রিয়েলিটি শো ‘বিগ বস বাংলা’-র ঘর মানেই প্রতিদিন নতুন সমীকরণ, নাটক আর উত্তেজনার রোলার কোস্টার। এই শোয়ের অন্যতম বহুল চর্চিত ও আলোচিত প্রতিযোগী নন্দিনী দত্ত এবং রাজবীর। সম্প্রতি এই দুই প্রতিযোগীর বিরুদ্ধে কড়া বার্তা দিয়েছেন শোয়ের সঞ্চালক, ময়দানের দাদা সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়। বিগ বস একটি ‘ফ্যামিলি শো’—এই কথা মনে করিয়ে দিয়ে তাদের আচরণ নিয়ে সতর্ক করেন তিনি। এই গোটা পরিস্থিতি এবং অন্যান্য প্রতিযোগীদের খেলা নিয়ে এবার মুখ খুললেন নন্দিনীর বাবা সন্দীপ দত্ত। এক সংবাদমাধ্যমে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি খোলামেলা আলোচনা করেন মেয়ের গেম প্ল্যান ও সহ-প্রতিযোগীদের নিয়ে।
মেয়ের সতর্কতা প্রসঙ্গে বলতে গিয়ে সন্দীপ দত্ত বলেন, “দেখো, এটা যে যার এঙ্গেল থেকে দেখে, এটা যেই ঘটনাটা যেদিন ঘটল সেদিন আমি আর নন্দিনীর মা দুজন রাতে ঘুমাইনি, কারণ একটা মেয়েকে যখন বলা হয় তখন তো তার বাবা, মায়ের উপর এফেক্ট পড়ে না, ওর মায়ের তো পুরো অসুস্থর মতো অবস্থা হয়েছিল। কারণ বাবারা কি করে! তাও যুক্তি দিয়ে বিচার করে। কিন্তু মায়েরা তো তা করে না। মায়েদের কাছে সবটাই হচ্ছে মমতা, ওদের যুক্তি বলে কিছু নেই। আমি পরে ভেবে দেখলাম যে এটা ওর ভালোর জন্যই বলেছে। ওর যাতে গেম নষ্ট না হয়। যেমন রাজবীরের কথাই বলছি। রাজবীর যাতে এমন কোন ভুল না করে যার জন্য ওকে ঘর থেকে বের করে দিতে বাধ্য হয় ‘বিগ বস’ কিংবা দাদার দরবারে। কারণ এখন এপিসোডগুলো এক ঘণ্টার বেশি হয়, তো সেদিন মনে হয় দশ মিনিট হয়েছে অন্য কিছু নিয়ে আর বাকি পুরোটাই হয়েছে রাজবীরকে নিয়ে। আর রাজবীর যেখানে থাকবে সেখানে নন্দিনী থাকবেই ১০০ শতাংশ। তো এটাকে আমরা ভালোভাবে নিয়েছি আর আমার মনে হয়েছে যে এটা ওদের জন্য একটা সতর্কবার্তা।”
মেয়ে ও রাজবীরের এই পরিস্থিতিকে ক্রীড়ার উদাহরণের মাধ্যমে বুঝিয়ে তিনি আরও বলেন, “একটা কোচের কাজ কি? কোচের কাজ হচ্ছে আমার সেরা প্লেয়ারটাকে দেখা। খেলোয়াড় ফালতু কাজ করবে লাল কার্ড দেখে কোচ সেটা বসে বসে দেখবে তাকে বকবে না? মেসি যদি ফালতু কোন খেলোয়াড়কে লাথি মেরে লাল কার্ড দেখে, মেসির কোচ কি তাকে কিছু বলবে না? তাই জন্য চ্যানেল সৌরভ গাঙ্গুলি ওরা ভেবেছেন যে আমার ভালো প্লেয়ারটা হয়ত ভুল কাজ করে ফেলতে পারে তাই চরম সতর্কবার্তার জন্য অতটা সময় দিয়েছে।”
সাক্ষাৎকারের পরবর্তী অংশে ‘বিগ বস’ ঘরের বাকি প্রতিযোগীদের খেলা এবং তাদের ব্যক্তিত্ব নিয়ে নিজের মতামত ব্যক্ত করেছেন সন্দীপ বাবু। সৌরভ দাসের নামে বলেন, “যে ও একটা বিশাল বড় নাম করা ব্যক্তি।”
