Gourab Tapadar: ‘প্রেতকথা’ খ্যাত ইউটিউবার ও ইনফ্লুয়েন্সর গৌরব তপাদার এবং তাঁর প্রাক্তন প্রেমিকা অন্তরা দে-র সোশ্যাল মিডিয়া বিতর্ক ক্রমেই তীব্র হচ্ছে। গৌরবের বিরুদ্ধে অভিযোগ, স্ত্রী প্রিয়াঙ্কাকে নিয়ে তিনি প্রাক্তন প্রেমিকাকে আপত্তিকর অডিও চ্যাট ও মেসেজ পাঠিয়েছিলেন। এরপর অন্তরা সেই চ্যাট ও কল রেকর্ড সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রকাশ্যে আনতেই শুরু হয় নতুন বিতর্ক। এই বিতর্কের মাঝেই নিজের ফেসবুক পোস্টে ঘটনার ব্যাখ্যা দিয়েছেন গৌরব। তাঁর দাবি, ঘটনাটি ঘটেছিল মদ্যপ অবস্থায় এবং দু’বছর পর সেই চ্যাটকে হাতিয়ার করে তাঁকে ফাঁসানোর চেষ্টা করা হচ্ছে।
গৌরব লিখেছেন, “সেদিন রাতে কি একটা খারাপ মদ খেয়ে ফেললাম। ব্যাস এক্স গার্লফ্রেন্ডকে মেসেজ করে দিলাম। তার দুবছর পর সেই মেসেজ নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়াতে আমার এক্স গার্লফ্রেন্ড প্রতিবাদ তুলল, আমার নাম হঠাৎ নিউজে উঠে গেল সব ছেলেপুলে,ভাইরা আমাকে নিয়ে কথা বলতে শুরু করল! উফ কি রেলিভান্স! তারপর বউ এর কাছেও বাঁশ খেলাম। কিন্তু বউ সব বাঁশ আমায় গুঁজে দেওয়ার পর, অনেক অপমান করার পর বলল “ভাগ্যিস এই মেয়েটার সাথে থাকনি , সম্পর্ক থেকে বেরিয়েও তোমায় কেস খাইয়ে দিচ্ছে , সম্পর্কে থেকে কে কি কি সহ্য করেছ।“
এবার কন্ট্রোভার্সি নিয়ে আমি কখনই বেশি কিছু বলতে চাই না। কারণ এই যে মজাটা এখন সবাই দেখছেন, কিছুদিন বাদে একদিন আমরা সবকটাই পটল তুলব। কেউ তো আর অমর না ! তাই কে কি বলল সেটা নিয়ে যায় আসছে না।
এই সুযোগে আমার প্রোফাইলটা একটু অ্যাকটিভ করেনি। ও হ্যাঁ , সেদিনের পর থেকে আর মদ ও খাইনি। কারণ এই কেসটা বউয়ের কাছে আগেই ধরা পড়েছিলাম। কোনও রকমে কান টান ধরে নিজেকে শুধরে নিয়েছি। মানে তারপর থেকে আর কম দামি মদ ও খাইনি , এক্স কে মেসেজ ও করিনি ! কে জানত এক্স এভাবে ফাঁসিয়ে দেবে! তাহলে সালা ওর কেচ্ছাগুলো অনেক আগেই বলে দিতে পারতাম। যাই হোক একজন মহিলাকে নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়াতে কেচ্ছা করতে ভালো লাগবে না , যাদের জানতে ইচ্ছে হবে ফীল ফ্রি! জানাব! দেখবেন বেশি সিরিয়াসলি নেবেন না, আমার সম্পর্কের থেকেও বেশি সিরিয়াস রাজ্যের অবস্থা ! নতুন সরকার কি করবে দেখি ! এমনিও কিছু বছরের মধ্যে আমাদের গোটা জেনারেশন বুড়ো হয়ে অক্কা পাবে , তাই আজকের দিনটা মজা করে বাঁচুন, কন্ট্রোভার্সি দেখে মজা নিন আর চাইলে আমার সঙ্গে গল্পও করতে পারেন ও হ্যাঁ, তারপর থেকে আর কিন্তু ওই মদটা খাইনি ! “মদ “লিখে মেসেজ করলে মদের নামটা জানিয়ে দেব”।
