Papiya Adhikary: গ্রেপ্তার হয়েছেন বিধায়ক পাপিয়া অধিকারীর প্রাক্তন আপ্তসহায়ক। আর এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়ানোর পর এবার মুখ খুললেন স্বয়ং পাপিয়া অধিকারী।তিনি জানান, “কী করব! এটা দুর্ভাগ্যজনক আমার ভাগ্যেই ঘটল। ও তো এসেছিল ইলেকশনের সময় কাজ করতে। তো সে বলল আমি অত্যন্ত উচ্চশিক্ষিত, আমাকে একটু রাখুন। আমি সেন্ট জেভিয়ার্স থেকে পড়াশোনা করেছি। আমি ভাবলাম যে ঠিক আছে ইলেকশনটা যখন কাজ করলো মন্দ নয় একেই রেখে দিই! কিন্তু তারপরে আমার স্টেট থেকে আমাকে বলা হলো যে ওর সম্পর্কে একটু কেয়ারফুল থাকুন ওকে রাখার দরকার নেই তাই আমি ওকে বহিষ্কার করলাম। তারপরে শুনলাম যে অনেক কিছু করেছেন। গুণধরের অনেক কীর্তি। উনি ২০২৪ সালে উনি ওনার জায়গা থেকে প্রচুর চিটিংবাজি করেছেন আর কি, লক্ষ লক্ষ টাকা। সেইসব শুনে আমার খুব খারাপ লাগলো, তারপর এখন শুনছি আমার কনস্টিটিউশনে কিসব খারাপ কাজ করেছে।
এরপর নিজের অনুশোচনা প্রকাশ করে তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, “একটা চিটিংবাজের পাল্লায় পড়েছিলাম!
নতুন এই কর্মীকে বিশ্বাস করা নিয়ে তিনি বলেন, “আমার ইমেজটা খুব কমিয়ে দিয়ে গেল! একটু ওপর থেকে দেখা যায়নি। সে আমাকে বলছে যে আমি আপনাকে মায়ের মতো দেখি। লোক যে একদম চিনি না তা নয় কিন্তু আমি আসলে দেখিনি। এত পরিশ্রমের মধ্যে কে, সে কেমন লোক আসলে কাজ তো করে দিচ্ছিল ভালো। কিন্তু এইভাবে আমি ভাবতে পারিনি। আমি আসলে একটু ভালো মানুষ গোছের।”
তাঁর আস্থার জায়গা ভেঙে যাওয়ার কথা বলতে গিয়ে তাঁর পুরানো সহযোগীর স্মৃতিচারণাও উঠে আসে। বিধায়িকা জানান, “আসলে আমার সাথে সঙ্গে যারা ছিল অনেকদিন আগেকার আমার ৪০ বছরের পুরাতন ম্যানেজার তিনি সদ্য মারা গেছেন। তো সেই জন্য তিনি আমার সব কাজ করে দিতেন। ইনি তো নতুন একজন। রাজনীতির ভরসার জায়গা আমার একদম নড়ে গেছে। বলে সবাইকে তো আর খারাপ ভাবতে পারি না। নিশ্চয়ই কেউ না কেউ আবার দেবতার মতো আমার পাশে এসে দাঁড়াবেন। কিন্তু এখন আমি আর পিএ রাখব না। এতটুকু ভেবেছি।”
রাজনীতির ময়দানে ভরসার জায়গাটি একেবারে নড়ে গেছে বলে আক্ষেপ করেন তিনি।
তবে নিরাশ না হয়ে তিনি আশাবাদী যে সবাইকে আর খারাপ ভাবা যায় না, নিশ্চয়ই কেউ না কেউ আবার দেবতার মতো তাঁর পাশে এসে দাঁড়াবেন। এই ঘটনার পর আপাতত কঠোর সিদ্ধান্ত নিয়ে তিনি জানিয়েছেন যে আর কাউকে ব্যক্তিগত সহকারী বা পিএ রাখবেন না, এইটুকুই তিনি এখন ভেবেছেন।