Satabdi Roy: ইতিমধ্যেই রাজ্য-রাজনীতির অন্যতম চর্চার বিষয় তৃণমূলের ভাঙন। ইতিমধ্যেই সেই খবর ঘোরাঘুরি করছে সমাজমাধ্যম ও সংবাদমাধ্যমে। এবার এই খবর নিয়ে খোলাখুলি কথা বললেন চর্চার কেন্দ্রে থাকা অভিনেত্রী শতাব্দী রায়। ২০০৯ সাল থেকে তৃণমূলের সাথে ছিলেন অভিনেত্রী, তাঁর এই অবস্থান পরিবর্তনে বেশ হতচকিত রাজনৈতিকমহল। সেই সাথে আমজনতাও।
অভিনেত্রীর বক্তব্য, “পরিকল্পনা এখন একটা ব্লক বানিয়ে থাকা। সেখান থেকে ঠিক করা হবে ভবিষ্যতে কী করা হবে! ইন্ডিয়ার পার্ট হিসেবে। তৃণমূলের প্রধান দল যদি থাকে, সেই দলে আমরা আর নেই!আমরা আলাদাভাবে কাজ করতে চাই। সেটা তাঁরা এখন সিদ্ধান্ত নেবে যে তৃণমূলেরই ব্লক হিসেবে কিনা, কিন্তু ব্লক আলাদা।” একসঙ্গে ২০ জন এমপি হিসেবে এরকম সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ জানতে চাইলে তিনি বলেন, “২৮ জনের মধ্যে যদি ৮ জন এটা হতো তাহলে তুমি বলতে পারতেন যে এই ৮ জন ভুল বা ২ জন হতো ২ জন ভুল। যখন সংখ্যাটা এত বেশি তাদের ব্যাপারে ঠিক ব্যাপারটা থাকছে না। এতোগুলো যখন একটা ঘটনাকে সমর্থন করছে বা একটা দিকে যাচ্ছে, কেউ কারো মাসতুতো ভাই, পিসতুতো বোন কেউ নয়। সবাই আলাদা আলাদা জায়গা থেকে এসেছে তারপরে যখন সিদ্ধান্তগুলো একই নিচ্ছে তার মানে যেখান থেকে যাচ্ছে সেখানে নিশ্চয়ই কোনো অভিযোগ থাকছে, অভিমান থাকছে, ক্ষোভ অনেক কিছু থাকছে। এবং প্রত্যেকের ক্ষোভ আলাদা থাকতে পারে, অভিমান, অভিযোগ আলাদা আলাদা থাকতে পারে। কিন্তু দল কথা শোনে না এই একটা পয়েন্টে সবাই এক বা কথা বলতে দেয় না।সেটা অনেক ক্ষেত্রেই অনুভব করা হয়। আগে কি কি ঘটেছে? ভুলে যান আমার একটা প্রশ্ন খালি, যেই দিনকে ৪ তারিখ হারের পর আমাদেরকে ডাকা হলো কি জন্যে? এরকম নয় ১৫০০ লোক ছিল, ১৫-২০ জন ছিলাম আমারা এমপিরা। হারের পর ডাকা মানে তো এনালাইসিস করা কারণে যে কেন হরলাম! যে তোমার এলাকায় কি অবস্থা তোমার কি মনে হয় কেনো হারলে? হারের পর এত্ত বড় একটা বিপর্যয়, রাত্রে রাজা রানী, সকালে উঠে কেউ নেই সেখানে! সেই বিপর্যয়ের পরে যখন ১০ দিন পর যখন মিটিং হলো তখন সেটা এনালাইসিস নয়! সেটা কিছুই না যে দু একজন বলতে চেষ্টা করলো তাদের বলা হলো বলো না লিখে পাঠিও এখনও লিখে পাঠানোর সময় আছে কারুর? আমার অভিযোগ সেখান থেকে শুরু, আগের অভিযোগ ভুলে যান। আপনি যদি বলেন আগে বলেননি কেন? অনেকবার বলেছি।কিন্তু সেইদিনকে আমার যা অভিযোগ তৈরি হয়েছে, আমার যা দলের প্রতি রাগ হয়েছে তার ফল এটা। এতবড় হারের পরও একবারও বিশ্লেষণ হচ্ছে না যে কেন হারলাম! হার স্বীকারই করছেন না! ঠিক আছে নয় চ্যানেলের কাছে স্বীকার করছেন না। কিন্তু আমাদের নিজেদের কাছে তো স্বীকার করতে হবে। আপনি ডাক্তারের কাছে গেলে তো রোগটা বলতে হবে! এই জিনিসটা তো আগেও দরকার ছিল। যে যা যা বলতে চেয়েছে বলতে দেওয়া হয়নি। বলেছে চিঠি লিখে দাও চিঠি লিখে দাও। লক্ষ লক্ষ চিঠি সেটা কি হয়?