Sudipa-Swarup: স্বরূপ বিশ্বাসের গ্রেফতারের পর তাঁর বিরুদ্ধে উঠে আসছে একের পর এক ভয়ঙ্কর সব তথ্য। অনেক অভিনেতা-অভিনেত্রী ইতিমধ্যেই তাঁর বিরুদ্ধে সুর চড়িয়েছেন। টলিউডের একাংশের এই তথাকথিত সুবিধাবাদী রাজনীতি ও দলবদলের খেলা নিয়ে এবার বিস্ফোরক সমাজমাধ্যম। তারকাদের এই দ্বিচারিতাকে তীব্র ভাষায় আক্রমণ করলেন সঞ্চালিকা তথা টলিপাড়ার পরিচিত মুখ সুদীপা চট্টোপাধ্যায়। তাঁর কথায়, রোজ রোজ অভিনয় করতে করতে অভিনেতা-অভিনেত্রীরা বোধহয় আসল আর নকলের ফারাকটাই ভুলে গিয়েছেন।
একসময় শাসক দলের একাধিক কর্মসূচিতে টলিউডের চেনা মুখদের উপস্থিতি নিয়ে রাজ্য-রাজনীতিতে কম জলঘোলা হয়নি। সেই প্রসঙ্গ টেনেই সুদীপা প্রশ্ন তুলেছেন, “রোজ,রোজ মুখে মুখোশ পরতে পরতে অভিনেতা- অভিনেত্রীরা কি মাঝেমাঝে দুটোর ফারাকটাও বুঝতে পারেন না?
এই কদিন আগে- ভাইফোঁটার কিংবা স্বরূপ বাবুর পেছনে হাঁটার কোনও একটা মুহূর্তেও ,কিংবা বাড়িতে মুখ্যমন্ত্রীকে নেমন্তন্ন করে ডেকে এনে,পাশে দাড়িয়ে ছবি তোলার সময়ও করো কি মনে হয়েছে- এনাদের কেউ মাথায় বন্দুক ঠেকিয়ে এসব করতে বাধ্য করেছেন?
গর্বে আর অহংকারে- এদের মাটিতে পা পড়তো না।
তাঁরা এখন একটু কদিন চুপ করে থাকুন না?
সব সময় lime light পেতেই হবে- এমন বাধ্যবাধকতা তো নেই?
কাজ করুন,মন দিয়ে?
রাস্তায় পুলিশ গাড়ি আটকালে- এখন কদিন নাই বা বললেন:”জানেন আমি কে?”
সুরুচি সংঘের পুজোয় আমাকেও ডাকা হয়েছে। চেতলা অগ্রিনীতেও নেমন্তন্ন পেয়েছি,শেষ দশ বছর ।
আমি আমার বাড়িতে পুজো বলে,যেতে পারিনি ।
কই,আমার মাথার ওপর তো কোনও খাঁড়া নেমে আসেনি?”
তিনি আরও বলেন, “কাজ চলে যাবার পরও,কখনও অভিযোগ করিনি,যে আমি দলের প্রচারে যাই না বলে- আমাকে বাদ দেওয়া হয়েছে…
এরকম কিছু হয় না।
শুনে রাখুন- এটা একমাত্র এমন একটা industry- যেখানে কাউকে কোনকিছু বাধ্য করা হয় না ।
নিজেরাই সুবিধে নিতে যান। ক্ষমতার অলিন্দে ঘুরঘুড় করতে ভালোবাসেন।
আমাকে মমতা ব্যানার্জি খুবই স্নেহ করতেন । আজও করেন। ববিদা- আমাদের পারিবারিক সম্পর্ক । সুব্রত মুখার্জী- আমাদের অভিভাবকের মতো ছিলেন ।
কই- তারা কেউ একবারের জন্যও আমাকে দলের প্রচারে কিংবা কোনও মিছিলে ডাকেন নি?
কেন বলুন তো?
কারণ,জানতেন- বাড়িতে পুজোর ভোগ খেতে আমি যেতে পারি,কিন্তু প্রচারে আমি যাব না।
কেন? টাকার দরকার- আমার ছিল না? আমার ভালো লাগত না- পুরস্কার নিতে?
এবার দয়া করে,কদিন একটু চুপ করে থাকুন।
সঙ্গীত পরিচালক,পরিচালক,অভিনেতা,অভিনেত্রী, এবার খুব অ/স/হ্য লাগছে ।
আমরা যারা দূরে থেকেছি- তারা মুখ খুললে কিন্তু,বাকি public image টাও ধুয়ে যাবে ।
কদিন জমানো টাকায় কোথাও ঘুরে আসুন। public memory খুব poor । কদিন বাদে ভুলে যাবে। তারপর আবার নতুন জোশ নিয়ে আসরে নেমে পড়ুন?
আগে থেকে খোঁজ নিন- সজল ঘোষের পুজোয় ঢাক বাজাতে কিংবা ধুনুচি নাচে, কীভাবে ডাক পাওয়া যাবে। এবার কিন্তু ওখানেই বেশি milage….
আর ওরা খেলায় না নিলে- nostalgia সমেত Madox Square চলে যান….
একটা বছর না হয় নিজের পাড়ায় সিঁদুর খেলবেন ।
আসছে বছর,আবার হবে… জয় মা !”