Hiran Chatterjee:তৃণমূল জমানার দীর্ঘ টলিপাড়া-বিচ্ছেদ কাটিয়ে অবশেষে টলিউডে প্রত্যক্ষভাবে স্বমহিমায় ফিরেছেন বিজেপি নেতা তথা অভিনেতা হিরণ চট্টোপাধ্যায়। আর এই প্রত্যাবর্তন ঘিরেই সংবাদমাধ্যমের সামনে নিজের একাধিক ক্ষোভ ও ইন্ডাস্ট্রির ভবিষ্যৎ রূপরেখা স্পষ্ট করলেন তিনি। হিরণ সাফ জানান, আগের সরকারের মদতপুষ্টদের দলবাজি ও প্রভাব খাটানোর মানসিকতা রাতারাতি চলে না গেলেও, সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে সেই প্রভাব মুক্ত করতে হবে। তাঁর দাবি, বর্তমান সরকার শিল্পক্ষেত্রে কোনো দুর্নীতি বা দাদাগিরি বরদাস্ত করবে না, এমনকি আগে নন্দনে ছবি রিলিজের জন্য যে প্রভাব খাটাতে হতো, যোগ্যতার নিরিখে এখন তা বদলেছে।
টেকনিশিয়ানদের সমস্যার কথা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “আমার তো জানানেই ফ্রেডারেসান সম্পর্কে সবাই তো নির্দ্বিধায় কাজ করছেন। কোনো শিল্পীকে তো আটকানো হয়নি বা কোনো টেকনিশিয়ানকে বলা হয়নি যে তুমি কাজ কোরো না।আগের সরকারের সাথে যাঁরা যুক্ত ছিল তাঁরা যেভাবে দলবাজি করেছে যেভাবে প্রভাব খাটিয়েছে তাঁরা তো এখনো আছে, তাঁরা তো হঠাৎ করে চলে যায়নি। ফলে তাঁরা তাঁদের মতো করে প্রভাব খাটানোর এখনও চেষ্টা করছে। আমাদের সবাইকে ঐক্যবদ্ধ ভাবে এগিয়ে আসতে হবে যাতে সেই প্রভাব না থাকে। সবাই মিলে যদি আমরা এগিয়ে এসে এক অপরকে সাহায্য করি তাহলে ওদের দীর্ঘদিনের ওদের প্রভাব মুক্ত করা যাবে। আস্তে আস্তে বন্ধ করা যাবে একদিনে তো কিছু পাল্টে যায় না! সরকার কোনওরকম কোনো প্রভাব বিস্তার, দুর্নীতি বরদাস্ত করেনি, আর করবেও না। এটা সমাজের প্রতিটা স্তরের জন্য সরকারের নির্দেশ। আগে নন্দনে আপনারা জানেন করো রেফারেন্স ছাড়া সিনেমা রিলিজ করা যেতো না। এখন নিশ্চই সেরকম হয় না। যেই সিনেমাগুলো যোগ্য সেগুলো নন্দনে মুক্তি পাচ্ছে। আমার মনে হয়না যে সমস্ত টেকনিশিয়ানরা কাজ করছেন তাঁরা কোনও অসুবিধার সম্মুখীন হচ্ছেন বলে। তো যদিও করেন আমি তো বলেছি আমার ফোন নম্বর সবার কাছে আছে আমাকে মেসেজ করবেন, ফোন করলে সবসময় ফোন তোলা সম্ভব হয় না। মেসেজ করবেন চেষ্টা করব সমাধান করে দেওয়ার।”
টলিপাড়ার বহুচর্চিত ‘ব্যান কালচার’-এর সম্ভাবনা উড়িয়ে দিয়ে এবং সোমনাথবাবুর প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, “সোমনাথদাকে কেউ কাটকায়নি। সোমনাথদার সাথে কেউ মিসকমিউনিকেট করেছিল সোমনাথ দা আমাকে সঙ্গে সঙ্গে ফোন করেছিলেন, আমি বলেছিলাম আপনাকে কেউ আটকে দিয়েছে? শ্যুটিং করতে দেয়নি? বলেন না এরকম কিছু নয় কেউ কিছু বলার চেষ্টা করেছিল কেউ প্রভাব খাটানোর চেষ্টা করেছিল কিন্তু আমরা তাদের সেই দুরভিসন্ধি আটকে দিয়েছি।আর বলেছি কেউ যদি কাজে আটকায় আমাকে সঙ্গে সঙ্গে জানাবেন।