Rahul-Jeetu: অভিনেতা রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের অকস্মাৎ মৃ’ত্যু’র প্রতিবাদে গতকাল অর্থাৎ ৪ঠা এপ্রিল পথে নামতে দেখা গেল একের পর এক টলি তারকাকে। এক সহকর্মী ও বন্ধুর প্রয়াণে শোকার্ত বাঙালির এ এক অভিনব প্রতিবাদ। এই মৃ’ত্যু ঘটনার পরদিন থেকেই সমাজমাধ্যমে উঠে আসছিল শোক ও প্রতিবাদ মিশ্রিত কন্ঠস্বর, অদ্ভুতভাবে সব কন্ঠস্বরগুলো মিলে যাচ্ছিল শুধুমাত্র বিচারের দাবিতে। ইতিমধ্যেই গঠনমূলক পদক্ষেপ নিতে দেখা গেছে রাহুলের স্ত্রী, অভিনেত্রী প্রিয়াঙ্কা সরকার ও আর্টিস্ট ফোরামকে। অন্যদিকে সবার প্রতিবাদের মাঝেও যেন এক অন্যরকম প্রতিবাদের ভাষা ফুটে উঠেছে জনপ্রিয় মুখ জিতু কমলের প্রতিবাদে। তাঁর প্রতিবাদ রাস্তায় হেঁটে নয়, বরং প্রয়াত রাহুলের ছবির পাশাপাশি নিজেরও ছবির গলায় মালা দিয়ে!
গতকাল পদযাত্রায় যখন সব সেলেবরা পথে হাঁটছিলেন “Justice for Rahul” স্লোগানের সাথে , তখন নিজের তিক্ত অভিজ্ঞতা নিয়ে প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়েছিলেন ইন্ডাস্ট্রির তাবড় তাবড় ব্যক্তিত্বের দিকে। নির্ভিক কণ্ঠে বলে চললেন নিজের সাথে ঘটে যাওয়া কিছু অমানবিক ঘটনা। তিনি বলছেন, “প্রচুর ক্ষমতার অপব্যবহার হয় আর্টিস্ট ফোরামে থেকে, আমি এই জন্য শোকাহত, ব্যান করে দেয় ব্যান করে দেবে। এমনই রাজনীতি চলে। যদি পলিটিক্স করে বের করে দেয়, বের করে দেবে…. এমনিও অনেক পলিটিক্স চলে, ঠিক আছে।” আজ যখন সবাই এক মৃ’ত অভিনেতার জন্য গলা উঁচিয়ে বিচার চাইছেন , ঠিক সেই সময়ে অন্য আর এক অভিনেতার এই ধরনের অভিযোগ সত্যিই ভাবতে বাধ্য করে, সত্যিই কি সুগঠিত সুরক্ষিত ব্যবস্থা থাকে শ্যুটিং ফ্লোরে? অভিনেতা জিতু কমলকে তাঁর সমাজমাধ্যমে করা পোস্টের কথা জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেন, “আমার সাথে হয়েছে এরকম, অন্য একজনের সাথে হয়ে সে মা’রা গেল। মা’রা যাওয়ার পর যদি আর্টিস্ট ফোরামের টনক নড়ে, তাহলে আমি নিজের ছবির গলায় মালা পরিয়ে বসে আছি, যে প্লিজ আমারটা একটু দেখো!” বিস্ময়কর তাঁর প্রতিবাদের ভাষা।
এখানেই শেষ নয় তিনি আরও বলেন, “আমি একটা প্রোডাকশনে কাজ করাকালীন হসপিটালাইজড হলাম, বলছিলাম আমার শরীর খারাপ লাগছে, ব্ল্যাঙ্ক হয়ে গেলাম। ফোরামের সদস্য ওখানেই দাঁড়িয়ে, সেক্রেটারি দাঁড়িয়ে দেখছে সবাই!” অকপট বক্তব্য তাঁর।
এই ঘটনার পর তাঁকে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয় যে যথেষ্ট সাবধানতা অবলম্বন করে কাজ করতে হবে। তাই তিনি আবারও যান শুটিং ফ্লোরে, কিন্তু তারপর, “প্রথমে যতটা ধুলো ধোঁয়া ছিল, তার দশগুণ বেশি ধুলো ধোঁয়াতে কাজ করতে হল, আমার যে কি কষ্ট হচ্ছিল! সেখানেও সেক্রেটারি উপস্থিত ছিলেন, আমি মুখাপ্রেক্ষী ছিলাম তাঁর দিকে কিন্তু তিনি একটা টু শব্দ করেননি”, অভিনেতার অভিযোগ মিডিয়ার সামনে। কিন্তু ঘটনা এখানেই শেষ নয়।
