Jojo-Pousali:পৌষালী বন্দোপাধ্যায়ের দলের বি’রু’দ্ধে বি’স্ফো’র’ক অ’ভি’যো’গ আনলেন জোজো। তিনি দাবি করেন বিজয়গড়ে অনুষ্ঠান করতে গিয়ে গায়িকা পৌষালী বন্দোপাধ্যায়ের দলের সদস্যরা তাঁর ও তাঁর টিমের সঙ্গে দু’র্ব্য’ব’হার করেন। যা নিয়ে চলছে দুই গায়িকার মধ্যে দ্ব’ন্দ্ব। এবার সেই প্রসঙ্গে মুখ খুললেন পৌষালী।
গতকাল জোজোকে ফেসবুকে একটি লাইভ করতে দেখা যায় সেখানে তিনি বলেন, “বিজয়গড়ে উদয়চক্র ক্লাবের অনুষ্ঠান ছিল। আমি দর্শকদের আন্তরিকভাবে কৃতজ্ঞতা জানাই আমাকে সাপোর্ট করার জন্য। তবে আজকে একটা অন্য ব্যাপারে আমার খুব রা’গ হয়েছে, প্রচন্ড ক’ষ্ট পেয়েছি। কারোর প্রতি আমার এত রা’গ হয় না যা আজকে হয়েছে। সেটার যথেষ্ঠ কারণ আছে। তাই আমি ভেবেছিলাম আজকের অনুষ্ঠানের পর আমি লাইভ করব। আমাদের বাংলা গানের ইন্ড্রাস্টিটা খুব ছোটো। আজ একটি অনুষ্ঠানে গিয়েছিলাম। সেখানে আমিও গিয়েছিলাম, আর একজন জনপ্রিয় লোকসঙ্গীত শিল্পী পৌষালী ছিল। আমার যাঁরা জুনিয়র তাঁদের সঙ্গে আমার খুব ভালো সম্পর্ক। তাঁদের মধ্যেও অনেকে আমাকে ভালোবাসে অনেক শ্রদ্ধা করে। তবে তাঁদের মধ্যে এমন অনেক মানুষ আছেন যাঁরা সামনে ভালোবাসে পিছনে গিয়ে গালি দেয়। তাতে কিছু এসে যায় না, পৃথিবীটাই তাই। এইসবগুলো দেখে বড় হয়েছি। সেই সময় অনেক তাবড় তাবড় শিল্পীরা আমার বিষয়ে কুম’ন্তব্য করেছেন। তাতে আমার কিছু এসে যায় না, কারণ আমি আমার কাজ জানি। তবে একসঙ্গে দুটো বড় ব্যান্ড গেলে, সেখানে আগে সাউন্ড চেক করা এইসব কাজগুলো আগেই হয়ে থাকে। দুটো ব্যান্ডের মধ্যে শেষে যাঁদের অনুষ্ঠান থাকে তাঁরা আগে সাউন্ড চেক করে, যাঁদের আগে অনুষ্ঠান থাকে তাঁরা পরে সাউন্ড চেক করে। সময়মতো আমার মিউজিশিয়ান চলে গিয়েছিল। তাঁরা সাউন্ড চেক করেছে। স্টেজটাও বেশ বড় ছিল। আমাদের সাউন্ডে একটা সম’স্যা ছিল। আর পৌষালী ব্যান্ডও বেশ বড়। তবু আমাদের ড্রামস আছে, ওঁদের তা নেই। তাই যতটুকু আমাদের করতে হয় ততটুকু আমরা করি। কিন্তু আমরা যখন টিফিন করছিলাম তখন আমাদের অনুমতি না নিয়ে পৌষালীর দল তা সরিয়ে দিয়েছে। এটা কোথাকার প্রফেশানালিজম আমি জানি না। ওঁরা আমাদের বলতে পারতেন। এটা কোথার অস’ভ্য’তা’মি । পৌষালীর দলের লোকজন আমার সঙ্গে অস’ভ্য’তা’মি করেছে। অনুমতি না নিয়ে বাদ্যযন্ত্রে হাত দেওয়ার অধিকার আমরা তোমাদের দিইনি। আমি আজকের শোটা করতাম না আমার কাছে অ’প’মা’নজ’নক লেগেছে। আমার সদস্যদের অপ’মান করা হয়েছে। কিন্তু ক্লাব বা আমার দর্শকরা তো দোষ করেনি। তাই করেছি। আমার জীবনে আমি অনেক শিল্পীকে আসতে দেখেছি, আবার ধুলোয় মিশে যেতে দেখেছি। এত উদ্য’তপনা ভালো নয়। মঞ্চটা তোমার যতটা, আর একজন শিল্পী সে নামী-অনামী যাইহোক তারও ততটা।”
