Maitreyee Mitra:’রং বদলাচ্ছে, গিরগিটি…’ রংবদলু তকমা থেকে ‘চটি চাটা’ বিতর্ক, আমি শিল্পীদের একটা ক্ষুদ্র অংশ হওয়ার কারণে সেই দায়টা আমাকেও নিতে হবে!…” নেটিজেনদের সমালোচনায় বিস্ফোরক অভিনেত্রী মৈত্রেয়ী মিত্র

WhatsApp Group Join Now
Telegram Group Join Now
Instagram Group Join Now

Maitreyee Mitra: দিন কয়েক আগে, মুখ্যমন্ত্রীকে উদ্দেশ্য করে একটি খোলা চিঠি লিখেছিলেন অভিনেত্রী মৈত্রেয়ী মিত্র। যেখানে ‘মাননীয়া’-কে উদ্দেশ্য করে লেখা ছিল তাঁর কিছু মনের কথা। তবে ক’টা’ক্ষ পিছু ছাড়ল না সেই নিয়েও। নেটিজেনদের কাছে একের পর এক কটু মন্তব্যে শুনতে হচ্ছে অভিনেত্রীকে।

সেই প্রসঙ্গে প্রশ্ন করলে অভিনেত্রী উত্তর দেন, “আমাদের বাড়িতে আমরা ছোটবেলা থেকে কিন্তু, আমি একদম রাজনৈতিক পরিকাঠামোতেই বড় হয়েছি। আমি ছোট থেকে বাড়িতে সৌমেন দা, সুদীপ দা, সুব্রত দা, অজিত পাঁজা, প্রফুল্ল কান্তি ঘোষ সকলকে ছোটবেলা থেকে বাড়িতে দেখে বড় হয়েছি। কারণ আমার জেঠু এক্টিভ কংগ্রেস করতেন ও তাদের একটা অ্যাসোসিয়েশন ছিল। তো আমি সেই পলিটিক্যাল ব্যাকগ্রাউন্ড থেকে বড় হয়েছি। আমার বাবা এক্টিভ নকশাল করতেন। আমার কাকা নকশাল করতেন পরবর্তীকালে আমার কাকা বামফ্রন্ট বা সিআইএম এর সাথে যুক্ত ছিলেন। তো আমার বাড়িতে আমি সবরকম পরিবেশ পেয়েছি। আমি যদি ওনাকে সমালোচনাই করি তাহলে আমি কি করে ‘চটি চাটা’ হবো? যদিও এই শব্দ ‘চটি চাটা’-তে আমার খুব আপত্তি আছে। ‘চটি চাটা’ শব্দটা যদি বিশ্লেষণ করো সেটার মনে হচ্ছে কাউকে অনুসরণ করা। এটা কি প্রথম কাউকে মানুষ ফলো করেছে বা দাবেদারি করেছে? সারা জীবন ধরে যবে থেকে সমাজব্যবস্থা হয়েছে মানুষ ফলো করেছে। সমাজের কথা ছেড়ে দাও, কোনো বাড়িতে দেখবে, একটা বয়সের পর ছেলে মেয়ে বাবাকে অনেকদিন ধরে দেখছে বলে ছেলে-মেয়েকে বাবা-মা একটা বয়সের পর ছেলে-মেয়েকে তোয়াজ করতে হয়। ক্ষমতা যেখানে, মানুষ সেখানে করবেই। আমি করিনি কারণ আমি রাজনৈতিক দিকে ঢুকতে চাইনা বলে। আমি চাইলেই রাজনীতি করতে পারতাম। আমার কাছে ২০০৭ থেকে রাজনীতিতে ঢোকার প্রস্তাব এসেছিল। আমার বাবা স্বযত্নে তাদের ফিরিয়ে দিয়েছিলেন কারণ আমি রাজনৈতিক মানসিকতার মানুষ নই।কিন্তু যারা কালকে আমাকে কমেন্টে লিখেছে, রং বদলাচ্ছে, গিরগিটি, রংবদলু একবার একটু আমি তাদের কাছে জানতে চাই। এর আগে কোন রঙের তলায় গিয়ে আমি দাঁড়িয়েছি? আমি আগেও দাঁড়ায়নি। আমি আজও নেই। আমি ভবিষ্যতেও থাকব না। আমি স্পষ্ট কথা বলি। ছোটবেলা থেকে আমার ঠাকুমা বলতেন ‘ঝুলন বড্ড ঠোঁট কাটা।’ যদি আমি কোনো পতাকার তলায় যেতাম তাহলে সেই রংটাকে আজও ধরে রাখতাম। এইটুকুনি আমি নিশ্চিন্ত হয়ে বলতে পারি। অনেকে বলছে আচ্ছা টা’কা’র গন্ধ পেয়েছে! আমি সব কমেন্ট পড়ি যেখানে উত্তর দেওয়ার প্রয়োজন মনে করি উত্তর দিই, যেখানে প্রয়োজন মনে করি না দিই না বা এইটা আপনারা ভাববেন না আমাকে সাপোর্ট করে লিখলেই আমি খুশি হই বা উত্তর দিই। আমাকে সমালোচনা বা আমাকে কেউ কিছু বললে, তার মধ্যে এতটুকুনিও যদি নির্যাস কিছু থাকে, তার মধ্যে এতটুকুনিও যদি কিছু থাকে যেটা আমি নিতে পারি, আমি ১০০বার সেটাকে গ্রহণ করি। আর একটা কথা হচ্ছে আমি যদি কিছু নেব মনে করতাম। আমি যদি ধান্দাবাজি করব মনে করতাম, তাহলে ইন্ডাস্ট্রিতে আমারও তো কিছু কম সময় হলো না! তাহলে এতটা বড় অভিনেত্রী আমি যে কেউ জানতে পারল না আমি কোথায় লুকিয়ে আমি রাজনীতিটা করলাম! আর আমি এতটা বোকা বলে মনে হয় যে জিনিসটা আমি এতদিন লুকিয়ে রেখে দিলাম কাউকে জানতে দিলাম না সেটা আমি কালকে জেনে বুঝে ভুল করে প্রকাশ করে দেব?”

