চিত্রনাট্যকার ও পরিচালক পারমিতা মুন্সির দাবি ছিল তাঁর বহুদিন আগে লেখা “বধূ কোন আলো লাগল চোখে” নামে একটি গল্পের সাথে অদ্ভুত মিল আছে প্রযোজক লীনা গঙ্গোপাধ্যায়ের “কোনে দেখা আলো”-র সাথে। সরাসরি অভিযোগ না তুললেও, তাঁর ধারাবাহিকের গল্প ও চরিত্রের সাথে নিজের গল্পের আশ্চর্যজনক সাদৃশ্য নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তিনি। গল্পের বিষয় বউ বদল। সেই বক্তব্য নিয়ে সমালোচনা হওয়াতে, তাকে কটু কথা শোনানো হয়। এবার সেই কটু কথার তীব্র উত্তর দিলেন পারমিতা। উত্তরের সাথে সাথে রাহুলের মৃ’ত্যু নিয়ে ঘটে চলা কিছু বিষয় তুলেও কটাক্ষ করলেন, দেব এবং ইন্ডাস্ট্রির তাবড় তাবড় মাথাদের উদ্দেশ্যে।
সবকিছু নিয়ে নিজের এক দীর্ঘ বক্তব্য শেয়ার করে নিয়েছেন সোশ্যাল মিডিয়ায়।
তিনি লেখেন, “লীনা গঙ্গোপাধ্যায় আমার গল্প চুরি করেছেন…এইরকম আজগুবি কথা আমি একবারও বলিনি। যে সকল মর্ষকামী লোকজন এসব বলছেন, তারা যদি ইংরেজি পড়তে ও বুঝতে পারেন… তাহলে দেখবেন SWA ( Screen Writers’ Association of Mumbai) কে লেখা ইমেলে পরিস্কার করে লেখা আছে “কাকতালীয় মিল” বা ” কোইন্সিডেন্টাল সিমিলারিটি ” -র কথা। মায়ের বয়সী একজন সিনিয়র রাইটারের নামে “গল্প চুরি”- র অভিযোগ দেওয়ার মতো পারিবারিক শিক্ষা আমার নেই। যারা এটা নিয়ে টিম বি হয়ে মাঠে নেমেছেন…তাদের বোট প্রোফাইল, ফেক প্রোফাইল বা হিউম্যান প্রোফাইল যাই হোন,”হাতি-চামচিকে-লাথি”- এসব কমন শব্দ প্রয়োগ দেখে বোঝা যাচ্ছে, ব্যাপারটা সেন্ট্রালি একটা জায়গা থেকে অপারেট হচ্ছে। একটু ল্যাংগুয়েজ ভ্যারাইটি হলে ভালো হতো। আফটার অল একজন সিনিয়র রাইটারকে সেফ গার্ড করতে নেমেছেন! সেখানে এত বিলো এভারেজ, রিপিটিটিভ শব্দ ব্যবহার করে, উল্টো তার মানহানি ঘটাচ্ছেন না কি? চারটে জিনিস আমি পরিস্কারভাবে এবার বলছি, দেখা ও শোনার ভিত্তিতে
১) রাহুলের অকালমৃত্যুর ৭০ ঘন্টা বাদে ম্যাজিক মোমেন্ট মোশন পিকচারের পক্ষ থেকে যে অফিসিয়াল স্টেটমেন্ট দেওয়া হয়েছিল সোশাল মিডিয়ায়… তার ফার্স্ট ভার্সনে স্পষ্ট লেখা ছিল, ঘটনার দিন শৈবাল ব্যানার্জি মুম্বাই থেকে ফ্লাইটে উড়ে এসে রাহুলের বাড়িতে গিয়েছিলেন। শৈবাল ব্যানার্জিকে ঢুকতে দেওয়া হয়নি।
পরে বিবৃতি থেকে এই অংশটা মুছে দিয়ে, ম্যাজিক মোমেন্টের বিবৃতিতে একটা সেকেন্ড ভার্সন আপলোড করা হয়। কেন? আগেরটা ভুল ছিল?
