Kalita Maji: শুভেন্দু অধিকারীর মন্ত্রীসভায় স্থান পেয়েছেন কলিতা মাঝি। যিনি আউশ নামক এক অতি প্রত্যন্ত গ্রামের অতি সাধারণ মহিলা। আজ এই সাধারণ মহিলাই রাজ্যের মন্ত্রী দরবারের একজন মন্ত্রী। এক সমাজমাধ্যমের সাক্ষাৎকারে মন্ত্রী কলিতা মাঝি ভাগ করে নিলেন নিজের কিছু কথা। মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব একটু বেড়েছে জানালেন তিনি। প্রতিজ্ঞাবদ্ধ ছিলেন, জিতলে নিজের এলাকার মানুষের স্বার্থে উন্নয়ন করবেন। কিন্তু এখন রাজ্যের মানুষের দায়িত্ব পেয়ে কতটা বিচলিত তিনি?
উত্তরে বলেন, “মানুষের সেবা করা তো মানুষের পক্ষে ধর্ম মানুষের জন্য এই জায়গায়। সাধারণ মানুষ আমাকে চেয়েছেন বলেই এখানে এসেছি। নাহলে তো এখানে আসতে পারতাম না। এমনি এমনি টাকাপয়সা নিয়ে এখানে চলে আসতে পারতাম না! মানুষ পাঠিয়েছেন, চেয়েছেন, মানুষের সুবিধা-অসুবিধা দেখা অবশ্যই কর্তব্যের মধ্যে পড়ে এবং এটা ধর্ম মনে করি আমি। ২০১৪-তে ভারতীয় জনতা পার্টিতে যোগদান নিয়ে কলিতা বলেন, “দেখুন আমি খুব সাধারণ ঘরের মেয়ে, সাধারণ ঘরের বউ। একদম খেটে খাওয়া ঘরের মেয়ে, বউ ছিলাম। আমরা সাত বোন, এক ভাই, আমাদের রাজনীতি করতে হবে এরকম মানসিকতা ছিল না। যখন ২০১৪-তে সবাই হৈ হৈ মিটিং মিছিল করত আমিও খুব খুশি হয়ে বুথের কার্যকর্তা হিসেবে কাজ করতে শুরু করলাম, তখন বুথের কর্মকর্তা হিসেবে কাজ করতাম। তারপরে ২০১৯ আমি মোদিজীর যখন স্বপ্ন দেখলাম, আমি মোদিজীর যখন অনুপ্রেরণা দেখলাম তখন থেকে আমি দায়িত্ব বণ্টন করলাম। ২০১৯ সালে আমি নগর প্রেসিডেন্ট আমাদের ঘুষখানা নগরের আমি সম্পাদিকা ছিলাম। এবং ২০২১ সালে বিধানসভা প্রার্থী।”
২০২১ সালে বিধানসভা প্রার্থী হিসেবে ১২০০০ ভোটে হেরেছিলেন, আর এইবারে ১২৭০০ ভোটে জয় এটাকে কিভাবে সম্ভব হল?
উত্তরে কলিতা বলেন, “একুশে ১২০০০ ভোটে হারিনি তো! ১১৭০০ ভোটে হেরেছিলাম।” প্রশ্ন ছিল, এই যে একুশে হেরে গিয়ে বাইশে প্রত্যাবর্তন, এটা কে কি বলবেন? উত্তরের আগে সরলতার সাথে সাংবাদিককে জিজ্ঞাসা করলেন, “প্রত্যাবর্তন মানে”? বলেন, আমি তো দল থেকে সরে যায়নি! দেখুন, আমি যখন একুশে বিধায়ক হই, আমার কর্তব্যের মধ্যে পড়ে ৫ বছর! বিধানসভাটা দেখার হারি বা জিতি, সেই দায়িত্বটা আমার ৫ বছর থেকে ৫ বছর পর যদি কোনো বিধায়ক পরিবর্তন হয়, তখন গুরুত্ব অন্য জায়গায় থাকে। কিন্তু একুশে যখন লড়াই করেছি ৫ বছর আমারই দায়িত্ব ছিল। কারণ বিধানসভাটা আমাকেই দেখতে হবে। এরকম আমি বিভিন্ন রকমের বিভিন্ন পদ সামলে এসেছি এবং বিভিন্ন জায়গায় বিভিন্ন কাজ করেছি। আগে পরিচারিকার কাজ করতেন সেই সাথে মিড ডে মিল রান্নাও করতেন সেগুলোর কি হবে? বলেন, “আমাদের ১০ জনের একটা গোষ্ঠী আছে, তারাই ওগুলো সামলে নেবেন। ওটা নিয়ে চাপ নেই।” তাঁর গলার দৃঢ় স্বর বলে দেয় কতটা নির্ভয় তিনি।
বিজেপির প্রান্ত সীমার মহিলাদের উন্নীতকরণ নিয়ে বলেন, “মানুষের ভরসা, আশীর্বাদ, সাধারণ মানুষ ভালোবেসেছেন ভরসা করেছেন, তারা আমকে ভরসা করেছেন, আমিও তাদের ভরসা করি। যে তারা আমাকে কোনোদিন ছুঁড়ে ফেলে দেয়নি। কোনো খারাপ ব্যবহার করেনি, কোনো অভিযোগের মুখে পড়তে হয়নি। কারণ সাধারণ মানুষ খেয়েছেন বলে এই জায়গায় সাধারণ মানুষ পাঠিয়েছেন বলে এই জায়গায় তাই মানুষের ওপরে ভরসা করি আমি। সাধারণ মানুষের ভালবাসাকে আমি ভরসা করি।”