আমাকেও বলল চিঠি লেখো। আমি বললাম ১৭ বছর চিঠি লিখেছি আর লিখে লাভ নেই! সেই সিনেমা রিলিজ থেকে আমি যদি মনে করি কি কি অভিযোগ আমার দলের প্রতি রয়েছে সেগুলো আমি ভুলে গেছি। আমার একটা কথা ৪ তারিখের পর যখন আমাদের দেখা হলো একবারের জন্যও কেনো আলোচনা হলো না যে হারলাম কেন? আপনারা যদি বলেন আমরা সুখের পায়রা তাহলে আমাদেরও আছে সংগ্রাম দলের প্রতি। আমাদেরও একটুখানি অবদান আছে তাই না? সেখানে আমাদের একবারও জানতে চাওয়া হল না? কারও সাথে আলোচনা করা হয়নি কেন হেরেছি। এটা তো সবচেয়ে প্রথম আপনি যদি বলেন এক কথায় কেন? আমি বলব যে এই কারণে। আর থাকলাম না।”
এই ক্ষোভগুলো সব একত্রিত হল কি করে?
প্রশ্নের উত্তরে শতাব্দী বলেন, “আমি জানি না ওখানে গিয়ে অনেকের সাথে দেখা হয়েছে। ওখানে গিয়ে আমি জেনেছি সত্যি কথা, আমি অনেকেও জানতাম না যে ও এরকম। শুনছি হয়তো আমাদের নিজেদের মধ্যে কথা হচ্ছে ও আসবে ও আসবে, কেউ কারো সাথে যোগাযোগ করেছে, কেউ কারো সাথে যোগাযোগ করেছে এরকমভাবে হয়েছে। কেউ একজন দায়িত্ব নেয়নি তার ফলে বুঝতে পারছি না…কারণগুলো এক হয়েছে, এবং সবথেকে বড় কারণ যা এই মুহূর্তে দলের যা সিচুয়েশন ৫ বছর তো নিঃসন্দেহে এই সরকার থাকবে। তো কাজ করতে গেলে এই সরকারের সাথে কাজ করতে হবে। আপনি আপনার এলাকাতে এখনও তিন বছর আছেন সেই তিন বছর যে আপনি কাজ করবেন যদি আপনি সরকারের সাথে না থাকেন, রাজ্য সরকারের সাথে… আর এটা তো সুবিধেও যে আজকে রাজ্য আর কেন্দ্রর সুবিধা কী হচ্ছে যে স্কিমগুলো আমাদের নেওয়া হতো না সেই স্কিমগুলো নেওয়া হবে, সুবিধাগুলো আসবে উন্নতি হবে। ডাবল ইঞ্জিনের সুবিধে, আমি আগে যেটা মাইনাস পয়েন্ট ভাবতাম এখন তো দেখি প্লাস পয়েন্ট। এবং শুভেন্দু বারবার এটা বলছে উন্নতি দেখবে কি করি। তো রাজনীতি করে, যে যায় বলুন উন্নতিটাও একমাত্র রাজনীতি। তাই উন্নতি যে করবে তার সাথে সবার থাকা উচিত।”
পশ্চিমবঙ্গের নতুন মুখ্যমন্ত্রীর বিষয়ে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেন, “উনি বলেছেন আমাদের এমপি লেট ছাড়াও লোকাল উন্নতির জন্য উনি সাপোর্ট দেবেন এটা একটা। যেটা আমিও ভাবছিলাম ইলেকশনের আগে যে ওরা সব ইলেকশনের ক্যাম্পেনিংয়ের জন্য এগুলো বলছে, আসলে কিচ্ছু করবে না। সাধারণ মানুষের মতো আমারও ধারণা হয়েছিল। কিন্তু জেতার পর থেকেই ২৪ ঘণ্টার মধ্যে কাজ শুরু হয়ে গেছে! একমাসে যেই কাজ করেছে সেই পরিপ্রেক্ষিতে বলছি নিশ্চই যদি এই স্পিডে কাজ করে তাহলে কাজ করবে ভালো। ভালো পারফরম্যান্স করবে। এখানে সুবিধে হচ্ছে একটা দল তো পুরো সিস্টেমে চলছে, আজকে যদি শুভেন্দু মনে করে, সিএম যদি মনে করে এই কাজটা করব এতে উন্নতি হবে, তাহলে কি হবে ও ওপরে কথা বলবে, প্রধানমন্ত্রীর সাথে কথা বলে, ওরা ওদের ভালো করার জন্যে সাপোর্ট দেবে। আর এতদিন যেটা হয়েছে সেন্ট্রাল আর স্টেটের ঝামেলার জন্য উন্নয়ন আটকে গেছে অনেক উন্নয়ন আটকে গেছে। এই যে এখন শুনছি আবার ১০০ দিনের কাজ শুরু হবে। তো এগুলো যদি করতে পারে তাহলে তো সত্যি ভালো। আমি এটা আসতে আসতে বুঝতে পারছি আগামী দিনে দেখব এটা ঠিক কিনা। আগে ভেবেছিলাম যেগুলো বলছে সেগুলো করবে না কিন্তু এখন করা শুরু করেছে।তাই জন্য বলছি যে নিশ্চই করবে।”
