Ratna Debnath: ২০২৪ সালের আগষ্ট মাসে, কলকাতার আরজিকর মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে ঘটে যাওয়া নির্মম হ’ত্যা কান্ড আজও এক দুঃস্বপ্ন পশ্চিমবঙ্গবাসীর কাছে। ৩১ বছর বয়সী এক তরুণী চিকিৎসকের ওপর মানবিক অত্যাচার ও নির্মম মৃ’ত্যু এক হৃদয় বিদারক ঘটনা, আরও দুঃখের বিষয় যে সঠিক কোনো বিচার পেল না তিলোত্তমা। এমনটাই দাবি তার মা রত্না দেবনাথের।
ইতিমধ্যেই প্রকাশিত হয়েছে অভয়ার মা রত্না দেবনাথের গেরুয়া শিবিরের হয়ে ভোটে দাঁড়ানোর খবর, বিভিন্ন ব্যক্তির বিভিন্ন মত প্রকাশ করেছেন এই খবর প্রকাশিত হওয়ার পর, স্বয়ং রত্না দেবনাথ এক সংবাদমাধ্যমের সাক্ষাৎকারে বলেছেন, ‘আমার মেয়ের নাম অভয়া নয়। তার নামটাও ঠিক করে নিতে পারছিনা। এখন কেন নিতে পারছি না? সেই জায়গাটা কি কেউ দেখেছে? সেও তো রাত্রে ডিউটি করতে গেছিল, অন্যদিনের মতো হাসিমুখে ডিউটি করছিল। কেন সে এক মুহূর্তে অভয়া হয়ে গেল? আমার তো লড়াই সেখানটাতেই।’
অনেক তদন্তের পরও তেমন কোনো আশানুরূপ ফল পাওয়া যায়নি আরজিকর কাণ্ডে, সেই ক্ষোভ থেকেই তিলোত্তমার মা এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে স্পষ্ট তার বক্তব্যে।
তিনি আরও বলেন, ‘হাসপাতাল তার একটা বাড়ি, ডাক্তারদের দুটো বাড়ি হয়, একটা বাড়ি একটা হাসপাতাল, সেখানে তার সাথে কেন এরকম ঘটনা হল?’
তাঁর কথায় প্রশাসনিক, ক্ষমতাই আসল। দু’শো ঘটনা ঘটেছে কারও বাবা-মাকে দেখা যায় না প্রতিবাদ করতে, সরকার কিছু টাকা দেয়, যা তারা হাত পেতে নিতে বাধ্য হন স্পষ্ট বক্তব্য তার।
‘ভিকটিম ফ্যামিলি টাকা তো নিল, আর অপরাধীদের মাথায় দিদিমণির হাত থাকে, তারা সব পার পেয়ে যায়’, অকপট বক্তব্য অভয়ার মায়ের। ‘এই থ্রেট কালচার আমি ভাঙতে চাই’, স্পষ্ট দাবি তাঁর।
তিনি শেষে বলছেন, ‘কেউ কেউ বলছে উনি অভয়ার মা নন। কলতান অভয়ার দাদা, তো দাদা হিসেবে সে বিচার চাইতেই পারে’ কটাক্ষ তাঁর। ওই পানিহাটি বিধানসভা নির্বাচনে সিপিএম -এর হয়ে ভোটে দাঁড়িয়েছেন যুবনেতা কলতান দাশগুপ্ত।
এই রাজনীতির পথে সত্যিই নিজের মেয়ের মর্মান্তিক মৃ’ত্যু’র বিচার পেতে চলেছেন তিলোত্তমার মা। এইবারের দক্ষিণ ২৪ পরগনার পানিহাটির বিজেপি প্রার্থী হয়েছেন রত্না দেবনাথ ওরফে তিলোত্তমার মা, অন্যদিকে ওই বিধানসভা কেন্দ্রের তৃনমূল এবং সিপিএম প্রার্থী যথাক্রমে তীর্থঙ্কর ঘোষ এবং কলতান দাশগুপ্ত, ২০২৪ এর আরজিকর কাণ্ডের মিছিলে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে দেখা গিয়েছিল কলতান দাশগুপ্তকে। এখন দেখার শেষ পর্যন্ত কি ফলাফল হয় এই রেষারেষির , এইভাবেই তার মেয়ের নির্মম নির্যাতনের বিচার পাওয়া যাবে বলে আশাবাদী রত্না দেবনাথ।