সোমনাথদা যখন অ্যাসিস্ট্যান্ট ছিল সুব্রতদার তখন থেকে সোমনাথ দা আমার সাথে কাজ করেছে সেই ২০০৭ সালে ‘নবাব নন্দিনী’ থেকে! ফলে এদেরকে তো আমি সেই তবে থেকে চিনি। আপনাদের কাছে ভুল তথ্য গেছে। কেউ কাউকে আটকায় নি কেউ কাউকে ব্যান করেনি। এবং পশ্চিমবঙ্গে কেউ কাউকে ব্যান করার ক্ষমতা কারো নেই। কেউ যদি বলে ব্যান করব, পশ্চিমবঙ্গ থেকে তাকেই আমরা বের করে দেব! আমি কনফ্রেডারেশন, ফ্রিডারেশন এসব জানি না আমার কাছে স্পষ্ট একটা বার্তা ছিল আমি মুখ্যমন্ত্রীকেও জানিয়েছিলাম ব্যক্তিগতভাবে আমার দিক থেকে বলা যেহেতু আমি এখানে ২০০৭ সাল থেকে সিনেমা করেছি, আমার যতটুকু অভিজ্ঞতা আছে এখানে সবাই কাজ করবে, কারোর কোনো বাধা থাকবে না, কার্ড থাকুক না থাকুক কেউ যদি যোগ্য হয়, করো যোগ্যতা তো আমরা কার্ড দিয়ে আটকে রাখতে পারি না!অনেকের মনে হতে পারে আমার কার্ড করার প্রয়োজন নেই আমি যোগ্য, যার কাছে কার্ড আছে তাঁর থেকেও বেশি যোগ্য সে নিশ্চয়ই কাজ করবে। আমাদের ফিল্মসি ইন্ডাস্ট্রি তো কোনো চাকরি নয়! এমপ্লয়মেন্ট নয় ফ্রিল্যান্সিং, মানুষের যোগ্যতার বিচারে ডিরেক্টর, প্রডিউসাররা নির্বাচন করেন। এখানে তো ইলেকশন হয় না সিলেকশন হয়! গত ৫ বছর আমি আর্টিস্ট ফোরামের মেম্বারশিপ কন্টিনিউ করিনি। যেদিন থেকে আমার সিনেমায় অভিনয় করা বন্ধ হয়েছে আমি আর্টিস্ট ফোরামের আর টাকাপয়সা দেয় না। আমাকে ফোন করেছিলেন আর্টিস্ট ফোরামের কয়েকজন, হিরণ তোমার মেম্বারশিপ এখনও পেন্ডিং পড়ে রয়েছে।আর্টিস্ট ফোরাম আমাকে কাজ দেয়নি আমি নিজে কাজ করছিলাম। স্বইচ্ছায় আর্টিস্ট ফোরামের মেম্বারশিপ নিয়েছিলাম, যখন কাজ করছি না তখন আর্টিস্ট ফোরাম থেকে বেরিয়ে গেছি। আর্টিস্ট ফোরামে থাকলেই যে কাজ করতে পারব এরকম পৃথিবীতে কোনো নিয়ম নেই। আপনি যদি কোনো প্রতিষ্ঠানে কাজ করতে যান সেই প্রতিষ্ঠানের ওপর নির্ভর করছে আপনাকে তাঁরা কাজ দেবে কিনা, পৃথিবীর ইতিহাসে শিল্প এমন একটা জিনিস, যে শিল্পীকে স্বাধীনভাবে কাজ করতে দিতে হবে। তাঁদেরকে কোনোরকম চড়ি ঘুরিয়ে আটকে রাখা যাবে না। এটা পৃথিবীর ইতিহাসে হয়নি আমাদের পশ্চিমবঙ্গেও হবে না। মুখ্যমন্ত্রীর একদম পরিষ্কার নির্দেশ, শিল্পীসত্ত্বাকে কোনোরকম কোনো আইন দিয়ে আটকে রাখতে চাই না রাখতে চাই না চাইব ও না।”
টেকনিশিয়ানদের বকেয়া টাকা না পাওয়ার দায় ফেডারেশনের ওপর চাপিয়ে হিরন আরও বলেন, “ফ্রেডারেশান তো আগেও ছিল গত ১৫ বছর। বহু টেকনিশিয়ান তাঁরা টাকা পাননি, ফেডারেশন কি তাদের টাকা পাইয়ে দিয়েছিল? দেয়নি তো তারা ত একটা ক্ষমতা দেখিয়ে ক্ষমতার অপব্যবহার করেছিল।আমরা সবাই আলোচনা করে দেখব ক্ষমতার অপব্যবহার যেন না নয়।দাদাগিরি যেন বন্ধ হয়, সবাই যেন যোগ্যতার হিসেবে কাজ পায়।আমাদের পশ্চিমবঙ্গে এখন আইনের স্বাসন চলছে। এইসব ফেডারেশন, কনফেডারেশন ১৫ বছর ধরে ছিল তখন তো সমস্যার সমাধান হয়নি। তার তো অপব্যবহার হয়েছে। ফলে আমাদের পুলিশ আছে, দপ্তর আছে, বিচারব্যবস্থা আছে। কারো যদি কোনো সমস্যা হয় তাঁরা আসবেন আমাদের দপ্তর রয়েছে অফিসাররা রয়েছে সেখানে গিয়ে কথা বলবেন।”