Rupali Rai Bhattacharya:”আমায় শারীরিকভাবে হে*ন*স্তা করার জন্যও আ*ক্র*ম*ণ করে…আগের পাটুলি আর নেই…”, পরপর দু’দিন হেনস্তার অভিযোগে সরব অভিনেত্রী রূপালী ভট্টাচার্য

WhatsApp Group Join Now
Telegram Group Join Now
Instagram Group Join Now

Rupali Rai Bhattacharya:পরপর দু’দিন রাস্তায় হেনস্তার অভিযোগ তুলে সোশ্যাল মিডিয়ায় দীর্ঘ পোস্ট করলেন টলিউড অভিনেত্রী রূপালী ভট্টাচার্য। তাঁর দাবি, দীর্ঘ চার বছর ধরে পাটুলিতে বসবাস করলেও সম্প্রতি এলাকায় নিরাপত্তার পরিবেশের অবনতি হয়েছে। একই সঙ্গে তিনি পাটুলির মহিলাদের সতর্ক থাকার আবেদন জানিয়েছেন এবং অপরাধের বিরুদ্ধে নাগরিক প্রতিরোধ গড়ে তোলার ডাক দিয়েছেন।
রূপালী লেখেন, “আমি প্রায় ৪ বছর পাটুলিতে থাকি। সপ্তাহে অন্তত ৫ দিন আমি পুরো পাটুলীতে দিনে ২ কিলোমিটার হিসেবে হাঁটি। কোনো দোকানে জাঙ্ক জুয়েলারি কিনি, কোথাও ফুচকা খাই। রাস্তায় অনেক রাত অবধি মেয়েরা সাবধানে ঘুরে বেড়ায় এখানে। মোটের ওপর পাটুলি যথেষ্ট শান্তিপূর্ণ এবং নিরাপদ টাউনশিপ ছিল এতোদিন। ছিল এতোদিন বলছি কারণ সরকার বদলের পর গত এক মাস ধরে পাটুলির নানা জায়গায় কিছু বাইরের ছেলেদের অস্বস্তিকর জটলা এবং শারীরিক ভাষা লক্ষ্য করছি যখন এক সন্ধ্যেয় হাঁটতে বেরোচ্ছি।”

অভিনেত্রীর দাবি, গত ২৪ জুন সন্ধ্যায় পাটুলির আর ব্লকের কাছে বাইপাসের ব্রিজ সংলগ্ন এলাকায় হাঁটার সময় এক সাইকেল আরোহী তাঁকে অনুসরণ করে এবং শারীরিক হেনস্থার চেষ্টা করে।
তিনি লেখেন, “গত বুধবার ২৪ শে জুন সন্ধ্যে ৭ টা নাগাদ যখন রোজের মতো পাটুলি ‘আর ব্লকের’ যে রাস্তা বাইপাসের ব্রিজের তলায় এসে মিশেছে সেখান দিয়ে হেঁটে মোড়ের হনুমান মন্দিরের দিকে যাচ্ছি তখন বেনুবন ছায়ার কিছুটা আগেই ব্রিজের পাশে একজন বছর কুড়ি বয়সের সাইকেল আরোহী আমায় পেছন থেকে ফলো করে সামনে গিয়ে ইউ টার্ন নিয়ে আবার আমার দিকে ধেয়ে আসে এবং আমায় শারীরিক হেনস্থা করার জন্যও আক্রমণ করে। আমি রিফ্লাক্স এ ধাক্কা মারায় আমার ডান হাতের arm কেটে যায় এবং ছেলেটা সাইকেল নিয়ে ঝড়ের বেগে পালিয়ে যায়।”এরপর তিনি জানান, অভিযোগ জানাতে পাটুলি থানায় গেলে আরেক তরুণীকেও একই ধরনের ঘটনার অভিযোগ করতে দেখেন।
তাঁর কথায়, “আমি পাটুলি পুলিশ স্টেশনে অভিযোগ দিতে গিয়ে দেখি আরও একটি মেয়ে এক ঘটনার বর্ণনা করছে। তারসাথেও মঙ্গলবার অর্থাৎ ঠিক আগের দিন এক ঘটনা ঘটেছে পাটুলি মোড় থেকে ঢালাই ব্রিজ যাওয়ার রাস্তায় বাইপাসের ওপরেই। বোঝা গেল দোষী একজন অভিজ্ঞ সিরিয়াল অফেন্ডর। পুলিশ আমাদের সাথে খুবই তৎপর হয়ে সহায়তা করেন এবং আমায় সঙ্গে নিয়ে ঘটনাস্থলে এ গিয়েও ডিটেল সংগ্রহ করার চেষ্টা করেন। এই বিষয়ে ওনারা তদন্ত করছেন।”