তিনি আরও জানান, “না, না, আমি জেনে বুঝেই ছবিটা পোস্ট করেছি! মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে যখন ২০১১ সালে উনি শপথ নিয়েছিলেন সেই দিনটা আমি সারা জীবনেও ভুলব না। যারা এখন এখানে বড় বড় কথা বলছেন, এই শব্দটা আমি ব্যবহার করছি আমাকে ক্ষমা করে দেবেন কিন্তু তাও আমি করছি, যারা এত বড় বড় কথা বলছেন তারা ২০১১-তে কোথায় ছিলেন? কি মানসিকতায় ছিলেন? আমি জানি না জানতেও চাই না। কিন্তু আমি সাধারণ নাগরিক সাধারণ পশ্চিমবঙ্গবাসী হয়ে স্বপ্ন দেখেছিলাম যে এই মানুষটা আসছে ইনি লড়াই করবেন। আমাদের পশ্চিমবঙ্গে কিছু ভালো হবে নতুন স্বপ্ন দেখেছিলাম আমরা। সেটার মধ্যে আমি মনে করিনি কোনো অন্যায় করেছি! ১০০ বার দেখেছি। স্বপ্ন ছাড়া বাঁচা যায় না। প্রতিটা দিন স্বপ্ন নিয়ে বাঁচি। আমি করজোড়ে আপনাদের বলছি, আমি যখন যেই পোস্টটা করি না, খুব চতুর ভাষায় তো পোস্ট করি না। খুব দায়িত্ব নিয়ে করেছি। আমার বাংলা ভাষাটার মধ্যে একটু গভীরতা থাকে।একবার না বুঝলে ২ বার পড়ুন, ৩ বার পড়ুন। কিন্তু আগে বুঝুন, আগে বুঝে নিয়ে তারপর লিখুন। না বুঝলে লিখবেন না।”