তৃণমূল কংগ্রেসের ভবিষ্যৎ নিয়ে জানান, “আমার কোনো ধারণা নেই।আমি প্রচুর রাজনীতিবিদ নই না আমি পলিটিক্যাল এনালিস্ট আমার কোনো ধারণা নেই যে কোনো দল এরকমভাবে হারের একমাস পর দলটা শেষ হয়ে যাওয়ার জায়গায় যায়! এটা কিন্তু ইতিহাসে হয়েছে কিনা আপনারা ভালো করে জানবেন আমার কিন্তু জানা নেই। সবদল হারে কোনো দল তো আর চন্দ্র সূর্য হয়ে থাকবে.. তা তো থেকে না। দল হারে নতুন দল আসে, আবার সে ফেরে কিংবা ফেরে না। ধরুন যেকোনো দলেরই এই একমাসের মধ্যে যে এই অবস্থা এটা বোধহয় ইতিহাস সৃষ্টি হলো। কারণ দুর্নীতি। যে হাত দিচ্ছেন যেখানে হাত দিচ্ছেন দুর্নীতি পাচ্ছেন, এই দুর্নীতিটা যেটা মমতা ব্যানার্জি পরিপূরক নয়! তিনি এসেছিলেন ক্ষমতায় সততার জায়গা থেকে।মমতা ব্যানার্জির যেগুলো ইউএসপি ছিল সেগুলো নষ্ট হয়ে গেল, মনে দুর্নীতি এমনভাবে ঘিরে ধরেছে যেটা হয়তো অন্য দুর্নীতিগ্রস্ত লোককে আনলে এটা এক্সপেকটেড এটা হবে। মমতা ব্যানার্জির সম্পর্কে মানুষের এত আবেগ ছিল দুর্নীতি নয় ওই ভরসায় পশ্চিমবঙ্গের মানুষ তাঁকে এনেছিল সেই ভালোবাসা থেকে সেই ভালোবাসার দল কে ঘিরে ধরলো দুর্নীতি এটা খুব দুঃখের এটা কিন্তু আনন্দের না কারো জন্য না পশ্চিমবঙ্গ মানুষের জন্য, না ওনার জন্য।”
আপনি এতদিনের এমপি হয়েও সেই বিষয় জানতে পারেননি কেনো? উত্তর, “এত জানা সম্ভব ছিল না। আপনারা তো সবচেয়ে বেশি খবর রাখেন আপনারাও হয়ত দেখেছেন ২০ শতাংশ জেনেছেন এখন হয়ত ৮০ শতাংশ জানছেন। আমাদেরও তাই যেটুকু জানা হতো যেটুকু জানানো হতো তাতে কোনো স্টেপ নেওয়া হতো না কখনও এবং সবসময় বলা হতো আপনাদের ভুল বোঝানো হচ্ছে আমি আমার কোর কমিটির কথা বলতে পারি কমিটিতে যখন একজনের বিরুদ্ধে চিঠি এসেছিল আমার কাছে আমার এলাকার তো তাঁর যা দুর্নীতি আমি যখন আমাদের কমিটিতে দিলাম তখন আমাদের এক এক্স মন্ত্রী বললেন না না এগুলো সব বাজে কথা তুমি ছাড়ো। হিংসেতে লোক করছে। সেই প্রাক্তন মন্ত্রী ইলেকশনের আগে আগে বললো যে তুমি ঠিক বলেছিলে আমি খবর নিয়েছি যে ও এত দুর্নীতিতে জড়িত।আমি বললাম তাহলে তখন তোমরা কেনো বললে না? কোনো কথা বললে সবাই সেটাকে চাপা দেয়। এবং আমি যখনই যখনই দিদি বা অভিষেককে কিছু জানিয়েছি, আমি বলতাম আমি এটা খবর পেয়েছি আমি জানি এটা ঠিক টাও আমার কথা বিশ্বাস করবেন না। আপনি আপনার তরফ থেকে জানুন যে ঠিক বলছে কিনা তারপর আপনি সিদ্ধান্ত নেবেন। এটা সবসময় আমার বলা এটা আমার স্টাইল। অনেক সময় হয় না যে ভুল খবর হতে পারে!”
