Ranojoy Bishnu: শারীরিক অবস্থার মারাত্মক অবনতি এবং তীব্র জ্বর ও দুর্বলতাকে সঙ্গী করেই নিজের পেশাগত দায়িত্বের প্রতি অবিচল থেকে ক্যামেরার সামনে হাজির হচ্ছেন প্রখ্যাত অভিনেতা রণজয় বিষ্ণু। পর্দার অভিনয়ে যাতে কোনো ধরনের ঘাটতি না ঘটে, সেই উদ্দেশ্যে তিনি সর্বশক্তি দিয়ে লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন এবং সম্প্রতি একটি ভ্লগ প্রকাশ করে নিজের এই কঠিন পরিস্থিতির কথা ভক্তদের সঙ্গে ভাগ করে নিয়েছেন।
গায়ে জড়ানো প্রিয় চাদরটি রেখেই ভিডিও বার্তায় অভিনেতা শ্রোতাদের উদ্দেশ্যে ব্যক্ত করেছেন, “আসলে যে কাজের সূত্র ধরে আপনাদের সঙ্গে আলাপ, হয়ত সেখানে কোনো রকম কিছু যদি আমার কাজের ক্ষেত্রে কিংবা আমি সম্পূর্ণ ডেলিভারি করতে না পারি, তা হলে আমায় উত্তর দিতেই হবে আপনাদের কাছে। আমি শেষ দু’দিনের টেলিকাস্ট দেখলাম।” মারাত্মক ঠান্ডা ও জ্বরের জেরে কণ্ঠস্বর কিছুটা ভেঙে গেলেও, পুরো প্রোডাকশন টিম তাঁকে পর্যাপ্ত বিশ্রামের সুযোগ করে দেওয়ার জন্য সর্বাত্মক চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। কিন্তু মেগা সিরিয়ালের দৈনিক সম্প্রচারের চাপ ও কঠিন রুটিনের কারণে চাইলেও হঠাৎ করে কয়েকদিনের ছুটি নেওয়া সম্ভব হয়ে ওঠে না, কারণ এই মুহূর্তে বিশ্রাম নেওয়ার অর্থ পুরো কাজটির মাঝখান থেকে সরে দাঁড়াতে বাধ্য হওয়া। সহকর্মী ও কলাকুশলীদের অভূতপূর্ব সহযোগিতার কথা স্মরণ করে তিনি কৃতজ্ঞতাভরে জানিয়েছেন, “যেভাবে ওরা আমাকে সাহায্য করেছে সেটা ভাষায় প্রকাশ করা যায় না।”
কর্মক্ষেত্রের ফাঁকে অনলাইন চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া, শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষ/ম/তা বাড়ানোর জন্য ঘরোয়া পানীয় ও টোটকা ব্যবহার করা— সব রকম উপায় অবলম্বন করা সত্ত্বেও শরীরের চরম ক্লান্তির কথা স্বীকার করে অভিনেতা আরও বলেছেন, “অনেক সময়ে কানে তালা লেগে যাওয়ার মতো অবস্থা হচ্ছে। সব থেকে বড় বিষয় হলো এত দুর্বল করে দিয়েছে শরীরটা, আমাকে স্ক্রিনে দেখতেও খুব অন্যরকম লাগছে। আমি তো ইচ্ছা করে করিনি, কিন্তু খারাপ লাগছে। আমি যে কাজটা করি বা আপনাদেরকে উপহার দেওয়ার চেষ্টা করি, সেটা দিয়ে উঠতে পারছি না এই মুহূর্তে। তাই চেষ্টা করব খুব তাড়াতাড়ি আগের মতো করে নিজেকে ফিরিয়ে দেওয়ার।”
ধারাবাহিকের দুইশো পর্ব সাফল্যের সঙ্গে অতিক্রম করার কথা মনে করিয়ে দিয়ে এবং সকলের কাছে ভালোবাসাপূর্ণ সমর্থনের আর্জি জানিয়ে তিনি ভিডিওর শেষে যোগ করেন, “দুশো এপিসোড কমপ্লিট করেছি। চেষ্টা করছিলাম ভালো কাজ উপহার দেওয়ার। একটু শরীরটা খারাপ হয়ে গিয়েছে। কিন্তু খুব তাড়াতাড়ি হয়তো আবার ঠিকঠাক হয়ে যাব। সবাই মিলে খুবই সাপোর্ট করছে আমাকে, যাতে আমি বিশ্রাম নিয়ে কাজ করতে পারি। মানে সেটে যাই, সেখানে বেশিরভাগ সময়ে শুয়ে থাকি। শুধু শটটা দিয়ে আবার শুয়ে থাকি। আমাকে সমস্ত রকম সুবিধা দেওয়া হচ্ছে। তাই চেষ্টা করছি আপনাদের আশীর্বাদে খুব তাড়াতাড়ি ঠিকঠাক হয়ে আবার কাজ করতে পারব। প্রার্থনা করুন যেন তাড়াতাড়ি সুস্থ হয়ে যাই।”