Sajal Ghosh:”বাগেশ্বর বাবা বাংলার বাবা নয়, আর এই বাবাকে বাঙালি চেনেও না…বাগেশ্বর বাবার কথা না শুনলেও হবে…” বাগেশ্বর বাবার মন্তব্য নিয়ে বঙ্গ বিজেপিতে অসন্তোষ, মুখ খুললেন সজল ঘোষ

WhatsApp Group Join Now
Telegram Group Join Now
Instagram Group Join Now

Sajal Ghosh: দুর্গাপুজোয় আমিষ খাওয়া নিয়ে বাগেশ্বর ধামের প্রধান ধীরেন্দ্র কৃষ্ণ শাস্ত্রী বা বাগেশ্বর বাবার সাম্প্রতিক বিতর্কিত মন্তব্যের পর দূরত্ব বজায় রেখেছে বঙ্গ বিজেপি নেতৃত্ব। শমীক ভট্টাচার্য ও অগ্নিমিত্রা পালের পর এই নিয়ে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে নিজের সুর স্পষ্ট করলেন বিজেপি নেতা সজল ঘোষ। সজলবাবু পরিষ্কার জানিয়ে দেন, বাগেশ্বর বাবার এই মন্তব্যের সঙ্গে দল কোনোভাবেই সহমত নয়।

সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলার সময় সজল ঘোষ বলেন, “বাগেশ্বর বাবার মন্তব্যের সাথে বিজেপি কোনোভাবে সহমত নয়। কেউ কখনও এগরোল হাতে করে ঠাকুর দেখতে যায় না, সবাই সবার বউকে হতে করে ধরে রাখে কেউ কখনও চাউমিন খেতে খেতে যায় না পুজো মণ্ডপে, সেটাই বলেছেন, সূচিটা রক্ষা করতে হবে। সেটাকে আপনারা যাঁরা লিডিং সংবাদমাধ্যম, দয়া করে সঠিক পথে হাঁটুন এটা আমার আবেদন। বাগেশ্বর বাবা বাংলার বাবা নয়। আর এই বাবাকে বাঙালি চেনেও না। যাঁরা হিন্দিতে কথা বলেন তাঁদের কাছে উনি পরিচিত নাম। কিন্তু এই সমস্ত কথায়, তাঁর অনেক ভালো কথাও আছে। ভালো কথাটাকে নিন। খারাপ কথাটাকে বাদ দিন। আর যে রাজনৈতিক বাবারা এই জিনিসগুলো ছড়াতে সাহায্য করছেন তাঁদেরকে সরান।পশ্চিমবঙ্গের কিছু বাবা আপনাদের বুঝিয়েছিলেন যে বিজেপি জিতলে মাছ খাওয়া যাবে না মাংস খাওয়া যাবে না।তো আপনি কি খেয়ে এসেছেন? আলুভাতে, আলুসিদ্ধ ভাত খেয়ে এসেছেন? আপনি তো মাছ, মাংস পাচ্ছেন? আমি আমার বাবা যেটা শিখিয়েছিল সেটা করব।বাঘেশ্বর বাবার কথা না শুনলেও হবে। আর কিছু ওই সেকু, মাকু বাবাদের কথায় আপনারা ক্যামেরা নিয়ে ছোটাছুটি করবেন না।”

মণ্ডপ থেকে নির্দিষ্ট দূরত্বে আমিষ খাবার খাওয়ার প্রসঙ্গ উঠলে তিনি সেটিকে গুরুত্ব দিতে নারাজ হন। তাঁর মতে, মণ্ডপের ভেতর পুজোর আচার বা ভোগের গুরুত্ব আলাদা, আর বাইরের খাওয়ার বিষয়টি আলাদা। এ নিয়ে তিনি যোগ করেন, “কে রেইনো আপনি কি চান মণ্ডপের ভেতরে…বাইরে বসালেই হবে কতটা দূরে এরকম কিছু বলা নেই।”
তিনি আরও বলেন, “প্যান্ডেলের ভেতরে দেখেছেন রোল খেতে খেতে ঢুকছে হাতে রোল নিয়ে ঢোকে না বউয়ের হাত ধরে থাকে লোকে। ছেলেমেয়ের হাত ধরে থাকে লোকে। এগুলো নিয়ে কেন আলোচনা করছেন এগুলো আলোচ্য বিষয় নয়। যিনি বলেছেন তাঁর কথাটাকে আপনারা বিকৃত করছেন।” একই সাথে নিজের স্বভাবসিদ্ধ ভঙ্গিতে রসিকতা করে তিনি পরামর্শ দেন, “সব কিছু খান মদনদার মতো খাবেন না!”

আরও পড়ুন:Ranojoy Bishnu:”কোথাও কিছু খারাপ হলে সেটা ব্যক্তিগত জীবনের একটা পার্ট…” সামাজিক মাধ্যমের ট্রোলিং ও খবরের অহেতুক কৌতূহল নিয়ে ক্ষোভ, দায়িত্বশীল হওয়ার বার্তা দিলেন অভিনেতা রণজয়!

অন্যদিকে, সম্প্রতি মা দুর্গার ১১টি হাত সম্বলিত একটি বিতর্কিত বিজ্ঞাপন প্রকাশ ও তা নিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর প্রতিক্রিয়া প্রসঙ্গেও মুখ খোলেন সজল ঘোষ। এই বিতর্ক নিয়ে তাঁর বক্তব্য, “ভুল হয়েছে মুখ্যমন্ত্রী বলেছেন, অন্যায় হয়েছে এরপর আর কি কথা হতে পারে? ভুলটাকে একটা মুখ্যমন্ত্রী যখন ভুল বলে দিয়েছেন তার জন্য তিনি নিঃস্বার্থ ক্ষমা প্রার্থনা করেছেন তারপরে যদি সেটা নিয়ে কেউ রাজনীতি করে তাহলে সেটা অবশ্যই কোনো ষড়যন্ত্র। এর মধ্যে বিজেপি টানছেন বটে, আমি আপনাকে একটা কথা বলি মা দুর্গাকে যাঁরা প্রণাম করে তাঁরা সবাই বিজেপি এক। আর একটা এখন আমি আপনাকে প্রশ্ন করি এত বছর কোথায় ছিলেন আপনি? আপনার মোবাইলগুলো কোথায় ছিল? কতরকম হিজাব পরে কেউ মঞ্চে উঠে ঠাকুরের উদ্বোধন করছিলেন? তখন আপনারা কোথায় ছিলেন দিদি মনি?তখন তো আপনারা কেউ ছিলেন না, আবারও বলছি আজ অবধি কোনো মুখ্যমন্ত্রী বলেননি ভুল হয়েছে, এই মুখ্যমন্ত্রী নিঃস্বার্থ ভাবে দাঁড়িয়ে বলেছেন ভুল হয়েছে ক্ষমা চেয়েছেন। ধর্ম সবার নয়, ধর্ম আমার উৎসবটা সবার। সবাই উৎসব পালন করুক তা কে আপত্তি করেছে? উৎসবে আপনাকে বাধা কেউ দিয়েছে?”

Leave a Comment