গৌরবের এই পোস্টটি শেয়ার করে তাঁর স্ত্রী তথা নৃত্যশিল্পী প্রিয়াঙ্কা তপাদারও নিজের প্রতিক্রিয়া জানান। তিনি লিখেছেন, “এরপর যদি কিছু জানতে পারি বাঁশ নিয়ে দৌড়াবো পেছনে…বলে দিলাম…আসলে মা বাবার থেকে শিখেছি..হাজার টা ভুল ত্রুটি একসাথে ঝগড়া করে হাতে হাত রেখে এগিয়ে যেতে… তাই এরপর বাঁশ(মনে থাকে যেন)…..”এরপর আরও একটি দীর্ঘ পোস্টে প্রিয়াঙ্কা স্পষ্ট জানিয়ে দেন, তিনি স্বামীকে ক্ষমা করে দিয়েছেন এবং এই বিতর্কে বাইরের কারও মতামতকে গুরুত্ব দিচ্ছেন না।প্রিয়াঙ্কা লিখেছেন, “হ্যাঁ আমি ক্ষমা করে দিয়েছি। ২ বছর আগের কুকীর্তি নিয়ে আমার পড়ে থাকলে চলবে না। জীবনের ক্ষমার থেকে বড়ো আর কিচ্ছু হয় না। যদিও আমার ইচ্ছা আমি ক্ষমা করবো কিনা। তবু আসেপাশে চারিদিকে এতো আদালত বেড়ে গেছে যে আলাদা করে উওর দেওয়ার টাইমই পাচ্ছি না। তাই সবাইকে একেবারে জানিয়ে দিলাম। যদিও দেখতে গেলে যারা আমার আদালত খুলেছে তাদের প্রচুর টাইম। আমার নেই। যখন ভালোবেসেছি তখন তার খারাপ ভালো সব টা মেনে নিয়ে , ঝগড়া করে, এগিয়ে নিয়ে চলতে হবে(আমার ইচ্ছা)। যে স্ক্রিনশর্ট গুলো দেখে সবাই ঝাপিয়ে পড়ছো তাদের বলি আমায় বোঝাতে এসো না। আমি জানি সংসার টা কীভাবে করার দরকার। বাইরের সমাজ আমি বেকার বসে থাকলে ১ দিন ও হেল্প করবে না। তাই আমি সেই আদালত গুলো বিন্দু মাত্র পাত্তা দিই না। ভালো থাকবেন। ওহ হ্যাঁ, আর একটা কথা, দ্বিতীয় স্থানে রয়েও আইনি থাপ্পার কাগজটা আমার বাড়িতেই আছে। দ্বিতীয় পদবীটা যে দিয়েছে সেও ঝার খেয়ে শুধরে গেছে। কিন্তু একজনের শান্তি এখনও হয়নি। তাই তার উদ্দেশ্যে একটা ই কথা – “ভারমে যায় জনতা, আপনা কাম বানতা”… বিতর্ক বন্ধ করলে কিন্তু চলবে না বন্ধু। এগিয়ে চলো। মাটির ভেতরে ঢুকিয়ে রাখা সব পারলে খোদাই করে বার করো। কিন্তু হারলে চলবে না কিন্তু। সম্পূর্ণ সমর্থন করি তোমায়। ভরা মাসে আজকের দিনটি তোমার দৌলতেই তো দেখা। তাই থামলে চলবে না। বিশেষ করে তোমার বন্ধু দের বলো এই সুযোগ, যতটা পারে তাড়াতাড়ি টাকা টা ইনকাম করতে। এর পর এই সুযোগ টার জন্য হাত কামড়াবে। আর তো কিচ্ছু পারে না তাই সময় থাকতে সুযোগ এর সৎ ব্যবহার করে নেওয়া উচিৎ (এটা যদিও আপনার থেকেই শেখা)। যাই হোক চলি।গালি দিতে হলে লাইন করে আসুন। ধাক্কা ধাক্কি করবেন না। এক এক করে গালি দিয়ে যাবেন। আর যারা আমার দর্শক। তাদের প্রচুর প্রচুর লাভ ইউ। তোমাদের থেকে পাওয়া ভালোবাসা গুলো আমি আজীবন সম্মান করেছি, করি, করবো”। গৌরব ও প্রিয়াঙ্কার এই পোস্ট ঘিরে ইতিমধ্যেই সোশ্যাল মিডিয়ায় জোর চর্চা শুরু হয়েছে। একদিকে যেমন গৌরবের ব্যাখ্যা নিয়ে চলছে আলোচনা, অন্যদিকে প্রিয়াঙ্কার প্রকাশ্য সমর্থনও নেটমাধ্যমে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।