দিল্লিতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দলের লোকেরা ভেঙে গিয়ে মূখ্যমন্ত্রীর সাথে মিটিং করছেন এটা কিরকম চোখে দেখছেন? তাঁর কথায়, “দুঃখের! সেই দিনকে আমি তো জানতাম না যে দিদিরা অভিষেক ওই দিনকে যাবে। আমার কোনো ধারণা ছিল না। আমি ছিলাম না ইন্ডিয়াতে ওই জন্যে। কিন্তু যে পরিস্থিতিটা বললে সেটা দুঃখের একদম! ওনাদেরই দায়! দেখুন একটা যদি যৌথ পরিবার হয় যতক্ষণ বাবা মা বেঁচে থাকে তিন-চার ভাইবোনকে একসাথে রাখার দায়িত্ব কিন্তু বাবা-মায়ের। যখন সংসারটা ভাঙতে শুরু করে তখন দায় কিন্তু তাদের। এরকম বহু যৌথ পরিবার আছে যেটা বাবা-মায়ের জন্য এক করে রাখে। তখন তাকে প্রশংসা করা হয় যে বাবা মায়ের শিক্ষাতে…. যখন ভাঙবে তখন তাদেরও দ্বায় নিতে হবে।”
অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাজ নিয়ে জানালেন, “আমার অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের মন্তব্য নিয়ে কিছু দ্বিমত আছে! সবাই যে এইযে বলছে না ওর সিদ্ধান্তের জন্য ভুল হয়েছে।দেখিন ওর সিধান্ত হয়ত অন্যভাবে রাজনীতিটা করতে চেয়েছে। বা রাজনীতিটাকে ভেবেছে বা টাইমের সঙ্গে সঙ্গে জেনারেশন গ্যাপে রাজনীতি বদলাতে পারে। কিন্তু সিদ্ধান্তে নিয়েছিল, আগে তো জিতেছে? হতে পারে প্রশান্ত কিশোর রাজনৈতিক লোক তাই তাঁর ধারণা ঠিক থাকে ছিল আর প্রতীক জৈন ব্যবসায়ী রাজনৈতিক লোক নয় তাই ওর ধারণাগুলো ঠিক ক্লিক করে নি। প্রশান্ত কিশোর আর প্রতীক জৈন এর পার্থক্য বোঝো, আর তখন যদি অভিষেকের টাইমে আমরা ভাগ্য বিশ্বাস করি সেটা ঠিক ঠিক মিলে গেছে হয়তো। কারণ অভিষেক যখনই আমাকে বলেছে এতোগুলো সংখ্যা আসবে গণনায় মিলেছে কিন্তু।আমার যেটা ধারণা ওকে আই প্যাক মিস গাইড করেছে, ভুল রিপোর্টিং করেছে যেই কারণে ও আগের রিপোর্টিং-এ আমাকে বলেছিল এতোগুলো আসন পাবে ততগুলোই পেয়েছিল। এইবারে বলল ২০০ আসন পাবে পেলনা। তার মানে? ও তো আর রাস্তায় গিয়ে গিয়ে জিজ্ঞাসা করছে না! ও ওখানে বসেই সার্ভে করছে।সেই সার্ভের রিপোর্ট ওকে মিস গাইড করেছে। নাহলে ওর ওভার কনফিডেন্ট হয়ে গিয়েছিল যে আমরা যা করছি সেটাই শেষ কথা হবে। ওর সিদ্ধান্ত নেওয়া ভুল আমি বলছি না। আমি যেটা ভুল বলছি সেটা হচ্ছে ওর লাইফ স্টাইলটা। ও যেভাবে দলে, যেভাবে ও জীবনযাত্রা তৈরি করেছে সেটা চোখে লাগার মতো এবং তাতেই ওর চলা ফেরা যেরকম সিস্টেম তাতেই কিন্তু ও হচ্ছে সবার কাছে অভিযোগের কারণ। দিদির প্লাস পয়েন্টই ছিল সরলতা।সেটাই থেকে একদম অন্য হয়ে গেল না। যেখানে দিদি মাটিতে বসে চা খায় সেখানে অভিষেক মাটিতে বসে না। এইযে তফাৎটা সেটা কিন্তু পূরণ কর্মীরাও ভাবতে পারছে না বা সাধারণ মানুষ রাও ভালো চোখে দেখছে না।অভিষেকের জীবনযাত্রা টা ওর পাল্টানো উচিত ছিল বলে আমার মনে হয়।”
