Kanchan Mullick: টলিউডের মতো উ’ন্মু’ক্ত এবং বৈ’চি’ত্র্য’ম’য় ইন্ডাস্ট্রিতে বহু তারকাই একাধিকবার বৈ’বা’হি’ক স’ম্প’র্কে জ’ড়ি’য়ে’ছে’ন। কিন্তু সেই একই পরিস্থিতিতে থেকেও সকলের স’মা’লো’চ’না’র কেন্দ্রে সবচেয়ে বেশিবার উ’ঠে এসেছে অভিনেতা কাঞ্চন মল্লিক(Kanchan Mullick)-এর নাম। বিশেষ করে পঞ্চাশের কোঠায় এসে তাঁর তৃতীয় বি’য়ে এটিকে ঘিরেই যেন প্র’শ্ন, বি’ত’র্ক আর ক’টা’ক্ষ যেন নিত্যসঙ্গী হয়ে দাঁ’ড়া’য় তাঁর জীবনে। বহুদিন ধরেই নানা ম’ন্ত’ব্য, র’ট’না এবং স’মা’লো’চ’না’র মু’খো’মু’খি হতে হলেও এতদিন এই নিয়ে প্র’কা’শ্যে খুব বেশি কথা বলেননি তিনি। তবে সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে অভিনেতা খো’লা’খু’লি নিজের অবস্থান স্পষ্ট করলেন।
কাঞ্চনের কথায়, মানুষ সাধারণত বাইরে থেকে যা চোখে পড়ে তাই নিয়েই বি’চা’র করে নেয়। স’ম্প’র্কে’র ভে’ত’রে’র জ’টি’ল’তা, টা’না’পো’ড়’ন বা ভে’ঙে পড়ার কারণ এসব কেবল সেই দুইজনের কাছেই স্পষ্ট হয়ে ওঠে যারা সেই স’ম্প’র্কে থাকে। উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, যেমন একটি নৌকা কেবল মাঝিই জানে কতটা ফা’ট’ল ধরা, কোথায় জল ঢু’ক’ছে, আর তার পরিস্থিতি ঠিক কতটা স’ঙ্ক’ট’জ’ন’ক। বাইরে দাঁ’ড়ি’য়ে থাকা মানুষ হয়ত শুধু বলবে “মাঝিই নৌকা ডু’বি’য়ে দিল”, কিন্তু যে পুরো সময়টা নৌকা চালিয়েছে, সেই ব্যক্তি ছাড়া আর কেউই বোঝে না ভে’ত’রে’র বা’স্ত’ব অবস্থা কতটা ক’ঠি’ন হয়ে উঠেছিল।
এই প্রসঙ্গে এসে অভিনেতা আরও তী’ক্ষ্ণ ম’ন্ত’ব্য করেন। তিনি জানান, অনেকেই আছেন যারা অসংখ্যবার স’ম্প’র্ক গ’ড়ে’ছে’ন-বি’ছি’ন্ন করেছেন, অথচ সেগুলোকে কখনও “অফিসিয়াল” রূপ দেননি। তাঁর ভাষায়,“অনেকের ৩০টা ফু’ল’শ’য্যা, ৪০টা হা’নি’মু’ন হয়ে গেছে, কিন্তু তারা যেহেতু নথিভুক্ত করেনি, তাই তাদের নিয়ে এত প্র’শ্ন ওঠে না। অথচ আমি কেবল তিনবার অফিসিয়ালি বি’য়ে করেছি বলেই আমাকে বারবার শুনতে হয়।” কাঞ্চনের মতে, যখন কোনও স’ম্প’র্কে আর আ’বে’গ, বো’ঝা’প’ড়া বা পা’র’স্প’রি’ক স’ম্মা’ন অ’ব’শি’ষ্ট থাকে না, তখন সেই স’ম্প’র্কে জো’র করে টি’কে থাকার চেয়ে সেখান থেকে সরে আসা শ্রেয় এটাই তিনি সৎভাবে মেনে চলেছেন।
তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, স’ম্প’র্ক ভা’ঙা’র দায় কখনওই একতরফা নয়। “এক হাতে তালি বাজে না” – এই প্রবাদটিই যেন তাঁর জীবনের প্রেক্ষিতে আরও বেশি প্রা’স’ঙ্গি’ক হয়ে ওঠে। তবে তিনি এটাও স্পষ্ট করেন যে, যদি তিনি প্রতিটি বিষয়ে ব্যা’খ্যা দিতে বসেন, তখন সেই স’ম্প’র্ক’গু’লো’কে ঘি’রে নতুন করে খোঁ’চা’খুঁ’চি, দো’ষা’রো’প আর আ’লো’চ’না’র ঝ’ড় উঠবে। তাই ইচ্ছে করেই তিনি অনেক বিষয়কে বি’ত’র্কে’র বা’ই’রে রাখতেই স্ব’স্তি’বো’ধ করেন। তাঁর মতে, কিছু কথা প্রকাশ্যে না বলাই ভালো।
ব্যক্তিগত জীবনের সং’ক’টে’র কথা বলতে গিয়ে কাঞ্চন জানান, একসময় তিনি এমন এক মা’ন’সি’ক অবস্থার মধ্য দিয়ে যাচ্ছিলেন, যখন নিজেকে যেন হা’রি’য়ে ফেলেছিলেন। সেই সময়ই তাঁর জীবনে আসে শ্রীময়ী (Sreemoyee Chattoraj)। কাঞ্চনের ভাষায়, শ্রীময়ীর ভা’লো’বা’সা এবং সঙ্গ তাঁকে নতুন করে গ’ড়ে তুলেছে, ভে’ঙে প’ড়া নিজের ওপর আবার আস্থা ফি’রি’য়ে দিয়েছে। তিনি হা’ল’কা র’সি’ক’তা করে বলেন, “ওকে আমি একটু ভ’য়’ও পাই”, তবে তারপরেই যোগ করেন তিনি জানেন, শ্রীময়ী ছা’ড়া তাঁকে সা’ম’লা’নো’র ক্ষ’ম’তা আর কারও নেই। তাঁর ম’ন, মে’জা’জ, দু’র্ব’ল’তা সবকিছু বুঝতে পারার ক্ষ’ম’তা শুধু শ্রীময়ীরই আছে বলে বি’শ্বা’স করেন তিনি। তাই জীবনের নানা ক্ষেত্রে তিনি স্ত্রীর কথাই গু’রু’ত্ব দিয়ে শোনেন ও মেনে চলার চেষ্টা করেন।
কাঞ্চনের তৃতীয় বি’য়ে’র সি’দ্ধা’ন্ত সা’ম’নে আসার পর থেকেই তাঁকে নিয়ে নানা স’মা’লো’চ’না, ক’টু ম’ন্ত’ব্য, এমনকি ব্যক্তিগত আ’ক্র’ম’ণ’ও ক’ম হয়নি। শুধু তাঁকে নয়, এমনকি তাঁদের ছোট্ট সন্তানকেও অনেক সময় ছা’ড় দেওয়া হয়নি একথাও উঠে আসে অভিনেতার অ’ভি’মা’নে। বহুবার প্রশ্ন তো’লা হয়েছে পূর্বের সং’সা’রে একটি সন্তান থাকা সত্ত্বেও কেন অভিনেতা পিঙ্কি(Pinky Banerjee)-কে ডিভোর্স দিলেন? কেন নতুন স’ম্প’র্কে জ’ড়া’লে’ন? এসব প্রশ্ন যেন অবিরামভাবে তাঁর দিকে ছুঁ’ড়ে দেওয়া হয়েছে। কিন্তু কাঞ্চনের মতে, এসব প্রশ্নের উত্তর প্রকাশ্যে দিয়ে নিজের ব্যক্তিগত জীবনকে আরও বি’শ্লে’ষ’ণ ও স’মা’লো’চ’না’র টেবিলে বসানো ঠিক নয়।
তিনি বিশ্বাস করেন, প্রত্যেক মানুষেরই নিজের জীবনের সি’দ্ধা’ন্ত নেওয়ার অ’ধি’কা’র রয়েছে। স’ম্প’র্ক ভে’ঙে যাওয়ার পে’ছ’নে যে পরিস্থিতি, যে দীর্ঘ টা’না’পো’ড়’ন, মা’ন’সি’ক অ’শা’ন্তি বা দূ’র’ত্বে’র জ’ন্ম হয় সেটা বাইরের কারও পক্ষে বোঝা সম্ভব নয়। তাই যাঁরা দূ’র থেকে বি’চা’র করছেন, তাঁদের কাছে তাঁর জীবনের বা’স্ত’ব’তা কখনওই পুরোপুরি পরিষ্কার হবে না এটাই তাঁর দৃ’ঢ় মত।