অনেকে বলছেন এখন কেন বলছেন? উত্তরে অভিনেত্রী বলেন, “আমি কালকের লেখাতে লিখে দিয়েছিলাম। তারপরেও যারা বলছেন, বললাম না মানুষ মন দিয়ে কিছু পাড়ার অভ্যাসটাই চলে গেছে। তুমি একটা কথা বলো, এখনকার দিনে কয়জন মানুষকে মন দিয়ে বই পড়তে দেখো? মানুষের মন দিয়ে বই পড়ার অভ্যাস চলে গেছে। কাল কিন্তু এটা লেখা ছিল যে মাননীয়া!আমাদের বলার ক্ষমতা কেড়ে নিয়েছেন আমাদের বলার ক্ষমতা ছিল না। অনেকে লিখেছে আপনি তো বনগাঁর মেয়ে বনগাঁর অঞ্চলের খবর জানেন? বেশ মজা পেয়েছি যে আমি বনগাঁতে থাকি এই যে এখন আমি বনগাঁতে বসে আছি! কলকাতাতেই বনগাঁর এড্রেস! আমি না মজা পাই, নিজেকে রহস্যের মধ্যে রেখে দিতে মজা পাই। আপনারা যা খুশি বললে আমি মজা পাই। এইটুকুনি বুঝি এতগুলো মানুষ আমাকে নিয়ে ভাবছেন তো! আমার ব্যক্তিগত জীবনের পরিসর যদি এইটুকুনি একদম হালকা মিষ্টি নীল রঙের হয়, ব্যক্তিগত একদম কোর যেটা! তার পাশে আর একটু হালকা নীল, যেটা আমার আর একটু কাছের। কিন্তু তারপরে যে গণ্ডিটা সেটা নকল। আমার মনে হয় এটা যথেষ্ট বোঝার জন্য। অভয়ার সময় আমি শুনেছি প্রচুর শিল্পীদের কাজে প্রভাব পড়েছে, তাদের কাজ পেতে অসুবিধে হয়েছে, অনেক কিছু হয়েছে। সেই প্রসঙ্গে বলি সক্রিয় আন্দোলনে কিন্তু আমিও থেকেছি।পার্থক্যটা হচ্ছে আমি নিজেকে লাইমলাইটে আনতে কখনও পছন্দ করি না। আমি বাড়িতে কি রান্না করছি, সেটা আমি দেখাতে পছন্দ করি না। আমার বরের সাথে আমার ঝগড়া হলো না, খুব ভাব ভালোবাসা হলো সেটা আমি পাবলিকলি জানাতে পছন্দ করি না। ঠিক তেমনই আমার যেটা অপছন্দ হয়েছে আমি প্রতিবাদ করব প্রেস মিডিয়া ডেকে নয়! আমি রাত্রিবেলা মিছিলে গেছি,আমি ফেরাও করেছি, রাত জেগেছি, বাসে করে অটো করে বিভিন্ন অঞ্চলে গেছি। আমি সবটা পাবলিক করা পছন্দ করি না। আমি তখনও বলেছি একজন মুখ্যমন্ত্রী তাঁর চেয়ারকে সম্মান করুন। আমি কালকেও এটা বলেছি চেয়ারকে সম্মান করুন। আমরা যখন বড় হয়েছি বড় হওয়ার সময় না অনেক কিছু মূল্য শিখেছি, অনেককিছু শিখে আমরা বড় হয়েছি।”

এরপর শিল্পীদের ক’টা’ক্ষ করা নিয়ে মৈত্রেয়ী জানান, দায়টা কার? উত্তরে বললেন, “১০০%শিল্পীদের দায়। আমি শিল্পীদের একটা ক্ষুদ্র অংশ হওয়ার কারণে সেই দায়টা আমাকেও নিতে হবে!” স্পষ্ট বাদী অভিনেত্রী।

Leave a Comment