এই লাইভের পরিপ্রেক্ষিতে সমাজমাধ্যমের পাতায় পৌষলী একটি ভিডিয়ো করে বলেন, “আমি জুনিয়র আর্টিস্ট দিদি। যদি জনতা ম’য়’নাত’দ’ন্ত করতে চায় তাহলে দুদিকেরটা জেনেই করুক। তুমি বলেছ, ‘স্টেজটা কারুর বাবার সম্পত্তি নয়’, আমি আনপ্রফেশনাল। আমি প্রফেশনালিজম তোমাদের থেকেই শিখছি। জোজোদির টিমকে সাউন্ড চেকের জন্য যে সময় দেওয়া হয়েছিল তাঁরা সেই সময়ে আসেননি। দিদির টিমের সাউন্ড চেকের সময় ছিল সাড়ে তিনটে থেকে সাড়ে পাঁচটা দিদির টিমের ছেলেরা ঢুকেছিল সাড়ে চারটের সময়। ফলে ওঁদের সাউন্ড চেক করতে দেরি হয়। আর তার থেকে আমাদেরও স্বাভাবিক ভাবে দেরি হয়ে যায়। মঞ্চটা খুব সুন্দর ছিল। তার মধ্যে একটু উঁচু জায়গা করা থাকে ড্রাম, অক্টোপ্যাড রাখার জন্য। সেই জায়গা জোজোদিদের বাদ্য রাখার পর আর জায়গা ছিল না।”
আরও পড়ুন:Riju Biswas:একাধিক মহিলাকে অ’শা’লী’ন মন্তব্য, বি’ত’র্কে’র মাঝে পাল্টা যুক্তি ঋজুর
তারপর জোজোর উদ্দেশ্যেও তিনি আরও বলেন, “বিশ্বাস করো জোজোদি জায়গা ছিল না। তারপর আমার টিমের ছেলেরা তোমার টিমের সদস্যদের তা জানায়, বলে দু’ফিট সরাতে। তা শুনে তাঁরাও খুব খা’রা’প ভাবে উত্তর দেন। তুমি সত্যিটা না জেনে আমায় এত গুলো কথা বললে। তুমি ভুল বুঝে লাইভটা করেছ। আমি ছোট হয়ে আমার ভাগেরটা সত্যিটা বলছি। তোমার মিউজিশিয়ানরা আমার মিজিশিয়ানদের অপ’মান করেছে। আমি সেটা নিয়ে লাইভ করিনি, স্টেজে বলিনি। আমার টিমের ছেলেরা খা’রা’প ব্যবহার করতে পারে না, এটা খুব অহং’কার করে বলতে পারি। তারপর কেউ ছিল না সেখানে তখন কমিটিকে ডেকে আমরা বলি, ‘দুফিট সরাব?’ দু’ফিট সরিয়েছে দিদি। কারুর অনুমতি ছাড়া আমরা কখনও এটা করিনি। আর বাবার সম্পত্তি বা ওই ধরনের শব্দ চয়নের মধ্যেই যাচ্ছি না। তোমার এতটা খা’রা’প লাগলে আমাকে ধ’ম’ক দিতে পারতে। আমি কিছুই করিনি, কিন্তু তাও মাথা পেতে নিতাম। কারণ আমি তোমাকে খুব ভালোবাসি, আমি তোমায় খা’রা’প কথা বলব, বা তোমার টিমের ছেলেদের উ’দ্য’ত আচরণ দেখাতে পারিনা। দিদি তুমি সিনিয়র আটিস্ট অবশ্যই তোমার বলার অধিকার আছে। কিন্তু জুনিয়র আর্টিস্টদেরও বলার অধিকার আছে দিদি। আমি জীবনে সত্যি কিছু করে উঠতে পারিনি, না গেয়েছি সিনেমার গান, না আছে কোনও অ্যাওয়ার্ড।”