অভিষেকের নামে অভিযোগ উঠেছিল বিধায়কদের সই জাল করা নিয়ে, সেই নিয়ে অভিনেত্রীর মত, “সময় খারাপ গেলে ভুল সিদ্ধান্তের ওপর ভুল সিধান্ত হতেই থাকে। নাহলে এরকম একটা ছেলে মানুষই কেউ করতে পারে? এখন টাইম খারাপ যাচ্ছে আর এখন ক্ষমতায় ও নেই যে কোনো কিছু করতে পারবে।তখনও এই সিদ্ধান্ত নেওয়াটা তো ভুলই হয়ে গেল না। এখন তো আর বেশি কনসিয়াসলি চলা উচিত। তদন্ত বলবে কোনটা ঠিক, কোনটা ভুল আমি তো জানি না আমি তো বিধান সভায় সই টোই এর ব্যাপারে ছিলাম না। শুনছি যা হচ্ছে , এটাও একটা ভুলের মধ্যে পড়ছে।এবং সময় খারাপের একটা প্রমাণ।” অভিনেত্রীকে কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় ব্যাপারে জিজ্ঞাসা করতে গেলে, আগেই হাতজোড় করে বলেন, “মহান ব্যক্তিত্ব।”
কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের বক্তব্য ছিল আগে কেনো জানাননি, পদত্যাগ করে জননি কেন? ভোটে হারার পর কি বোধোদয় হলো?
শতাব্দীর উত্তর, “উনি মহান ব্যক্তিত্ব উনি অনেক বেশি বোঝেন উনি অনেক বেশি স্বচেতক মানুষ রাজনীতিবিদ, আইনজীবী ওনার প্রশ্নের উত্তর দেওয়াটা আমার মতো ছোট মানুষের উচিত না উনি ওনার মতন করে যাক”। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ছেড়ে যেতে খারাপ লাগছে অভিনেত্রীর? বলেন, “লাগছে! আমার মনে হয়েছে দিদি আর দলটা চাইছে না দিদির আর দলের প্রতি মায়া নেই তা নাহলে এটা হতে পারে না দিদি যে দল করেছে সেটাকে বাঁচিয়ে রাখার জন্য যা যা করা উচিত ওনার থেকে বুদ্ধিমান কেউ না। এই মুহূর্তে যা যা পদক্ষেপ নেওয়া উচিত নিল না। যা যা করা উচিত করল না। এবং সবথেকে বড় কথা বিশ্লেষণ করলো না।আমার দিদির প্রতি যা যা ছিল মায়া ভালোবাসা সব কিন্তু উল্টো হয়ে গেল। আর আমি ওই জায়গা থেকে দিদিকে আর ওটা মানছি না! দিদির প্রতি আবেগ আমার এখনও আছে। কিন্তু নেত্রী হিসেবে এতগুলো মানুষকে জলে ফেলে দেওয়া! আপনি বলবেন দিদিকে ফেলে সবাই চলে গেল দিদি তো এতজনকে ডুবিয়ে দিলো। এই যে এতোগুলো লোক অ্যারেস্ট হচ্ছে কাকে সেফ করতে পেরেছেন? দিদির জন্য তো লড়েছে এতোগুলো লোক নীচ থেকে ওপর পর্যন্ত, তাদের কথায় বাঁচাতে পারছে পারছে না তো।সেটা তো দ্বায় দিদিরও হবে”।
শেষে অভিনেত্রী ভাগ করে নিলেন প্রধান মন্ত্রীর সাথে দেখা হওয়ার অভিজ্ঞতা ও পুরানো সহকর্মী শুভেন্দু অধিকারীর সাথে সখ্যতা! সেই সাথে তিনি আশাবাদী, “ডাবল ইঞ্জিন হিসেবে ওরাই কাজ করবে। আমাকে আমার কাজ টা করতে হবে”। সেই সাথে তাঁদের যে সমর্থক আরও বাড়বে সেই নিয়েও আশাবাদী অভিনেত্রী বলেন, “না বাড়াটা অস্বাভাবিক কিছু না!”