার কি দল বদল করতে পারেন গায়ক বাবুল সুপ্রিয়?
উত্তরে তিনি বলেন, “ওঁরা কি একদম মালা নিয়ে বসে আছে? আমি ফিরলেই আমাকে নিয়ে নেবে? আসল কথাটা বোঝার চেষ্টা করো। আমি ওদের মুখের ওপর না বলে, দল ছেড়ে, এমপি পদ ছেড়ে দিয়ে চলে এসেছি। তো সেখানে ওঁরা মালা নিয়ে বসে আছে যে, এসো? কাজেই অবান্তর কথার জবাব দিয়ে তো কোনো লাভ নেই।”
প্রসঙ্গত ২০১৮ সালে গেরুয়া শিবিরে যোগ দিয়েছিলেন গায়ক। পরে, ২০২১-এ সেই শিবির ছেড়ে গেরুয়ার সবচেয়ে বড় প্রতিদ্বন্দ্বী সবুজ শিবিরে যোগ দিয়েছিলেন। এবার সেটা নিয়েই সোশ্যাল মিডিয়াতে চর্চা হচ্ছে যে উনি নাকি আপসোসে ভুগছেন।

সেই কথার উত্তরে কিছুদিন আগেই নিজের সমাজমাধ্যমে নিজের সুদীর্ঘ বক্তব্য রাখেন গায়ক। তিনি বলেন, “না রে ভাই। ভুল করছেন। আমি একেবারেই এটা ভাবছি না। আমি আমার সিদ্ধান্তে অটল থাকি এবং কখনই ইউ-টার্ন নিই না। যেমন স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড-এর চাকরি ছেড়ে যখন মুম্বাই গিয়েছিলাম। তখন বহুদিন কোনো আয় ছিল না সবাই বলেছিল ফিরে আসতে। এমনকি আমার বাবা-মাও। কিন্তু ফিরিনি!যাইহোক, আপনি এটা আমাকে বলছেন এটাই যথেষ্ট! আর সত্যি বলতে, আসুন আমরা কোনো মোহের মধ্যে না থাকি! আমি বিজেপি-তেই বা ফিরব কেন আর বিজেপি-ই বা আমাকে চাইবে কেন? তাদের আমাকে প্রয়োজন নেই। আমারও তাদের প্রয়োজন নেই!”

সংবাদমাধ্যমের থেকে এই বিষয়ে ফের প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, “আমার মনে হয়েছিল যেটা লিখছে সবাই, আমার নাকি প্রচণ্ড আপসোস হচ্ছে! এরকম কিছু! সেটা ভুল। সেই জন্যই আমি, ফেসবুকে লিখি না কখনও। তো আজকে আমার মনে হলো যে ওটা লেখা উচিত।”
গায়কের কাছে গানের থেকে বড় আবেগ আদানপ্রদানের মাধ্যম আর কিছুই নেই। তাই তিনি গান গাইলেন। তিনি সাথে তাঁর হাত ধরে থাকা মেয়ের দিকে ইঙ্গিত করে বলেন, “মেয়ে নিজে এসেছে সঙ্গে।”

শুভেন্দু অধিকারীর মুখ্যমন্ত্রী হওয়া নিয়ে তিনি বলেন, “খুব ভালো কথা! ওঁ সাংবিধানিক পদে যিনি বসেছেন অবশ্যই তাঁকে স্বাগত জানাব। আর এর কেউ আমকে ব্যক্তিগতভাবে আক্রমণ করতে পারবে না। শুভেন্দু অধিকারী ব্যক্তিগতভাবে বলেছে যে আমার সাথে খুব ভালো বন্ধুত্ব। সেই ভিডিয়ো এখনও আমার ফেসবুকে ঘুরছে। শমীকদা বলেছে যে বাবুল কোনোদিন কোনো কালো কাজ করেনি। সেটাও ঘুরছে। মানুষ যেটা বলছে দুঃখ, কষ্ট, কিছু থাকলে আমার আবেগটা আমার কাছে ছেড়ে দিন না! ছাড়া হয়নি সেই জন্যই দু কথা লিখেছি”, স্পষ্ট বক্তব্য গায়কের। প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর বামেদের সাথে জোট বাঁধার আহ্বানকে নিয়ে প্রশ্ন কথা হলে, তিনি বলেন, “আমি সত্যিই অত রাজনীতি বুঝি না। গান বাজনা করি আর আমি নিজেকে রাজনীতিবিদও বলি না। আমি পাবলিক রিপ্রেজেন্টেটিভ বলতে ভালোবাসি। তো অত বুঝি না বাম রাম সব হলো। আসল ব্যাপার হচ্ছে মনটাকে পরিষ্কার রেখে এগিয়ে চলো, আমার মনে হয় রাস্তা সবসময়ই আছে।”

পাশাপাশি এই একজোট হওয়ার প্রসঙ্গে তৃণমূল প্রার্থী মদন মিত্র বলেন, “সারা ভারতবর্ষের সমস্ত ফ্যাসিবাদী, সাম্রাজ্যবাদী বিরোধী শক্তিকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার জন্য আহ্বান জানানো হয়েছে। তাতে যারা সাড়া দেবেন তারা সবাই আছেন।” তৃণমূলের অনেক নেতারা পদ্মর সুনাম গাইছেন। এই প্রসঙ্গে মদন বলেন, “কে, কি করছেন তার দায়িত্ব তো আমার নয়। আমি বলতে পারব না। যা করার দলের নেতৃত্ব আছে, তবে এইটুকুনি আমি শুধু বলব, যাঁরা দলের খেয়েছেন দলের পড়েছেন, দলের জন্য নেতা হয়েছেন, দলের জন্য মন্ত্রী হয়েছেন, জাহাজ ডুবছে মনে করলেই প্রথম যাঁরা দৌড়ে পালায়, তাঁরা হচ্ছে জাহাজের ভিতরে থাকা ইঁদুরগুলো।”

Leave a Comment