sweta Bhattacharya:বড়সড় জালিয়াতির খপ্পরে শ্বেতা ভট্টাচার্যের পরিবার,লাইভে এসে, প্রতারণা নিয়ে সমস্ত ঘটনা খোলসা করলেন তিনি।
বর্তমানে সাইবার ক্রাইমের সংখ্যা দিন দিন বেড়েই চলেছে। সাধারণ মানুষ থেকে তারকা বাদ পড়ছেন না কেউই। এরা আগে এমন ঘটনার সাক্ষী থেকেছেন অভিনেত্রী শ্রীমা ভট্টাচার্য,অভিনেতা রাহুল ব্যানার্জিসহ আরও অভিনেতা-অভিনেত্রীরা।
এবার বড়সড় জালিয়াতের খপ্পরে পড়লেন অভিনেত্রী শ্বেতা ভট্টাচার্যর পরিবার। ব্যাংক থেকে উধাও হয়ে গেল লক্ষ লক্ষ টাকা। সবাইকে সতর্ক করার জন্য লাইভে এসে নিজের সাথে ঘটে যাওয়া ঘটনার কথা জানালেন অভিনেত্রী।
অভিনেত্রী জানিয়েছেন,”হয়ত এরকমভাবে অনেকেই আগে ফেঁসেছেন, আমিও ফেঁসেছি। আমার মনে হল আপনাদেরকে সতর্ক করে দেওয়া প্রয়োজন। আগের শুক্রবার আমার মায়ের ফোনে একটা ফোন আসে অপরিচিত কোন এক নম্বর থেকে আর বলা হয় আমি ব্যাংক থেকে ফোন করছি। তখন আমি শ্যুটিংয়ে ছিলাম। মা-বাবা বাড়িতে ছিল। বলা হয় আপনার KYC টা আপডেট করে হবে। আপনি কাল ব্যাংকে চলে আসুন। বলে ফোনটা কেটে দেওয়া হয়। তারপর আবার কিছুক্ষণের মধ্যে মাকে আবার ফোন করা বলা হয়, একটা ভুল খবর দেওয়া হয়ে গেল। কাল তো শনিবার,রবিবার, ব্যাংক বন্ধ থাকে। আমি ফোনে ফোনেই আপনাকে KYC টা আপডেট করে দিচ্ছি। মাও স্বাভাবিকভাবে ভাবল,বাড়িতে বসেই কাজ হয়ে যাবে,যাওয়ার দরকার হবে না। তারপর মার অ্যাকাউন্ট নম্বর চাওয়া হয়। তারপর ওটিপি নাহলে তো কিছু করা যায় না, মাকে বলাছিলাম এরকম অনেক স্ক্যাম হচ্ছে, কোনো লিংক বা ওটিপি চায়লে দেবে না। কিন্তু অদ্ভুতভাবে মাকে বলা হয় আমি আপনাকে ভিডিয়ো কল করছি আপনি সেটা ধরুন। মা ফোনটা ধরার পর, লোকটা বলে আপনি দেখুন ওয়াটসঅ্যাপে নীচের দিকে তিনটি ডট আছে আপনি ক্লিক করুন। এবার ক্লিক করার পর,মাকে বলা হয় স্ক্রিন শেয়ারে ক্লিক করুন। মা না বুঝে লোকটির কথা শুনে সব করতে থাকে। তারপর যথারীতি লোকটি মার ফোনের সবকিছুই দেখতে পায়। তারপর মাকে মেসেজ বক্সে যেতে বলে। সেখান থেকে লোকটি ওটিপি নিয়ে মায়ের অ্যাকাউন্ট পুরো খালি করে দিয়েছে। অ্যাকাউন্টে এখন জিরো ব্যালেন্স।
তারপরে আবার বাবাকে ফোনটা দিতে বলা হয়। বাবাকে বলা হয়েছে আপনার এটিএম কার্ডের যে নম্বরগুলো আছে সেই নম্বরটা দিন। বাবা সেটাও দিয়ে দেয়। কিন্তু ভাগ্যক্রমে সেটার সময় নির্দিষ্ট সময় পেরিয়ে গেছে। তারপর বাবাকে মেজাজ দেখিয়ে লোকটি বলে আপনি জানেন না এটার সময় পেরিয়ে গেছে? মিথ্যা কথা বলছেন আপনি জানেন না? হতে পারে কখনও? দেখুন একটা তিনটে ডিজিটের নম্বর আছে ওটা দিন। বাবারও বয়স হয়েছে,বাবাও বুঝতে পারছে না। বাবা একটু হকচকিয়ে গিয়ে বলছে কোন নম্বরটা বলছেন বুঝতে পারছি না। শুনেই লোকটা বলছে একদম নাটক করবেন না,যেটা বলছি সেটা তাড়াতাড়ি করুন, ব্যাংকের অত সময় থাকে না আপনার ফোন ধরে বসে থাকবে। বাবা এরকম আচরণ দেখে ফোনটা কেটে দেয়।
এই ঘটনায় মা খুব ভেঙ্গে পড়েছে, অসুস্থ হয়ে পড়েছে।”