শেষদিন শেষ শর্ট দেওয়ার আগে তাঁরা নাকি অভিনেতার সাথে দুর্ব্যবহার করে তাকে বলেন, “হারামের টাকা নিস কেন!” এবং তাঁকে বেরিয়ে যেতে বাধ্য করা হল।
তিনি এই ঘটনা জানিয়ে আর্টিস্ট ফোরামকে মেইল করেছিলেন ১৬ই মার্চ, বলেই তাঁর দাবি। তাঁর মতে, “তখন যদি সঠিক ব্যবস্থা নেওয়া হতো যে, একটা শিল্পীর একটু হলেও সুরক্ষার দায়িত্ব প্রোডাকশনকে নিতে হবে। তাহলে রাহুলদার সাথে এটা হতো না, আউটডোরে শুটিংয়ে গিয়ে একটু হলেও নিরাপত্তা ব্যাবস্থা থাকত যদি একটা ডাক্তার থাকত, একটা অ্যাম্বুলেন্স থাকত, জল থেকে উঠে আসার পর দাবি করছে শ্বাস-প্রশ্বাস চলছে। তাহলে আমার দাদা, রাহুলদা এভাবে চলে যেতো না।”
এই ঘটনায় মর্মাহত অভিনেতা বলছেন, “তাই নিজের গলায় মালা আগেই পরিয়ে নিয়েছি। যাঁরা কটাক্ষ করে তাঁকে বলেছিলেন, এখন বলছ কেন এসব? তাঁদের উদ্দেশ্যে বলেন কখন বলব? ম’রে যাওয়ার পর? আমি অভিযোগ জানিয়েছি আমার দোষ কি? আমি বেঁচে আছি তাই? আমি যেই কথাগুলো বলছি তার মধ্যে থেকে খুঁত খুঁজে, ভুল খুঁজে মনের মধ্যে আ’ক্রো’শ পুষে রেখে আমাকে কি করা হবে? ব্যান করা হবে, প্রডিউসারদের বলা হবে একে নিও না! বেশি কথা বলছে, আলটিমেট প্রচুর আর্টিস্টকে তো ঘরে এমনি ঢুকিয়ে দেওয়া হয়েছে আমি অন্তত প্রতিবাদটুকু করে ঘরে ঢুকি।”
তাঁর মতে মানুষটা চলে যাওয়ার পর নিরাপত্তার কথা বলা হচ্ছে? তাঁর আগেও আর্টিস্ট ফোরামকে জানানো হয়েছিল এই নিরাপত্তার কথা। এটাও বলেন তিনি মৃ’ত অভিনেতা রাহুল এবং ফোরামের সেক্রেটারি শুটিংও করেছিলেন একসাথে। “রাহুলদা তাও একবার জিজ্ঞাসা করেছিল, ‘কি রে, কেমন আছিস’, অন্যরা হাসপাতালে থাকাকালীনও জিজ্ঞাসা করেনি অথচ আমি তাদের মেম্বার!”
এই মিছিলের ফলাফল নিয়ে তাঁকে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, “এটা যাঁরা ডেকেছে তারাই জানে, আমাকে প্রতিবাদ করতে বলা হয়েছিল, আমি আমার মতো করে প্রতিবাদ করছি। এই রাস্তায় হাঁটা আমার কাছে মনে হয় না খুব ফলশ্রুতি হবে। আমাদের নিজেদের আগে প্রশ্ন করতে হবে, ভয় কাটাতে হবে, প্রতিবাদ করতে হবে। পশ্চিমবাংলাকে মানুষ জানতই যে তারা অন্যায়ের প্রতিবাদ করে। আজ বাংলা এমন একটা জায়গায় গেছে যে প্রতিবাদই করতে পারছে না। তুমি আমার সাথে প্রতিবাদ না করলে আমাকে চুপ করিয়ে দিতে পারো না”, অকপট স্বীকারোক্তি তাঁর। এক অপরের কাঁধ ধরে চলে, এক অপরের কথাটুকু শুনলেই এই সমস্যার সমাধান হবে বলে আশাবাদী জিতু। কিন্তু কথাই তো কেউ শুনতে চায় না, প্রডিউসার নাকি বসতে চায় নি”, বলেও হতাশ কণ্ঠ তাঁর। আর্টিস্ট ফোরামের একজন মেম্বার আর একজন মেম্বারের কথা শুনছে না , এর থেকে লজ্জার আর কিছু হয়না বলেই মত তাঁর।