২) ঘোস্ট রাইটারের যে কানাঘুষো শোনা যাচ্ছে, সেটা আসলে কী? একজন সিনিয়র রাইটার সমুদ্রের গভীর জলের সিন লিখে, স্মৃতিভ্রষ্ট হয়ে বললেন যে, “সমুদ্রের গভীর জলের সিন ছিল না”? নাকি কি সিন আছে আদৌ তিনি জানেন না? ঘোস্ট রাইটার লিখেছেন? ম্যাজিক মোমেন্টের এই একটা সিরিয়ালের একটা সিনই ঘোস্ট রাইটার লিখেছেন শুধু? নাকি সব সিরিয়ালের…সব সিন…কে ঘোস্ট আর কে অরিজিনাল, সেটা বোঝা যাবে যদি ” ঘোস্ট”- রা মুখ খোলেন।
৩) কাউকে লিগাল হ্যাসেল, মিটু দিয়ে, কাঠিবাজি করে, গুপ্তভাবে ফোন কল রেকর্ডিং করে, মোবাইলে ভিডিও রেকর্ড করে… লোকজনকে ফাঁসানো, একজনকে অন্যজনের বিরুদ্ধে লেলিয়ে দেওয়া, রেপুটেশন হার্ম করা… যারা ইভিল সোল তাদের কাছে এসব জলভাত। তবে ইদানীং স্ক্রিপ্টটা বেশ কাঁচা হয়ে গিয়েছিল। সেটা যদি ম্যাডামের সংশ্লিষ্ট কমিশনে কেউ আরটিআই করেন, জানতে পারবেন। কিভাবে অন্যের জন্য ফাঁদ কাটার কনফিডেন্স, কাউকে উল্টে ফাঁদে ফেলে দেয়। স্বখাত সলিলে ডুবে যেতে হয়।
৪) দেবের সঙ্গে আমার বন্ধুত্ব বা না-বন্ধুত্ব কোনোটাই নেই। বুম্বাদার প্রতি যে আবেগ, সম্মান, ভালবাসা কাজ করে… দেবের প্রতি তার কোনোকিছু তৈরী হওয়ার পরিসর তৈরী হয়নি। আমাদের মতো ইন্ডিপেন্ডেন্ট ডিরেক্টর, যারা নিজেরা ফান্ড জোগাড় করে সিনেমা বানাই, তারা দেবের সঙ্গে মেগাবাজেটে সিনেমা করার কথা ভাবতেও পারি না। বাংলা সিনেমার একজন নায়ক হিসেবে সম্মান করা ছাড়া, দেবের প্রতি আমার বাড়তি এটাচমেন্ট বা ডিটাচমেন্ট কিছুই নেই।
তবে ৭ই এপ্রিল এবং তার পরে রাহুলের অকালমৃত্যু তদন্তের দাবিকে আড়াল করে, দেবের “আমিত্ব” প্রতিষ্ঠা অত্যন্ত অমানবিক লেগেছে। দেবকে কখনো এমনটা মনে হয়নি। সেদিন থেকে একটা জিনিস ভাবছি। ১৫ই মার্চ র্টেকনিশিয়ান স্টুডিওতে দেব যখন স্বত:প্রণোদিতভাবে টেকনিশিয়ানদের জন্য স্বাস্থ্যসাথী ক্যাম্প করলেন, তখন দেবের পাশে লীনা গঙ্গোপাধ্যায়ের সোচ্চার অন্তরঙ্গ, হৃদ্য উপস্থিতি দেখা গেছে। সাধারণ মানুষের মন, এতে দুয়ে দুয়ে চার করে, “দশচক্রে ভগবান ভুত” গোছের কিছু ভাবলে, ভুল হবে না ঠিক হবে? দেব নিশ্চয়ই জানেন, উনি লার্জার দ্যান লাইফ হিরোর রোল করে আজ মেগাস্টার হয়েছেন। যে সিনেমায় দেবের এই লার্জার দ্যান লাইফ হিরোর ইমেজকে লেট ডাউন করে, বাড়ির চাকর সাজানো হয়…তাও আবার মেগাসিরিয়ালের স্ক্রিপ্টের প্যাটার্নে…সেটা আসলে দেবের কেরিয়ারে একধরনের ব্ল্যাকস্পট। যতটুকু সিনেমা বুঝি, তাতে এটাই মনে হয়েছে।
৫) প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায় যে বাংলা ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রির অভিভাবক তা উনি নিজের বিচক্ষণতা, বিবেচনা, আবেগ…সকল কোমল ও যুক্তিবাদী অনুভূতি দিয়ে প্রমাণ করেছেন। প্রকৃত শিক্ষা কি তা উনি দেখিয়েছেন। পলতাবাগানের পল্টুবাবুরা প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়কে নিয়ে কী বলল, তাতে বুম্বাদার কিছু যায় আসে না। হ্যাঁ, পল্টুবাবুরা কিছু ফুটেজ পায় তাতে।”
তিনি আরও জানান, “এতকিছু বলতাম না। আমাকে খোঁচাতে এলে, এগুলো হবেই। আরও খোঁচালে আরও বড় বেড়াল থলে থেকে বেরোবে। প্রভাবশালী তত্ত্ব আমার ওপর খাটবে না। বাপেরও বাপ থাকে ভুললে চলবে না।
রাহুলের অকালমৃ’ত্যু তদন্তের কাজ চলছে। উড়িষ্যা পুলিশ যেন সারকমটেনশিয়াল এভিডেন্স, এবং উইটনেস থাকতে থাকতে বিষয়টার নিস্পত্তি করেন, এটাই অনুরোধ। রাহুলের মা, দাদা, স্ত্রী, সন্তানের বাইরেও এক নিকটজন আছে রাহুলের। রাহুলের সারমেয় সন্তান কুট্টুস। সে এখন ট্রমা কেয়ার ট্রিটমেন্টে আছে। সকাল থেকে রাত অব্দি ওই অবলা জীবটা অপেক্ষায় থাকে, তার বাবার ঘরে ফিরে আসার…”