রূপালীর অভিযোগ, ২৬ জুন ফের টি ব্লকের মাঠের কাছে এক ডেলিভারি কর্মীর সঙ্গে তাঁর বচসা হয়। সেই প্রসঙ্গে তিনি লেখেন, “এবার আজ শুক্রবার ২৬শে জুন আমি আমার পাড়ার কাছে পাটুলি ‘টি ব্লক’ এর খেলার মাঠের পাশ দিয়ে বাড়ি ফিরছিলাম ৬.৪৫ নাগাদ। একটি সুইগি-র ডেলিভারি র লোক উল্টো দিক থেকে বাইক নিয়ে আসছিল। আমি খেয়াল করিনি প্রথমে। কিন্তু ও কাছে এসে হঠাৎ আমার দিকে স্পিডে একটা ভাঁজ মেরে তারপর আমায় ক্রস করে এগিয়ে যায়। স্বভাবতই আমি চমকে ছিটকে সরে যাই আর ঘুরে তাকাই যে দিকে বাইক টা যাচ্ছে। কিন্তু আমি মুখে কিছু বলিনা। শুধু লক্ষ্য করি। বাইকটা ও আমায় ঘুরতে দেখে সঙ্গে সঙ্গে দাঁড়িয়ে পরে। তারপর গলা তুলে আমায় থ্রেট করার ভঙ্গিতে বলে ওয়ে ক্যা বলি তু? আমার আগের দিনের ঘটনাটা মনে ছিল তাই আমি লোকটার সামনে এসে বলি আমি কিছু বলিনি কিন্তু বলা উচিত ছিল। লোকটা হিন্দিতে আমায় গালি দেওয়া শুরু করে এই বলে যে আমি তো তোকে কিছু করিনি কিন্তু তুই পাক্কা কিছু বলেছিস। অন্য জায়গার থেকে নিজের পেশার জন্য আসা ডেলিভারির লোকজনের এখন এত সাহস বাড়ছে!!”
তিনি আরও লেখেন, “আমার মাথা আগুন হয়ে যায় আমি চিৎকার করে বলি এতক্ষণ কিছু বলিনি কিন্তু এবার একটা থাপ্পড়ে দুপাটি দাঁত ফেলে দেবো তোর। চল থানায় চল। তারপর আরও কিছু বলি। আমি খুব ই পরিশীলিত কিন্তু অপরাধীদের দেখলে আমার হাত আর মুখ দুটোই প্রয়োজন অনুযায়ী চালাতে পারি।… কিন্তু একটা টোটো চালক দাদা ঘটনাস্থলে কি হয়েছে দিদি বলে সজোরে টোটো নিয়ে আসতেই ওই অবাঙালি সুইগির-র লোকটা বাইক নিয়ে ঝড়ের বেগে পালিয়ে যায়।”

আরও পড়ুন:Gourab Tapadar:প্রাক্তন প্রেমিকার ফাঁস করা চ্যাট বিতর্কে মুখ খুললেন গৌরব।”ভরা মাসে আজকের দিনটি তোমার দৌলতেই তো দেখা…” পাশে দাঁড়িয়ে ক্ষমার বার্তা স্ত্রী প্রিয়াঙ্কার

পোস্টের শেষে পাটুলির মহিলাদের সতর্ক থাকার আবেদন জানিয়ে রূপালী লেখেন, “এতকিছু লেখার দুটো কারণ। 1) পাটুলির মেয়েদের বলছি সতর্ক থাকো। আগের পাটুলি আর নেই। 2) যে সব বহিরাগত অথবা কলকাতার বাসিন্দা অবাঙালিকুল মনে করছে বিজেপির সরকার এসেছে মানে বাংলার মেয়েরা এবার ওদের জন্য অ্যাভেলেবল, পাড়ায় বেপাড়ায় মেয়ে দেখলেই কুলদীপ সেঙ্গার হওয়ার ছাড়পত্র মিলে গেছে তাদের বলছি বাংলার মাটি এখনও দুর্জয় ঘাঁটি। বাংলার মেয়েরা বাংলার শিক্ষিত ছেলেরা এখনও অপরাধীদের সিধে করতে যথেষ্ট। এখনও সময় আছে। যারা মনে করছে সরকার বদলেছে মানে এবার মেয়েদের নিয়ে আনন্দ ফুর্তি করবে তাদের বলছি শুধরে যা। নয়ত পুলিস তোদের ধরার আগে পাবলিক পিটিয়ে ছাতু করে দেবে মেয়েদের সাথে নোংরামি করলে। অশালীনতা দেখলেই রুখে দাঁড়ান। জাতি ধর্ম বর্ণ এবং রাজনৈতিক মতাদর্শ নির্বিশেষে। একমাত্র নাগরিক প্রতিরোধেই এগুলো বন্ধ করা সম্ভব।”
নারী নিরাপত্তার কথা ভেবে নিজের পোস্টে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী, শমীক ভট্টাচার্য, অগ্নিমিত্রা পালকেও ট্যাগ করেছেন রূপা ভট্টাচার্য।

Leave a Comment