বাড়িতে পরিবারকে সময় দেওয়া নিয়ে বলেন, “যে কোনো একটা দিক বেছে নিতে হবে। সবসময় সব জিনিসটা যে একবারেই সামলাতে পারব সেটা কখনও নয়। যখন দেখব আমার বাইরে কাজ আছে বাইরে সামলাব। যখন দেখব বাড়িতে কাজ আছে বাড়িতে সামলাব। দুটোকেই মেইনটেইন করে চালাব। যেই বাড়িগুলোতে তিনি পরিচারিকার কাজ করতেন তাদেরও ফোন পেয়েছিলেন মন্ত্রী হওয়ার পর। জানালেন, “তারা তো খুশি। তারা আনন্দে কাঁদছে বলছে যে তুই যে এতবড় জায়গায় যাবি আমার ভাবতে পারিনি রে। তুই আগের জন্মে কিছু করে এসেছিলি বোধহয়। তাই এই জন্মে এতবড় জায়গায় গেলি। তুই জিতিসনি, আমি জিতেছি।”
তিনি মন্ত্রী হচ্ছেন এটা শুনে কতটা আনন্দ পেয়েছিলেন? বলেন, “সাংবাদিকদের মধ্যে শুনেছিলাম, কিন্তু এটা অতটা গুরুত্বপূর্ণ ভাবিনি।এমনি মিটিংয়ে ডেকেছে মিটিং হবে এইটুকুই। এখানে প্রায় ১টা-২টো নাগাদ ঢুকেছি আমি।”
আরও জানান মুখ্যমন্ত্রীর সাথে দেখা করলেন, প্রণাম করলেন। তাঁর দায়িত্ব সম্পর্কে কোনো কথা হয়নি এখনও।
তাও জানান, দায়িত্ব পাওয়ার পর প্রথম ৫টা কাজ কি হবে? উত্তরে বলেন, “আমি যখন বিধায়ক ছিলাম তখন আপাদমস্তক চিন্তাভাবনা করেছিলাম। এখন তো গোটা রাজ্যের দায়িত্বে, যে দায়িত্ব দেবেন সেটা নিয়েই চিন্তা হবে। যে কর্মসূচি দেবেন, সেটা তো এখনও ভাগ হয়নি, তাই আমি কি করে বলি।” বলতে বলতেই আনন্দের অশ্রুতে চোখের কোনা ভিজে এল নবনির্বাচিত মন্ত্রীর। মন্ত্রী হওয়ার পর কলিতা মাঝির মধ্যে কি অহংকার বাসা বাঁধবে? তিনি বলেন, “এগুলো আমার মধ্যে নেই। এগুলো কোনোদিন পাবেন না। আমি যেরকম সাধারণ, সেরকম সাধারণই থাকতে চাই। আমি যেরকম মানুষ, সেরকম মানুষের পাশে থাকতে চাই। আমার মধ্যে ওই অহংকারটা নেই, ভগবানের কাছে প্রার্থনা করি ভগবান যেন আমাকে ওই অহংকারটা না দেয়।আমি যেমন ছিলাম সেরকমই থাকতে চাই।”
এসআইআর নিয়ে তিনি বলেন, “ওটা আইনের প্রক্রিয়া ছিল, ওটা আমাদের হার ছিল না। এবং ওটা ইলেকশান কমিশন-এর জর্জ দেখেছিলেন। তাই আমার ভরসা বিশ্বাস ছিল ইলেকশান কমিশন আর জর্জের ওপর। যে আমার নথিপত্র তো সব ঠিক আছে। আমরা সাত বোন সবার বেরোলো, আমার দাদার বেরোলো, আমার বাড়িতে আমার স্বামীদের সবার বেরোলো। প্রার্থী হওয়ার আগেও জানতাম, পরেও সবার বেরিয়েছে তাহলে আমার কেনো বেরোলো না? আমার কাগজ পত্র ঠিক ছিল, তাই কোনো টেনশনই ছিল না জানি বেরোবে।”
তিনি আরও বলেন নিজের এলাকার মহিলাদের জন্য বিধান ভায় সরব হতে চলেছে তাঁর কণ্ঠ। বলেন, “আমার গলা ফাটানোর আগে আমার Kalita Maji: মুখ্যমন্ত্রী অলরেডি কাজ শুরু করে দিয়েছেন। অন্নপূর্ণা ভান্ডার চালু করে দিয়েছেন, সরকারি বাসে মহিলাদের যাতায়াত আজকে থেকে ফ্রি করে দিয়েছে, তাহলে আবার গলা ফাটানোর কি আছে?” সংবাদমাধ্যমের মধ্যে দিয়ে বার্তা দেন, যারা ফ্রম ফিলাপ করতে পারেননি চিন্তার কোনো কারণ নেই। তিন মাস ধরে হবে। সবাই পাবে।” শেষে জানান, ২০২৬ তার কাছে খুবই স্পেশাল। ছেলের উচ্চমাধ্যমিক পাশ সেই সাথে নিজের মন্ত্রিত্ব পাওয়া, বলেন, “ভগবান আমাকে সারপ্রাইজ দেবে আমি ভাবতে পারিনি। বিধায়ক থেকে মন্ত্রী মানে বিশাল ব্যাপার।” মন্ত্রিত্ব পাওয়ায় কলিতাকে কি উপহার দিলেন স্বামী?
বলেন, “আমাদের ওসব নেই। আমরা হাসিখুশি থাকতে ভালোবাসি। গিফটে ভালোবাসা বোঝা যায় না। একটা গিফট দিলেই কি ভালোবাসা হয়?”