Rajveer Dey:বর্তমানে জনপ্রিয় রিয়্যালিটি শো ‘বিগ বস’-এর ঘরের অন্যতম চর্চিত ও আলোচিত প্রতিযোগী রাজবীর। সিলিগুড়ির এই তরুণ ওয়াইল্ড কার্ড এন্ট্রি হিসেবে ঘরে ঢুকে নিজের পারফরম্যান্স দিয়ে মন জয় করে নিচ্ছেন দর্শকের। রাজবীরের এই সাফল্যে আবেগে ভেসেছেন তাঁর মা, মামি, মাসি ও মামা। ছেলে সম্পর্কে গর্ব প্রকাশ করে রাজবীরের মা বলেন, “মা হিসেবে আমি খুব গর্ববোধ করি ওর জন্য। ও আমার খুব ভালো করে দেখাশোনা করে। প্রতিদিন সকালে গুড মর্নিং মা বলে।”
রাজবীরকে ছোট থেকে ভালোবেসে বড় করে তোলা তাঁর মামি জানান, “রাজবীরকে আমি নিজের সন্তানের মতো মানুষ করেছি। ওর খাওয়া-দাওয়া থেকে শুরু করে বায়না মেটানো থেকে শুরু করে সবকিছুই আমি করতাম।”
শৈশবের স্মৃতি উস্কে তাঁর মাসি যোগ করেন, “ও ছোটবেলা থেকেই খুব দুরন্ত! খাটের থেকে লাফ দেবে খুব দুষ্টু ছেলে”। রাজবীরের মামাও ভাগ্নের লড়াইয়ের কথা তুলে ধরে বলেন, “আমাকে ভাইয়া মামা বলে ডাকত। আমাকে সব কথা বলত। আমাকে বলল যে আমি কিন্তু নতুন উঠে এসেছি। আমাকে কেউ চেনে না। আমাকে ফোকাসে আসতে হবে। আমাকে ফোকাসে আসার জন্য যা করতে হয় আমি করব।”
বিগ বসের ঘরে রাজবীরের রণকৌশল সম্পর্কে তাঁর মা আবারও ব্যাখ্যা করে বলেন, “একে তো ওর ওয়াইল্ড কার্ড এন্ট্রি ছিল। ও ভেবেছিল যে এটা না করলে আমাকে সবাই হয়ত ওখানে দমিয়ে রাখবে। তাই ও সবার জন্য সবার নজরে আসার জন্য এরমটা করেছিল।” মামির কথায়, “ও ওখানে গেম খেলতে গেছে। কিন্তু ওখানে যে হঠাৎ করে বসে থাকতে থাকতে চিৎকার করে ওঠে, ওটা ওখানে যেরম করে, ও ঘরেও সেরমই করে।”
অন্যতম প্রতিযোগী নন্দিনী ও রাজবীরের সম্পর্ক নিয়ে খোলামেলা মন্তব্য করেছেন রাজবীরের মা। নন্দিনীর বিষয়ে কথা বলতে গিয়ে তিনি বলেন, “নন্দিনী সবই ঠিক আছে। কিন্তু কিছু কিছু জায়গায় ও একটু হাই টেম্পার হয়ে যাচ্ছে। মাঝেমধ্যে কেঁদে ফেলছে। ও, ওভাবে দুর্বল হয়ে গিয়ে কিছু কিছু জায়গায় ওকেই বেশি প্রাধান্য দিচ্ছে নিজের থেকে। আমার ছেলে যদি পছন্দ করে তাহলে আমি নন্দিনীকে বৌমা হিসেবে মেনে নেব। শিলিগুড়িতে সবাই খুব খুশি ওর খেলা দেখে। আমাকে কেউ কেউ এসে বলে আন্টি চিন্তা করবেন না। আমরা সবাই ওর পাশে আছি। আমি কিন্তু রোজ 9:30 টার সময় ‘বিগ বস বাংলা’ দেখি। আমি মোবাইলেই দেখি। দোকানে থাকি তো বেশি। ওখানে আমার মোবাইল থাকে, হেডফোন দিয়ে আমি দেখি আর কাজ কর্ম করতে থাকি।”
ভাগ্নের এমন পারফরম্যান্সে গর্বিত মামি জানান, “ওর বড় মামা, ওর জন্য বড় বড় পোস্টার আলিপুরদুয়ারের চারিদিকে লাগাচ্ছে। ওকে নিয়ে খুবই গর্ববোধ করে। যে ছোট থেকে যে ভাগ্নেটাকে মানুষ করল, তাকে যে আজকে বিগ বসের ঘরে দেখতে পাচ্ছে তার জন্য ওর বড় মামা অনেক গর্বিত আর জন্য।”
সবশেষে রাজবীরকে জয়ের বার্তা দিয়ে তাঁর মামা বলেন, “খুব ভালো করে খেলো। মনপ্রাণ দিয়ে খেলো। আমাদের সবার আশীর্বাদ তোমার সাথে আছে। ভালো করে খেলো।” পরিবারের এই ভালোবাসা ও সমর্থনের বার্তায় এখন স্পষ্ট যে, বিগ বসের ট্রফি ঘরে তুলতে রাজবীরের পেছনে রয়েছে আস্ত একটি পরিবারের আশীর্বাদ ও হাজারও দর্শকের আবেগ।