রণিতা সম্পর্কে বলেন, “শুনুন ওর নামে আমি বেশি কিছু জানি না তবে বহু বছর আগে একটা কি সিরিয়াল করত ‘বাহামণি’ নাকি সেটা অবশ্য এখনই শুনেছি! ওর সম্পর্কে আমি কিছু জানি না তাই মন্তব্য করতে পারব না।”
আর মনামীর ব্যাপারে বলেন, “মনামী তো অনেক সিনিয়র আর্টিস্ট। আমার মেয়ে তো অলরেডি ওখানে বলেছে। মনামীদি যে লেভেলের আর্টিস্ট বা যে লেভেলের ওনার সম্মান, আমি যদি ওইটা মাথায় নিয়ে বিগ বসে ঢুকি তাহলে তুমি খেলতেই পারব না। এই জন্যে আমাকে মনামী দিদির সাথেও বাকবিতণ্ডা করতে হচ্ছে। ও খুবই মিষ্টি একটা মেয়ে, আর খুব ভালো।”
তনুশ্রীর ব্যাপারে বলেন, “তনুশ্রী তো প্রথম থেকেই খুব ইয়ে করে খেলছিল। মাঝখানে একটু ডাউন হয়েছিল তো আবার কালকে যখন সেফ হয়ে গেছে তো আমার মনে হয় ও এগোবে।”
নিরঞ্জনের ব্যাপারে বলেন, “প্রথমে ও ডাল ছিল। স্বাভাবিক যারা ওকে ফলো করে, যারা ওকে ভালোবাসে, তারা ওর থেকে যেটা এক্সপেক্ট করছিল, সেটা পাচ্ছিল না। তারপরে দাদার ধমক খেয়ে নিরঞ্জন এখন ভালো খেলছে।” দুর্নিবার সম্পর্কে মন্তব্য করেন, “দুর্নিবারের কথা কি বলব? ওর খেলাটা আমি বুঝতেই পারছি না। ওকে, সবাই বলছে মাস্টারমাইন্ড, আবার কেউ বলছে ও ঘুমিয়ে থাকে, কিছুই করে না। সবথেকে যেটা দুর্নিবার আমার ভালো লাগে, ওর গান, ওর গানের গলা! একটা গান একদিন গেয়েছিল যেটা মেইন এপিসোডে দেখায়নি, কোণায় একা একা বসে ছিল, সঙ্গে কেউ ছিল না ওই গানটা আমার খুব প্রিয় গান ‘জুড়াইতে চাই কোথায় জুড়াই।”
সবথেকে আকর্ষণীয় এবং নজরকাড়া মন্তব্যটি এসেছে জিতুর প্রসঙ্গ উঠলে। জিতুর চরিত্র ও আচরণ সম্পর্কে সন্দীপ দত্তের বক্তব্য, “আনপ্রেডিক্টেবল! কখন কি করবে কেউ জানে না! কখনও দেখা যাচ্ছে সাধু, আবার কখনও দেখা যাচ্ছে ভন্ড। কি বলব? এখন তো প্রেডিক্টই করতে পারছি না। কারণ রুদ্রাক্ষের মালা যে জপ করবে, এক ঘন্টা ধরে মেডিটেশন করবে, তার এরকম অ্যাঙ্গার ইস্যু! আসতেই পারে না। আমি নিজে বলছি আমার একসময় নিজের খুব ডিপ্রেশনের মধ্যে ছিলাম। আমিও আধ্যাত্মবাদের পড়াশোনা করেছি। ও এখন যেগুলো, যেগুলো করছে আমি সেগুলোই করেছি। তখন আমি বুঝতে পারলাম যে না, হাতে জপের মালা নিয়ে আমি সবকিছু করতে পারব না।”
‘বিগ বস বাংলা’র এই সিজনে প্রতিযোগীদের খেলা এবং তাদের বাইরে থাকা অভিভাবকদের পর্যবেক্ষণ যে শোয়ের উত্তাপ আরও বাড়িয়ে দিয়েছে, তা বলাইবাহুল্য। এখন দেখার, সৌরভের এই চরম সতর্কবার্তার পর নন্দিনী ও রাজবীর নিজেদের খেলায় কতটা বদল আনেন!