Dance Controversy:রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘চিত্রাঙ্গদা’ নৃত্যনাট্যের সঙ্গে হিন্দি গান! বেজায় চটলেন মানসী, মালবিকারা,বিতর্কের মুখে কী বললেন দেবলীনা দত্ত?
গত রবিবার টিভিতে সম্প্রচারিত হয়েছে ‘ডান্স বাংলা ডান্স’-এর একটি বিশেষ পর্ব। সেখানে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের লেখা নৃত্যনাট্য ‘চণ্ডালিকা’র সঙ্গে হিন্দি গানের সংমিশ্রণে প্রতিযোগী অনুষ্কা ও দেবলীনা দত্তর নাচ দেখে নেটপাড়ায় তুমুল কটাক্ষ। যা দেখে সাধারণ মানুষ থেকে তারকা বেজায় চটেছেন।
‘চণ্ডালিকা’র সঙ্গে গুলজ়ার পরিচালিত ‘আঁধি’ ছবির জনপ্রিয় গানের মিশেল অনেকেই মেনে নিতে পারছেন না। বিতর্কের মাঝে অভিনেত্রী দেবলীনা দত্ত মুখ খুলেছেন। তাঁর প্রশ্ন,আদৌ কি ‘চণ্ডালিকা’ নৃত্যনাট্য বা রবীন্দ্রনাথকে নিয়ে পড়াশোনা করেছেন তাঁরা?
অভিনেত্রী জানান,”এর আগে আমি তিনবার চণ্ডালিকার ‘প্রকৃতি’-কে মঞ্চস্থ করেছি। ঠাকুরের এই লেখা আমার সবচেয়ে প্রিয়। তাই চণ্ডালিকা নিয়ে আমি অনেক পড়াশোনা করেছি। তার ভিত্তিতে বলছি, প্রকৃতির আনন্দের প্রতি প্রেম ছিল বললে খুব কম বলা হবে। চণ্ডালিকার আনন্দের প্রতি যে পাগলের মতো ভালবাসা সেটাই নিজের লেখনীর মাধ্যমে তুলে ধরার চেষ্টা করেছিলেন ঠাকুর।
রূপক অর্থে দেখানো হয়েছে এই দৃশ্য। কালিমালিপ্ত জীবন জল দিয়ে ধুয়ে কালিমামুক্ত হল। আমার অনেক সহকর্মী এই জল ঢালার ছবি পোস্ট করে লেখালেখি করেছেন। সৃজনশীল মানুষেরা অর্থ না বুঝে এমন পোস্ট করলেন, সত্যিই মায়া লাগল। আমার মুখের ছবি আবার বাদ দিয়ে পোস্ট করেছেন। ওই জল ঢালার যে দৃশ্য দেখানো হয়েছে তাতে আমার পূর্ণ সম্মতি রয়েছে।”
তাঁর এই উত্তরে মুখ খুলেছেন মালবিকা সেন ও মানসী সিংহ। মালবিকা সেন জানান,”নতুন প্রজন্মের সঙ্গে কথা বলাই এখন আমাদের অপরাধ হয়ে দাঁড়িয়েছে। আমরাও অনেক সময় ফিউশন নাচ করি। সারা বিশ্ব জুড়ে নানা পরীক্ষা-নিরীক্ষা চলছে। কিন্তু রবীন্দ্রনাথ আমাদের মননে মিশে আছেন। সেখান থেকে সরে গিয়ে এই হিন্দি গান জুড়ে দেওয়া! আমি তীব্র আপত্তি জানাচ্ছি।”
যদিও এক্ষেত্রে দেবলীনা জানান,”উর্দু থেকেই হিন্দি এসেছে। যাঁর নিজের লেখায় উর্দু সাহিত্যের প্রভাব ছিল, তিনি জীবিত থাকলে তাঁর কাজে হিন্দি ভাষার ব্যবহার করা হয়েছে বলে রাগ করতেন না। গোটা ঠাকুর পরিবার পারসি সংস্কৃতির সঙ্গে যুক্ত ছিল। এটাও তো ভাষার সঙ্গে ভাষার মিশেল। ঠাকুর নিজে এবং তাঁর পরিবার বিভিন্ন সংস্কৃতির সঙ্গে বার বার মিশেছেন। এ দিকে, আমরা যাঁরা বাঙালি তাঁরা নিজেদের সংকীর্ণ করে ফেলছি ‘হিন্দি ভাষার ব্যবহার কেন হল’ এই বলে।”
অভিনেত্রী-পরিচালক মানসী সিংহ এক সাক্ষাৎকারে জানান,”সব জগাখিচুড়ি হয়ে যাচ্ছে। আর বাঙালি নিজেদের ঐতিহ্য ভুলে গেলে যা হয় সেটাই হচ্ছে। অনেকেই এঁদের মধ্যে চণ্ডালিকা পড়েননি। ফিউশন করতেই পারে। কিন্তু মানেটা ভুলে গেলে কি চলে? আনন্দকে প্রেমিক হিসাবে চেয়েছিল চণ্ডালিকা, না কি মুক্তির অবলম্বন হিসাবে চেয়েছিল? সেটাই আগে জানা উচিত। শিখতে হয়। এটা দেখে যাঁরা ভাল বলছেন তাঁদের শত কোটি প্রণাম। আমি আর দেখব না এই অনুষ্ঠানটা।”
মানসীর এই বক্তব্যে অভিনেত্রীর জবাব, ‘চণ্ডালিকা’ ঠিক করে পড়লে জানা যাবে, চণ্ডালিকা-আনন্দকে মুক্তির অবলম্বন হিসাবে চাননি। বরং প্রেমিক হিসাবে চেয়েছিলেন। যে কারণে ডাকিনি বিদ্যার প্রয়োগ করে তাঁকে আনিয়েছিলেন, যাঁর ফলস্বরূপ মায়ের মৃত্যু পর্যন্ত হয়।”